kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

লড়াকু দল আবিষ্কারের প্রত্যাশা কাবরেরার

কোচ হাভিয়ের কাবরেরা স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, ‘ওখানে আমি ম্যাজিক্যাল কিছু আশা করি না। আমাদের নিজেদের ওপর দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। র‌্যাংকিংয়ে ওপরের দিকে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করার জন্য প্রতিটি দিন, প্রতিটি ট্রেনিং সেশন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লড়াকু দল আবিষ্কারের প্রত্যাশা কাবরেরার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলার একটা সুবিধা আছে। কোচের কাছে জয়ের চাহিদাপত্র থাকে না। কোচেরও কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে হয় না। নির্ভার হাভিয়ের কাবরেরা শুধু একটি লড়াকু দল দেখতে চান।

বিজ্ঞাপন

২৩ জনের একটি দল নিয়ে তিনি গতকাল মধ্যরাতে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের জন্য রওনা হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পথে। ওখানে ১ জুন স্বাগতিকদের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলেই তারা যাবে মালয়েশিয়ায়। কুয়ালালামপুরে বুকিত জলিল স্টেডিয়ামে আগামী ৮ থেকে ১৪ জুন হবে এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাই।

এ উপলক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, ‘ওখানে আমি ম্যাজিক্যাল কিছু আশা করি না। আমি মনে করি, আমাদের নিজেদের ওপর দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। র‌্যাংকিংয়ে ওপরের দিকে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করার জন্য প্রতিটি দিন, প্রতিটি ট্রেনিং সেশন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ’ বাছাইয়ে ‘ই’ গ্রুপের প্রতিটি দলই র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। গ্রুপে বাহরাইন (৮৯), তুর্কমেনিস্তান (১৩৪) ও স্বাগতিক মালয়েশিয়ার (১৫৪) বিপক্ষে ১৮৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের বড় স্বপ্ন দেখার জায়গা নেই। তবে ১৬ মে থেকে ক্যাম্প শুরু করে আটটি ট্রেনিং সেশনে এই স্প্যানিশ কোচের নাকি অনেক ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে, ‘খেলোয়াড়দের নিবেদন ছিল ফ্যান্টাস্টিক। নতুন খেলোয়াড়দের কাছে আমাদের কিছু প্রত্যাশা ছিল, তার মেথডের সঙ্গে মানিয়ে পারে কি না। সেটা তারা পুরোপুরি পূরণ করেছে। যারা যাচ্ছে আর যারা যাচ্ছে না, তাদের সবাইকে বলেছি, তোমরা জাতীয় দলের। ’

জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে আগেই ছিটকে গেছেন গোলরক্ষক শহীদুল আলম ও উইঙ্গার সাদউদ্দিন। ক্যাম্পে দেরি করে যোগ দিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গ করার দায়ে বাদ আবাহনীর ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ। বসুন্ধরা কিংসের হয়ে এএফসি কাপ খেলে আসা চারজন গতকাল ছিটকে গেছেন চোটের কারণে। তাঁরা হলেন মতিন মিয়া, সুমন রেজা, মাশুক মিয়া ও তারিক কাজী। ২৩ জনকে নিয়ে কোচ যাচ্ছেন এএফসি এশিয়ান কাপের মিশনে। এই দলে নতুন মুখ শেখ জামালের গোলরক্ষক মোহাম্মদ নাঈম, বারিধারার মিডফিল্ডার পাপন সিং ও সাইফ স্পোর্টিংয়ের ফরোয়ার্ড সাজ্জাদ হোসেন।    

এই দল নিয়ে কোচের বড় কোনো প্রত্যাশা নেই, ‘পারফরম্যান্স নির্ভর করে মাঠে সব কিছু প্রয়োগের ওপর। বাছাইয়ে আমাদের ধাপে ধাপে চিন্তা করতে হবে, এখই কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করলে দলের জন্য ইতিবাচক হবে না। প্রথমত ভাবতে হবে ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচ নিয়ে, তাদের বিপক্ষে আমরা কেমন খেলি। এরপর আসবে বাছাই পর্বের ভাবনা। ’ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১ জুনের প্রস্তুতি ম্যাচ ও বাছাই পর্বে কাবরেরা একটি লড়াকু বাংলাদেশ দলকে দেখতে চান, ‘আমি দলের কাছ থেকে লড়াকু ফুটবল দেখতে চাই। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে মনোযোগ না থাকলে প্রতিপক্ষ আমাদের শাস্তি দেবে। আর লড়াই করতে পারলে ভালো কিছু হবে। নিজেদের প্রমাণ করার জন্য খেলোয়াড়দের সামনে এটা দারুণ সুযোগ। ’ 

লড়াকু দল তৈরি করতে গত ১০ দিন কাজ করেছেন এই স্প্যানিশ কোচ। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মুখে এই ১০ দিনের অভিজ্ঞতা হলো, ‘নতুন কোচ আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, কিভাবে খেলতে হবে। প্রেসিং, ডিফেন্ডিং ও অ্যাটাকিং নিয়ে ট্রেনিংয়ে অনেক কাজ হয়েছে। এখন আমরা সামনের দিকে আছি। ’ সামনে খুব কঠিন লড়াইয়ের মঞ্চ যেখানে কিছু অর্জন করতে গেলে লাগবে খেলোয়াড়দের টেকনিক ও ট্যাকটিকস।

২৩ সদস্যের দল : গোলরক্ষক : আনিসুর রহমান, আশরাফুল রানা, মোহাম্মদ নাঈম, ডিফেন্ডার : ইয়াসিন আরাফাত, বিশ্বনাথ, রিমন হোসেন, টুটুল হোসেন বাদশা, রায়হান হাসান, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান রাফি, ঈসা ফয়সাল, মিডফিল্ডার : সোহেল রানা, আতিকুর রহমান, বিপলু আহমেদ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, রাকিব হোসেন, মেরাজ হোসেন, জামাল ভূঁইয়া, পাপন সিংহ, ফরোয়ার্ড : জাফর ইকবাল, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সাজ্জাদ হোসেন ও মাহবুবুর রহমান।



সাতদিনের সেরা