kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

অভিযোগ থাকলেও বদলেছে অভিযুক্ত

ব্যর্থতায় অভিযোগের তীর দিগ্বিদিক ছোটার রেওয়াজ বাংলাদেশে আছেই। মিরপুর টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটের হারে সিরিজ খোয়ানোর পরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটকে আর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে না। কারণ অভিযোগ থাকলেও ‘অভিযুক্ত’ই যে বদলে গেছে!

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিযোগ থাকলেও বদলেছে অভিযুক্ত

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ব্যর্থতায় অভিযোগের তীর দিগ্বিদিক ছোটার রেওয়াজ বাংলাদেশে আছেই। মিরপুর টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটের হারে সিরিজ খোয়ানোর পরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটকে আর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে না। কারণ অভিযোগ থাকলেও ‘অভিযুক্ত’ই যে বদলে গেছে!

এমনিতেও এই মাঠের উইকেটের রাজ্যের দুর্নাম।

বিজ্ঞাপন

ধীরগতির অসমান বাউন্সের উইকেটে হুটহাট বল নিচু হওয়াটা এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটারদেরও কম বিপদে ফেলেনি। সুবাদে বিপর্যয়ের ঢল নামলেই সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উইকেটের দিকে আঙুল তাক করা যেত। স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়রাও এর সুযোগ নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতায় ঢাল খুঁজতে চাইতেন। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার এর আগের বাংলাদেশ সফরেও দেখা গেছে সেই চিত্র। নিজেদের বিপর্যয়ের জন্য মিরপুরের লঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে নিয়েও সেবার সরব হয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে এবার সেই সুযোগ নেই।

দুই দলের ৩৬৫ ও ৫০৬ রানের প্রথম ইনিংসের পর উইকেট মোটেও আর কেন্দ্রীয় চরিত্র নয়। হারের পর এখন অভিযুক্ত কারা, সেটি রাসেল ডমিঙ্গোর এই বক্তব্যেই পরিষ্কার হয়ে যাওয়া উচিত, ‘ব্যাটিং-বোলিং, দুটোর জন্যই দারুণ উইকেট ছিল এটি। একজন ফাস্ট বোলার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছে। সাকিবও ৫ উইকেট নিয়েছে। উইকেট নিয়ে অভিযোগ করার কোনো উপায়ই নেই তাই। এটি ছিল সেরকম উইকেট, যেখানে খেলে আপনি আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারেন। ’ প্রকারান্তরে নিজ দলের দক্ষতার জায়গা নিয়েও যেন প্রশ্নই তুললেন বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকান হেড কোচ।

সরাসরি অভিযোগও আছে তাঁর। সেটি ব্যাটারদের নিয়ে যেমন, তেমনি বোলারদের নিয়েও। দুই ইনিংসের শুরুতে যে অবস্থা ছিল, তাতে ম্যাচ জেতা অসম্ভব বলেই মনে করেন তিনি, ‘এক ইনিংসে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেই তো আরেক ইনিংসে ২৩ রানে হারিয়েছেন ৪ উইকেট। দুই ইনিংসেই এ রকম অবস্থা হলে আপনি টেস্ট জিতবেন না। আমাদের আসলে কিছু কিছু ব্যাপার বদলাতে হবে। গত ছয়-আট মাসে এ রকম ঘটনা বহুবারই ঘটল। ’ বোলারদের নিয়েও বলতে ছাড়লেন না এই প্রোটিয়া কোচ, ‘কোচ হিসেবে আমার ক্যারিয়ারে আমি কখনোই মিড উইকেট আর ফাইন লেগের মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে এত রান হতে দেখিনি। তার মানে ওরা (বোলাররা) অবাধে রান করার মতো প্রচুর সহজ বল করে গেছে। আর যা-ই হোক, এটিকে আমার ৫০০ রান হওয়ার মতো উইকেট মনে হয়নি। দ্বিতীয় দিনের শেষের দিকে আমরা মোটেও ভালো বোলিং করিনি। এ জন্যই আমরা ওদের (শ্রীলঙ্কা) চাপেও ফেলতে পারিনি। এই ছোট ব্যাপারগুলোই ম্যাচ বদলে দিয়েছে। ’

অবশ্য বোলারদের জন্য কিছুটা ‘লাইফলাইন’ও রেখেছেন ডমিঙ্গো, ‘নিউজিল্যান্ডে আমরা টেস্ট জিতেছিলাম এবাদত, শরীফুল, তাসকিন ও মিরাজকে নিয়ে। আর এই টেস্টে আমরা পেয়েছি শুধু এবাদতকে। এখানে একেবারেই নতুন বোলিং আক্রমণ নিয়ে নেমেছি আমরা। তার পরও আমাদের যেমন বোলিং করা দরকার ছিল, আমরা তা করতে পারিনি। ’ স্বাগতিক দলের বোলারদের দিকে যখন ছুটছে অভিযোগের তীর, তখন নিজ দলের বোলারদের বিশেষ করে পেসারদের প্রশংসায় ভাসালেন শ্রীলঙ্কার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নিরোশান ডিকভেলা, ‘গতবার আমরা যেমন উইকেটে খেলে গিয়েছিলাম, এবার তেমন নয়। আগেরবারের উইকেট ছিল স্পিনারদের জন্য, টার্ন পাওয়া যাচ্ছিল। এবার একেবারে ফ্ল্যাট উইকেটে খেললাম, যা ব্যাটারদের জন্য দারুণ। এ রকম উইকেটে আমাদের ফাস্ট বোলাররা ওদের পরিকল্পনা দারুণভাবে বাস্তবায়নও করেছে। দুই টেস্টেই উইকেটে স্পিনারদের জন্য কিছু ছিল না, কিন্তু পেসাররা ভালো করেছে। আমাদের ব্যাটাররাও বোলারদের কাজ সহজ করায় ভূমিকা রেখেছে। ’

প্রশ্ন এলো যে ঘরের মাঠে স্পিনসহায়ক উইকেট বানিয়ে জেতার পুরনো ফর্মুলায় ফিরে যাওয়া উচিত কি না। যে ফর্মুলা চন্দিকা হাতুরাসিংহে হেড কোচ থাকার সময় ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। ডমিঙ্গো অবশ্য একমত হলেন না, ‘এক ম্যাচের সিরিজ হলে এটা কাজে দিতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে টেস্ট দলের উন্নতিতে তা সহায়ক নয় কিছুতেই। আমাকে বলতেই হচ্ছে, ওই টেস্ট ম্যাচগুলো আমাদের উন্নতির পথে অন্তরায়ই ছিল। ওই রকম উইকেটেই যদি খেলে যাওয়ার চিন্তা থাকে, তাহলে দেশের বাইরে ভালো করার সুযোগই নেই। এই দুটো ম্যাচের উইকেট ভালো ছিল। তবু এখানে ভালো করতে না পারার কারণ আমাদের ক্রিকেটাররা বাজে উইকেটে খেলে একটু বেশিই অভ্যস্ত। ’

 



সাতদিনের সেরা