kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

মেয়েদের চোখ-ধাঁধানো ফুটবলে উড়ে গেল মালয়েশিয়া

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেয়েদের চোখ-ধাঁধানো ফুটবলে উড়ে গেল মালয়েশিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শুরুর কয়েক মিনিট খেলা দেখেই চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার উপক্রম। ঘোর লেগে যায় বাংলাদেশের মেয়েদের খেলায়। সঙ্গে খানিকটা সংশয়ও—প্রতিপক্ষ কি আসলে মালয়েশিয়া! তারাই নাকি র‌্যাংকিংয়ে ৬১ ধাপ এগিয়ে, তাদের কাছে বছর চারেক আগে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই মালয়েশিয়াকে নিয়ে কাল ছেলেখেলা করেছেন আঁখি-সাবিনা-মনিকারা।

বিজ্ঞাপন

ফিফা প্রীতি ম্যাচে তাদের নাকানিচুবানি খাইয়ে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।    

বাংলাদেশের ছেলেদের ফুটবলে গোল যখন সোনার হরিণ, তখন সাবিনা-মনিকারা গোলের মালা গাঁথেন। এই মালায় কার গোলটি কত সুন্দর, সে নিয়েই হয় বিচার-বিশ্লেষণ। প্রত্যেকের পায়েই যেন গোলের সামর্থ্য আছে। এই দেখে মালয়েশিয়ার মেয়েদেরও ভড়কে যাওয়ার কথা। কয়েক দিন আগে ছেলেদের ফুটবলে মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হেরে ফিরেছে বাংলাদেশ। ছেলেদের পায়ে ফুটবলের অমন দুদর্শা দেখার পর মালয়েশিয়ার মেয়েরাও বড় আশা নিয়ে এসেছিলেন ঢাকায়। তাঁদের আশায় জল ঢেলে দিয়ে বাংলাদেশের মেয়ে দল গোলের মিছিল করেছে কমলাপুর স্টেডিয়ামে। গোলের সুযোগ দিয়ে বিচার করলে স্কোরলাইন ৬-০ গোলেরও বড় হতে পারত। দিতে পারত প্রতিপক্ষের জনপ্রতি এক গোল করে। সেটা হয়নি বলে আক্ষেপ নেই, বাংলাদেশের সিনিয়র দলে দর্প চূর্ণ হয়েছে মালয়েশিয়ার। বয়সভিত্তিক দলের ভালো খেলার ভালো খেলার সুরভি লেগেছে সিনিয়র দলেও। তাদের হাতেও উড়তে পারে বাঙালি ফুটবলের বিজয়কেতন।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে স্বাগতিক মেয়েদের সে কী দাপট। গোল হয় যখন-তখন। তৃতীয় মিনিটে সহজ সুযোগটি নষ্ট হয় সাবিনার পায়ে, সানজিদার ক্রসটি মারেন বার উঁচিয়ে। এ রকম কয়েকটি আক্রমণ বিফলে যাওয়ার পর ৯ মিনিটে তাঁরা লক্ষ্যভেদ করেন। মারিয়া মান্ডার কর্নার কিকটি গোলরক্ষক আজুরিন মাজলান ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে গোললাইন থেকে জালে ঠেলে দেন আঁখি খাতুন। মিনিট তিনেক বাদেই সানজিদা বক্সের ভেতর থেকে উড়িয়ে মেরে নষ্ট করেন আরেকটি সুযোগ।  

পুরো ম্যাচে স্বাগতিকদের এমনই আধিপত্য দু-এক মিনিট পরপরই সুযোগ তৈরি করেছে তারা। আর সুযোগ নষ্টের ফাঁকে ফাঁকে করেছে গোল। তবে ২৬ মিনিটে সাবিনার গোলটি হয়েছে বিশ্বমানের। স্বপ্না ডান দিক থেকে কোনাকুনি বাড়িয়েছেন বলটা। ব্যাকলাইন লাইন থেকে দৌড়ে গিয়ে সাবিনা প্রথম টাচেই পরাস্ত করেন আগুয়ান গোলরক্ষককে, এরপর ফাঁকা পোস্টে পাঠিয়ে দিয়ে দলকে এগিয়ে নেন ২-০ গোলে। একটু বাদেই আরেকটি কর্নার কিকে তৃতীয় গোলের ঘনঘটা। শট কর্নারটি সাবিনার পা ঘুরে পড়ে বক্সে, আঁখির প্লেসিং শট জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়।

৩৬ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে হানা দিয়েও মালয়েশিয়া তেমন কিছুই করতে পারেনি। আসলে স্বাগতিকদের পরিকল্পিত ফুটবলের বিপক্ষে তাদের দাপট দেখানোর সামর্থ্য নেই। সারাক্ষণই বল ঘুরেছে মালয়েশিয়ার অর্ধে। ৪২ মিনিটে সাবিনার শট ফেরে ক্রসবার কাঁপিয়ে; কিন্তু বিরতিতে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশ অধিনায়কের বানিয়ে দেওয়া বলে স্বপ্না লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান নিয়ে যান ৪-০ গোলে। এখানেই ম্যাচ আসলে শেষ। দ্বিতীয়ার্ধে গোলাম রব্বানি ছোটন তাঁর বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করেছেন বদলি নামিয়ে।  

তাতেও আধিপত্যে কোনো ঘাটতি হয়নি। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রেখে আদায় করে নিয়েছেন আরো দুই গোল। মাঝমাঠে যিনি খেলা তৈরি করেন সেই মনিকা চাকমার দু-দুটি শট ব্লক হওয়ার পর তৃতীয় শট ঠিকই জালে পৌঁছে যায়। ৭৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার ক্রসে কৃষ্ণার হেডও পৌঁছে যায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-০! অর্ধ ডজন গোলের পরও যেন গোলতৃষ্ণা মেটেনি মেয়েদের। আগের মতোই আক্রমণের ঝাপ্টা ধরে রাখে প্রতিপক্ষের ওপর। সত্যি মালয়েশিয়া একটা বড় ধাক্কা খেয়েছে সিরিজের প্রথম ম্যাচে!



সাতদিনের সেরা