kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

সেন্ট লুসিয়ায় নতুন করে সেই পুরনো চ্যালেঞ্জই

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেন্ট লুসিয়ায় নতুন করে সেই পুরনো চ্যালেঞ্জই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : একই মাঠে ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রুখে দিয়ে বীরত্বপূর্ণ ড্রয়ের স্মৃতি আছে। তবে তখনকার বোশেজো স্টেডিয়াম নাম বদলে ড্যারেন সামি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরিত হতে হতে সেই গৌরব রীতিমতো ধুলায় লুটিয়েছে। ২০০৪ সালের সেন্ট লুসিয়া টেস্ট হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ রফিক ও খালেদ মাসুদদের সেঞ্চুরির স্মৃতিধন্য হলেও ১৮ বছর পর সেখানে আরেকটি ম্যাচ ব্যাটিংয়ের সৌরভ ছড়িয়ে শুরু করতে পারছে না বাংলাদেশ। অ্যান্টিগায় দুই ইনিংসেই টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় বিধ্বস্ত দল আরেকবার ভীতিকর সেই অভিজ্ঞতা এড়াতে পারলেই যেন খুশি!

তার ওপর দূর অতীত গৌরবের মায়াঞ্জন বুলিয়ে দিলেও নিকট অতীত আবার ব্যর্থতাই মনে করিয়ে দিচ্ছে বেশি।

বিজ্ঞাপন

সেন্ট লুসিয়ায় বাংলাদেশ শেষবার খেলেছে ২০১৪ সালে। সেবারও ২৯৬ রানে হারের লজ্জায় মুখ লুকাতে হয়েছিল। ২০১৮ সালে পরের সফরেও দুই টেস্টের সিরিজে নাস্তানাবুদ দল এবার সেন্ট লুসিয়ায় ফেরার আগেও অনুপ্রেরণাদায়ক কোনো পারফরম্যান্সের স্মৃতি নিয়ে যেতে পারেনি। তাই সিরিজে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের জন্য থাকছে সেই একই চ্যালেঞ্জ, সাম্প্রতিক সময়ে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে যা তারা উতরে যেতে পারেনি কখনোই।

নতুন করে ব্যাটিং সাফল্যের পুরনো চ্যালেঞ্জ যখন সামনে, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজও প্রস্তুত সফরকারীদের আরেকবার অসহায় আত্মসমর্পণে বাধ্য করাতে। অ্যান্টিগায় কেমার রোচের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় পেস আক্রমণে ঝলসে ওঠা যতটা না কৃতিত্বপূর্ণ, এর চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতাও। দুয়ে মিলে চতুর্থ দিনের সকালে ২৭ মিনিটেই শেষ অ্যান্টিগা টেস্ট। সেই দুঃস্মৃতির পিছুটান উপেক্ষা করে খেলতে নামারও লক্ষ্য থাকার কথা সাকিব আল হাসানের দলের।

যদিও অ্যান্টিগা টেস্ট থেকেও নেওয়ার মতো ইতিবাচক ব্যাপার আছে বাংলাদেশের। সেটি ক্যারিবীয় ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক ডেসমন্ড হেইন্সের কথা শুনলেই দিব্যি বুঝে যাওয়ার কথা। সহজ জয়ের পরও সফরকারীদের ‘সহজ শিকার’ বলে ধরে নেওয়ার পক্ষপাতী এই কিংবদন্তি নন এ কারণেই, ‘বাংলাদেশকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগই নেই। কারণ ওরা (অ্যান্টিগায়) দুর্দান্ত বোলিং করেছে। ওদের বোলিংটা বেশ সুশৃঙ্খল ছিল। ’ কিন্তু বিশৃঙ্খল ব্যাটিংয়ে বিসর্জনে গেছে বোলারদের হৃদয় উজাড় করা বোলিং।

আরেকবার এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সেন্ট লুসিয়া টেস্টের একাদশেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে নিশ্চিতভাবেই। সামনে টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে সিরিজের ধকল থাকায় মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দিয়ে তৃতীয় পেসার হিসেবে শরীফুল ইসলামের খেলা তো একরকম নিশ্চিত হয়েই আছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত আট বছর পর এনামুল হক বিজয়ের টেস্ট একাদশে প্রত্যাবর্তনও। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও ঢাকায় সাদা বলের অনুশীলনে মজে থাকতে দেখা গেছে তাঁকে। তা-ই থাকার কথা। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাদা বলের ক্রিকেট খেলার জন্যই তাঁকে রাখা হয়েছিল দলে। সেটি সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) রানের বন্যা বইয়ে দেওয়ার জন্যই। তবে সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মৌসুমে তাঁর ব্যাটে রানের সেই ধারা ছিল না। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে তেমন কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই এনামুলের টেস্ট দলে ঢুকে গিয়ে একাদশেও জায়গা পেয়ে যাওয়ার নেপথ্যে দলের ঢালাও ব্যাটিং ব্যর্থতাই। তবে তিনি কার জায়গায় খেলবেন, নিশ্চিত নন এখনো। নাজমুল হোসেন শান্ত অথবা মমিনুল হকের একজনকে তাঁর জন্য ছেড়ে দিতে হবে জায়গা। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া এনামুলকে বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় বলতে শোনা গেল, ‘আট বছর পর টেস্টে ডাক পেয়েছি। আমার জন্য এটি বড় সুযোগ। আমি যে আসলেই টেস্ট পছন্দ করি, তা দেখানোর বড় সুযোগও এটি। সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করব, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এত দিন ধরে যা অনুসরণ করে এসেছি। নতুন করে কিছু বদলাতে চাই না। ’

নতুন করে বাংলাদেশের সামনে আসা পুরনো চ্যালেঞ্জে উতরাতে প্রক্রিয়া অনুসরণই সবচেয়ে জরুরি, যা ব্যাটাররা অনুসরণ করছেন না বলেই বারবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে ভরাডুবি হচ্ছে টেস্টে!



সাতদিনের সেরা