kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

আবারও সেই বন্ধ দুয়ারই দেখালেন ডমিঙ্গো

মাসখানেক আগে ঢাকায় বলে যাওয়া কথারই পুনরাবৃত্তি এবার সেন্ট লুসিয়ায়। ডমিঙ্গোর অভিযোগের তীর খুঁজে নিয়েছে আগের সব নিশানাই। একাধারে সেগুলো বাংলাদেশের টেস্ট সংস্কৃতির বন্ধ দুয়ার, ব্যাটারদের ক্রমাগত লম্বা ইনিংস খেলতে না পারার অক্ষমতা এবং এক পর্যায়ে ভালো বোলিং করার পরও বোলারদের লাইনচ্যুত হওয়া।

২৭ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবারও সেই বন্ধ দুয়ারই দেখালেন ডমিঙ্গো

মেহেদীর উল্লাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নতুন করে বললেও রাসেল ডমিঙ্গোর ক্ষোভ-আক্ষেপ-হতাশা পুরনোই। মাসখানেক আগে ঢাকায় বলে যাওয়া কথারই পুনরাবৃত্তি এবার সেন্ট লুসিয়ায়। তাঁর অভিযোগের তীর খুঁজে নিয়েছে আগের সব নিশানাই। একাধারে সেগুলো বাংলাদেশের টেস্ট সংস্কৃতির বন্ধ দুয়ার, ব্যাটারদের ক্রমাগত লম্বা ইনিংস খেলতে না পারার অক্ষমতা এবং এক পর্যায়ে ভালো বোলিং করার পরও বোলারদের লাইনচ্যুত হওয়া।

বিজ্ঞাপন

একটু মিলিয়ে দেখা যাক। চট্টগ্রামে ড্র করে আসার পর মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটের হারে টেস্ট সিরিজ খোয়ানোর পর গত ২৭ মে ডমিঙ্গোর কণ্ঠে এ রকম অসন্তোষই শোনা গিয়েছিল বোলারদের নিয়ে, ‘কোচ হিসেবে আমার ক্যারিয়ারে আমি কখনোই মিড উইকেট আর ফাইন লেগের মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে এত রান হতে দেখিনি। তার মানে ওরা (বোলাররা) অবাধে রান করার মতো প্রচুর সহজ বল করে গেছে। আর যা-ই হোক, এটিকে আমার ৫০০ রান (শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস ৫০৬) হওয়ার মতো উইকেট বলে মনে হয়নি। দ্বিতীয় দিনের শেষের দিকে আমরা মোটেও ভালো বোলিং করিনি। এ জন্যই আমরা ওদের চাপেও ফেলতে পারিনি। এই ছোট ব্যাপারগুলোই ম্যাচ বদলে দিয়েছে। ’

সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় দিন বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরা গেলেও সেই চাপ অব্যাহত রাখা যায়নি। প্রথম সেশনে ৪ উইকেট তুলে নেওয়া বাংলাদেশ পরে হারায় নিয়ন্ত্রণ। তাতে বোলারদেরই দায় দেখলেন দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ, ‘টানা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ওদেরকে আমরা চাপে রাখতে পারিনি। যেটি পেরেছিলাম প্রথম সেশনে। ভীষণ হতাশার বিষয় যে উইকেটের জন্য বোলিং করতে গিয়ে ওরা আলগা বল করেছে। যখন ওভার দ্য উইকেট বল করার কথা, তখন রাউন্ড দ্য উইকেটে করেছে। যথেষ্ট পরিমাণে ধৈর্য না ধরে মৌলিক কিছু ভুল ওরা করেছে। ’ 

ঢাকায় লঙ্কানদের ৫০০ ছাড়ানো স্কোর যেমন মেনে নিতে পারেননি, তেমনি মানতে পারছেন না সেন্ট লুসিয়ায় প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের ২৩৪ রানে অল আউট হওয়াও, ‘এই মুহূর্তে ব্যাটিং আর বোলিং নিয়ে গুরুতর কিছু প্রশ্ন আছে আমাদের। কারণ এটি কোনোভাবেই আড়াই শ রানের উইকেট নয়। শেষের ওই ৩০ রানের জুটি না হলে তো ১৯০ রানেই শেষ হয়ে যেতাম আমরা। কেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমাদের চেয়ে এগিয়ে, সেটি যখন ওরা দেখিয়ে দিচ্ছে, তখন ব্যাটিংয়ে আমাদের ভালো পারফরম্যান্সই নেই। ওদের একজন (কাইল মেয়ার্স) সেঞ্চুরি করেছে বলে বড় স্কোরও হয়েছে। ব্যাটিংয়ে ওদের ব্যাটাররা জুটি গড়ে লম্বা সময় উইকেটে থেকেছে। ’

মেয়ার্সকে দেখে শেখার তাগিদও নিজ দলের ব্যাটারদের দিলেন ডমিঙ্গো, ‘মেয়ার্সের মতো ১২০ রানের ইনিংস খেলতে হবে আমাদের কারো। গত বছর ওরা চট্টগ্রামে ৪০০ রান তাড়া করে জেতার সময় মেয়ার্স ডাবল সেঞ্চুরি করেছিল। আমাদের কেউ এখন তেমন বড় ইনিংস খেলতে পারছে না। মেয়ার্সকে দেখে শিক্ষা নিতে হবে। এ রকম ভালো ব্যাটিং করতে না পারলে ভালো দলগুলো শাস্তি দেবে এবং আমাদের এখন পেতে হচ্ছে সেই শাস্তিই। ’ এক মাস আগে মিরপুরেও শাস্তি জুটেছিল বাংলাদেশের কপালে। ওই পরিণতির জন্য দেশের মাটিতে বাজে উইকেটে খেলার চর্চাকে দায়ী করেছিলেন হেড কোচ। তাই মিরপুরে হুট করে ভালো উইকেটে খেলতে গিয়ে আর মানিয়ে নিতে পারেননি খেলোয়াড়রা। এবার অ্যান্টিগার পর সেন্ট লুসিয়ায়ও বিপর্যয়ের পর প্রতিকারের কথা না বলে বরং বাংলাদেশের টেস্ট সংস্কৃতির দিকেই আঙুল তুললেন তিনি, ‘টেস্ট ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দীর্ঘ ইতিহাস ও সংস্কৃতি আছে। ’৮০ ও ’৯০-এর দশকে ওরা টেস্টে বিশ্বের সেরা দল ছিল। তারা তাই জানে, টেস্ট কিভাবে খেলতে হয়। ওদের আইকনিক অনেক ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা টেস্টে ভালো করেছেন। আমাদের টেস্ট ম্যাচ সংস্কৃতি এখনো সেখানে নেই, যেখানে থাকা উচিত ছিল। ’



সাতদিনের সেরা