kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

ব্যাটিং ব্যর্থতায় খালেদের অর্জন

তামিম ইকবাল একা নন, দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান যেভাবে আউট হয়েছেন, সেটিও অনুমোদনযোগ্য নয়। প্রথম ইনিংসে একই শট খেলতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে এনেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। দলের জ্যেষ্ঠতম দুই ক্রিকেটারের ভুলের জালে জড়াজড়ি করে থাকার দিনে হাত তুলে দাঁড়াতে পারেননি অন্য কেউও। তামিমের উদ্বোধনী সঙ্গী মাহমুদুল হাসান বোল্ড হয়েছে ব্যাট-প্যাডের মাঝে ফাঁক রেখে, যা তাঁর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাটিং ব্যর্থতায় খালেদের অর্জন

৩১.৩ ওভারে ১০৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট খালেদ আহমেদের। ক্যারিয়ারের নবম টেস্টে এসে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টেস্ট ইনিংসে পাঁচ উইকেট যেকোনো বোলারের জন্যই বিশেষ কিছু। বাংলাদেশের পেস বোলারদের জন্য এ তো মহার্ঘ। কিন্তু সেন্ট লুসিয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে এই অর্জনের পরও মন খুলে হাসতে পারছেন না বাংলাদেশের তরুণ এই পেসার। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় খালেদের দল যে হারের খাদের কিনারায়।

বিজ্ঞাপন

ক্যারিয়ারের নবম টেস্টে এসে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন খালেদ। তবে নিজের চতুর্থ টেস্টেই এই সাফল্য পেতে পারতেন তিনি। ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়েছিলেন খালেদ। সেন্ট লুসিয়ায় তাঁর পাঁচ শিকার—রেমন রেইফার, এনক্রুমা বোনার, কাইল মেয়ার্স, আলজারি জোসেফ ও জেইডেন সিলস। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর মধ্যে সেঞ্চুরিয়ান মেয়ার্সের উইকেটটিই সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে খালেদকে, ‘মেয়ার্সের উইকেটটা ছিল অনেক কষ্টের ফল। গতকাল (পরশু) থেকে চেষ্টা করছিলাম ওকে আউট করার। আজকে (গতকাল) ওকে আমার স্লোয়ার বলে পরাস্ত করেছি। এটা নিজের কাছেই ভালো লাগছে যে ওকে আমি পরিকল্পনা করে আউট করতে পেরেছি। ’

এই পরিকল্পনার ছাপটাই ছিল না বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ে। প্রথম ইনিংসে যে ভুলের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন, দ্বিতীয়বারেও সেটি থেকে কাউকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়নি। ১৭৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার ক্ষেত্রে যে স্থিরতা প্রত্যাশিত, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি তামিম ইকবালদের মধ্যে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে কেমার রোচের অফস্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে কী কারণে চালাতে গেছেন, সেটি তামিম নিজেই ভালো বলতে পারবেন। ম্যাচ পরিস্থিতিতে এমন অকারণ শটের ব্যাখ্যা তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে থাকার কথাও নয়।

অবশ্য তামিম একা নন, দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান যেভাবে আউট হয়েছেন, সেটিও অনুমোদনযোগ্য নয়। প্রথম ইনিংসে একই শট খেলতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে এনেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। অনুসারীরা বলতে পারেন, এভাবেই এত দিন রান করে এসেছেন সাকিব কিংবা তামিম। কিন্তু ম্যাচ পরিস্থিতি বলে একটা ব্যাপার আছে। পরশু সেই পরিস্থিতির দাবি ছিল সময়ক্ষেপণ, রান করা নয়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, অতি সাধারণ এই ক্রিকেটজ্ঞান সাকিব কিংবা তামিমের নেই, মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

দলের জ্যেষ্ঠতম দুই ক্রিকেটারের ভুলের জালে জড়াজড়ি করে থাকার দিনে হাত তুলে দাঁড়াতে পারেননি অন্য কেউও। তামিমের উদ্বোধনী সঙ্গী মাহমুদুল হাসান বোল্ড হয়েছে ব্যাট-প্যাডের মাঝে ফাঁক রেখে, যা তাঁর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। অনেকটা সময় লড়াই করে যাওয়া নাজমুল হোসেনকে ঘিরে যখন আশার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখন তিনিও আলজারি জোসেপের করা অফস্টাম্পের বাইরের বল চালিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে পুরনো দুর্বলতা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

নাজমুলের বিদায়ের আগেই অবশ্য দলকে চাপে ফেলে গেছে এনামুল হক ও লিটন দাসের বিদায়। তৃতীয় দিনে পতন ঘটা বাংলাদেশের ছয় উইকেটের মধ্যে একমাত্র এনামুলের উইকেটটি নিজের দক্ষতায় তুলে নিয়েছেন রোচ। ভেতরে ঢোকা বলে বাংলাদেশি ব্যাটারকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন এদিন ২৫০ টেস্ট উইকেটের ল্যান্ডমার্ক পার হওয়া এই ক্যারিবীয় পেসার। এ বছর টেস্টে হাজার রান করে ফেলা লিটন দাস ফ্রন্টফুটে যাওয়া নিয়ে সংশয়মুক্ত হওয়ার আগেই সিলসের বল আঘাত হানে তাঁর প্যাডে। আম্পায়ার আবেদনে সাড়া না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয়েছে স্বাগতিকরা। এরপর নাজমুল ও সাকিবের মধ্যকার ৪৭ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি সামান্য আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু এই দুজনই ভুল পথে হেঁটে সাজঘরে ফেরায় ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর লড়াইয়ে নেমে পড়েছে বাংলাদেশ দল। নিখাদ টেলএন্ডারদের নিয়ে নুরুল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাকি ৪২ রান তুলতে পারবেন কি না, সেটিই দেখার। অবশ্য তৃতীয় দিনে তিন দফা আর গতকাল ম্যাচের চতুর্থ দিনের শুরুতে বৃষ্টি হানা না দিলে এতক্ষণে সেটিও জানা হয়ে যেত।



সাতদিনের সেরা