kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

উল্টোভাবে চিন্তা করলে ভালো কিছু হতে পারে

বেশ লম্বা বিরতির পর সংবাদ সম্মেলনে হাজিরা দিলেন তিনি। এত দিন পর এসে প্রশ্নের পর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ায়ও ক্লান্তি এলো না বোধ হয় এ কারণেই, ‘অনেক দিন পর প্রশ্নের জবাব দিচ্ছি। মজাই লাগছে।’ জবাব দিতে দিতে সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ দলের সমস্যার গভীরেও ঢুকে পড়লেন। যেখানে তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠল খেলোয়াড়দের মানসিক সমস্যার দিকটিও। অন্যভাবে চিন্তা করলে যে ভালো ফলও মিলতে পারে, দেখালেন সে পথও। সেই প্রশ্নোত্তর পর্বেরই কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উল্টোভাবে চিন্তা করলে ভালো কিছু হতে পারে

সাম্প্রতিক অতীতে দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা অনেকবারই ব্যর্থ হয়েছি। ওই জায়গায় উন্নতির সুযোগ ছিল। আজকেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু এখনো যেহেতু (ম্যাচ) শেষ হয়ে যায়নি, শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত শেষ বলা ঠিক না।

ইদানীং যে সমস্যাটি হতে দেখছেন?

-এ রকম পরিস্থিতি টপ অর্ডার ব?্যাটারদের জন?্য কঠিন। ওই চাপটা আমরা সামলাতে পারিনি এবং শেষ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ দলে এই সমস্যাটি হচ্ছে। আমি যখন দলে ছিলাম না, তখনো এটি হয়েছে। আবার আমি আছি, এখনো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক অতীতে দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা অনেকবারই ব্যর্থ হয়েছি। ওই জায়গায় উন্নতির সুযোগ ছিল। আজকেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু এখনো যেহেতু (ম্যাচ) শেষ হয়ে যায়নি, শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত শেষ বলা ঠিক না।

আরেকজন বিশেষজ্ঞ অফস্পিনারের অনুপস্থিতি নিয়ে যা ভাবছেন?

-সমস্যা যেটি হয়েছে মিরাজের ব্যাক আপ হিসেবে নাঈম ছিল। কিন্তু প্রথম টেস্টে ও নিজেও ইনজুরিতে পড়ল। এরপর আর কোনো অফস্পিনারই বাংলাদেশে খেলানোর মতো নেই বলতে গেলে। এ দুজনের বাইরে আমি জানি না নামও বলতে পারবেন কি না, যাকে আপনি টেস্ট খেলানোর মতো মনে করেন। সেদিক থেকে আমাদের খুব বেশি বিকল্প ছিল বলে মনে হয় না।

নাজমুল হোসেনের রান আউটে দলের যতটা ক্ষতি হলো?

-রান আউট ম্যাচের যেকোনো পরিস্থিতিতেই খারাপ একটি দিক। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে এ রকম পরিস্থিতিতে আরো বেশি ভয়ংকর এবং বেশ কিছুক্ষণ ধরেই এ রকম একটি কিছু হতে চলছিল। এই পরিস্থিতিতে অনেক বেশি ঠাণ্ডা থাকা জরুরি। অবশ্যই নার্ভাস থাকবে, ভেতরে ভয়ও কাজ করবে। তবে চাপ সামলানোও গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট ক্রিকেটের মজাটাই তো এখানে।

ফিটনেসের সংজ্ঞা তাঁর কাছে যেমন?

-খেলোয়াড়দের নিজেদের ওপরই নির্ভর করে সে আসলে কোন জিনিসটায় নিজেকে ফিট মনে করে। ম্যাচ ফিট আর ফিজিক্যালি ফিট—দুটির দুই ধরনের সংজ্ঞা। অনেকেই আছে ম্যাচে অনেক ওভার টানা বোলিং করতে পারে, একজন ফাস্ট বোলার ৬-৭-৮ ওভার পর্যন্ত। কিন্তু বিপ টেস্টে দেখা যায় ১০ পার করতে পারছে না। আবার অনেকে আছে বিপ টেস্টে ১২-১৩ ওঠায়, কিন্তু ৫ ওভারও করতে পারে না। আসলে ফিটনেসের সংজ্ঞা একেক জায়গায় একেক রকম। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও আমি প্রিমিয়ার লিগে চারটি ম্যাচ খেলে গিয়েছিলাম। ওই জিনিসটা আমাকে সহায়তা করেছে। আমি জানতাম চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দুই দিন আমার জন্য খুব কষ্টকর হবে। এরপর আস্তে আস্তে সহজ হয়ে যাবে।

টেস্টকে যে কারণে অনুশীলনের মঞ্চও মনে করেন?

-টেস্ট ম্যাচ খেলতে থাকলে বোলিংয়ের অনেক জিনিস নিয়ে অনুশীলনটি করা যায় এবং সেটি ম্যাচের ভেতরই। যেগুলো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সহায়তা করবে। নরমালি ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলতে থাকলে বোলিংয়ের গড়ন, অ্যাকশন—সব বদলে যেতে থাকে। যখনই টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়, এক-দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলা হলে ছন্দটা আবার ফিরে আসে। যেটা আমার জন্য ভালো, ওটা আমাকে সহায়তা করে টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডেতে।

টেস্টে লম্বা সময় বোলিং যে উপকারে আসে?

-চট্টগ্রামে দুটি ইনিংস আর এখানে এই ইনিংস মিলিয়ে ১০০ ওভারের ওপরই মনে হয় বোলিং করে ফেলেছি (১০৪.১ ওভার)। স্বাভাবিকভাবে এত ওভার যখন বল করা হয়, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিন্তা-ভাবনার সুযোগ থাকে না। বল করতে করতেই অনেক কিছুর সুযোগ তৈরি হয়। যেটা বললাম, অনেকক্ষণ বল করার পর সব বোলারেরই ছন্দটা ভালো হতে থাকে।

টানা দুই টেস্ট খেলার মতো ফিটনেস বাংলাদেশ দলের আছে কি না?

-আমার মনে হয় আমরা টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে ফিট দলগুলোর একটি। কারণ আমরা সবার থেকে বেশি ফিল্ডিং করি বেশির ভাগ সময়। কাজেই ফিজিক্যালি আমরা ফিট, মানসিক সমস্যাটা হয়তো অনেক বেশি। এই জায়গায় আমাদের অনেক বেশি কাজ করার আছে। ফিজিক্যালি কিন্তু আমরা অনেক বেশি ফিট। আপনি দেখেন, সব মিলিয়ে তিন ইনিংসে বোধ হয় চার শ, সাড়ে চার শ ওভার (৪০৮.২ ওভার) ফিল্ডিং করেছি। এটা মানসিক সমস্যা। এটা নিয়ে কাজ করার আছে। আমরা হয়তো ব্যর্থতাকে ভয় করি যে এই খারাপ ফলটা হবে। উল্টোভাবে চিন্তা করলে হয়তো অনেক ভালো কিছু আসতে পারে।



সাতদিনের সেরা