kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

রোমাঞ্চকর দ্বৈরথে আবাহনীর জয়

মোহামেডান ২ : ৪ আবাহনী

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোমাঞ্চকর দ্বৈরথে আবাহনীর জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অনেক দিন পর রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ। প্রথমার্ধে ছয় গোলের রোমাঞ্চকর ফুটবলের পর দুই পক্ষ খেলেছে সতর্ক হয়ে। তবে শেষ ১০ মিনিটে সাদা-কালোর চাপে নাকাল হওয়া ১০ জনের আকাশি-নীলরা শেষমেশ ৪-২ ব্যবধানে কুমিল্লা জয় করেছে। এই জয়ে ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী আছে দ্বিতীয় স্থানে।

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ দল বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে ৬ পয়েন্টে।

ইদানীং আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায় না আগের উত্তেজনা। থাকে না আগুনে লড়াইয়ের উত্তাপ। তবে কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে কাল এই লড়াইটি ফুটবল রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। অথচ শুরুটা দেখে মনে হয়েছিল সেই ম্যাড়মেড়ে ম্যাচই হবে। একচ্ছত্র আধিপত্য করবে আবাহনী। ১০ মিনিটে কলিনদ্রেস ও ডরিয়েলটন ম্যাজিকে আবাহনী এগিয়ে যাওয়ার পর মোহামেডানও যে ফণা তুলতে পারবে, সেটা অনেকে ভাবেনি। এই মোহামেডান খর্ব শক্তির দল। দীর্ঘদিনের সঙ্গী অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেনের বিদায়ে অবস্থা আরো নাজুক বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নতুন কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের তত্ত্বাবধানে তারাও পাল্টা জবাব দিয়েছে আবাহনীকে। দুটো গোলই দারুণ। তবে এর মধ্যে আবাহনীর রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেওয়া তরুণ শাহরিয়ার ইমনের গোলটি স্মৃতিতে রয়ে যাবে অনেক দিন। বিদেশির আধিপত্যে কোনো দেশি ফরোয়ার্ডের পায়ে এত সুন্দর গোল দেখা যায় না সচরাচর।

দক্ষ বিদেশিদের নিয়ে সবল আবাহনী তৃতীয় কর্নার কিকেই এগিয়ে যায় ড্যানিয়েল কলিনদ্রেসের অলিম্পিক গোলে। আট মিনিটে কোস্টারিকান বিশ্বকাপারের কর্নার কিকটি বাঁক খেয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় দূরের পোস্টে। এমন গোল কলিনদ্রেসকেই মানায়, আর তাতেই হতভম্ব মোহামেডান। সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগে খেয়ে বসে আরেক গোল! ১০ মিনিটের মাথায় নুরুল নাইমের থ্রু বল ধরে দুই মার্কারকে পেছনে ফেলে লক্ষ্যভেদ করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তাঁর আরেক গোল হতে পারত মিনিট তিনেক বাদে। রাকিবের কাটব্যাকের ওপর ডরিয়েলটনের জোরালো শট ফিরে আসে গোলপোস্ট কাঁপিয়ে।

আকাশি-নীলের এমন দোর্দণ্ড প্রতাপের মধ্যে হঠাৎ জেগে ওঠে সাদা-কালোরা। ১৮ মিনিটে আলমগীর মোল্লার ক্রসে সুলেমান দিয়াবাতের চমৎকার ভলি গোলরক্ষক শহীদুল আলমকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে বিশ্বাস ফিরে পায় মোহামেডান। তবে গোল খাওয়ার অভ্যাসটা যে ছাড়তে পারেনি মোহামেডান! চোট পাওয়া রাফায়েল আগুস্তোর বদলি হয়ে নেমে আবাহনীর ইমন বাবু প্রথম ছোঁয়াতেই গোল পেয়ে যান ৪৩ মিনিটে। কলিনদ্রেসের শট সুজন ফেরালেও ফিরতি বলে তিনি লক্ষ্যভেদ করলে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। এর পরও মোহামেডান দমেনি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে শাহরিয়ার ইমন করেন দুর্দান্ত গোলটি। ডান দিক দিয়ে আড়াআড়ি ঢুকে তিনি বডিডজে সুশান্ত ও মিলাদ শেখকে টলিয়ে দিয়ে পরাস্ত করেন আবাহনীর গোলরক্ষককে। অমন দৃষ্টিনন্দন গোলের রেশ না কাটতেই আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান গোলমেশিন ডরিয়েলটনের দ্বিতীয় গোলে আবাহনী ৪-২ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায়।

বিরতি থেকে ফিরে দুই দলই রক্ষণে মনোযোগী হয়। এর পরও ৫৯ মিনিটে কলিনদ্রেসের একটি শট রুখেছেন মোহামেডানের বদলি গোলরক্ষক আহসান হাবিব। ৮০ মিনিটে বিপজ্জনক ফাউল করে রেজাউল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর মোহামেডান চেপে বসে আবাহনীর ঘাড়ে। একবার বল জালেও পাঠিয়েছিল মোহামেডান। কিন্তু অফসাইডের ঝাণ্ডায় তা বাতিল হয়ে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে আকাশি-নীলরা। আর মোহামেডান ফেরে হারা ম্যাচেও পাওয়া কিছু ইতিবাচকতা নিয়ে।



সাতদিনের সেরা