kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

রবসন ম্যাজিকে শেষটা রাঙিয়ে ফিরছে কিংস

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রবসন ম্যাজিকে শেষটা রাঙিয়ে ফিরছে কিংস

রবসন রোবিনহোর দু-পায়ের ম্যাজিকে আগেও অনেক অভাবনীয় কীর্তি রচিত হয়েছে। সেই তিনি গতকালও যুবভারতী স্টেডিয়াম মাতিয়েছেন। ফুটবলজাদুতে সবাইকে মোহিত করে কিংসকে উপহার দিয়েছেন দুর্দান্ত এক জয়। প্রথমে নিজে গোল করে সবার মনে পুঁতে দিয়েছেন জয়ের বিশ্বাস, এরপর নুহা মারংকে দিয়ে আরেক গোল করিয়ে ওই বিশ্বাসকে রূপ দিয়েছেন বাস্তবে

শোকের সাগর সেঁচে আবার মুক্তা এনেছেন রবসন রোবিনহো। আগের ম্যাচে চার গোল খাওয়ার শোক ভুলিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান এএফসি কাপে জাগিয়ে রেখেছিলেন বসুন্ধরা কিংসকে। নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা ২-১ গোলে গোকুলাম কেরালাকে হারিয়ে নিজেদের পথ খুলে তাকিয়ে ছিলেন গ্রুপের শেষ ম্যাচের দিকে। সেই ম্যাচে মালদ্বীপের মাজিয়া ৫-২ গোলে মোহনবাগানে পিষ্ট হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে কিংসের নক আউটের দুয়ার।

বিজ্ঞাপন

দুই জয়ে পয়েন্ট সমান হলেও ‘হেড টু হেডে’ মোহনবাগানই যাচ্ছে নক আউটে। শেষ পর্যন্ত রোবিনহোর কীর্তিতে শেষ ম্যাচ রাঙানোর গৌরব নিয়েই কিংসকে ফিরতে হবে দেশে।

মোহনবাগানের বিপক্ষে চার গোলের এমন ঝাপটা থেকে বের হয়ে আসা বড় কঠিন। সেই দুঃস্বপ্নের ম্যাচ কিংসের সবাইকে মরমে মেরে দিয়েছিল। সবার স্বপ্ন ও বিশ্বাস নিয়ে গিয়েছিল তলানিতে। এখান থেকে টেনে তোলার জন্য দরকার এক জাদুকরের। তিনি রবসন রোবিনহো। যাঁর দুপায়ের ম্যাজিকে আগেও অনেক অভাবনীয় কীর্তি রচিত হয়েছে। সেই তিনি গতকালও যুবভারতী স্টেডিয়াম মাতিয়েছেন। ফুটবলজাদুতে সবাইকে মোহিত করে কিংসকে উপহার দিয়েছেন দুর্দান্ত এক জয়। প্রথমে নিজে গোল করে সবার মনে পুঁতে দিয়েছেন জয়ের বিশ্বাস, এরপর নুহা মারংকে দিয়ে আরেক গোল করিয়ে ওই বিশ্বাসকে রূপ দিয়েছেন বাস্তবে।

একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বসুন্ধরা কিংস। নুহা ফিরেছেন। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাশুকের জায়গায় বিপলু এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল রাইটব্যাক তারিক কাজীর জায়গায় ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমানকে খেলানো। তবে পুরো প্রথমার্ধ খেললেও তাঁর পায়ে বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। ঘটতে পারত পাঁচ মিনিটের মাথায়। প্রতিপক্ষের জিতিনের দৌড়ে পরাস্ত হলেও কেরালার এই ফরোয়ার্ড শট পোস্টে রাখতে পারেননি বলেই রক্ষা পেয়েছে। এটাই ছিল অস্কার ব্রুজোনের জন্য সতর্কসংকেত, তাই বিরতির পর আর মাহবুবকে নামানোর ঝুঁকি নেননি তিনি। তাঁকে তুলে রিমন হোসেনকে রক্ষণে নিয়ে এসে বদলি নামিয়েছেন দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড মতিনকে।

এই বদলের আরেকটি কারণ রবসনের গোলে কিংস তখন খুঁজে পেয়েছিল ম্যাচ জয়ের হারানো বিশ্বাস। রবসনের বামপন্থায় তখন দুর্বার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। ২৭ মিনিটে তাঁর পায়ের প্রথম ঝলকেই মোহিত যুবভারতীর প্রেসবক্স। বলটা নিয়ে বাঁ দিক থেকে ঢুকে পড়েন সাপের মতো। এক এক করে পাঁচজনকে বডিডজে ছিটকে দিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান বলটা রেখেছিলেন দূরের পোস্টে। সেটি সেভ করে রক্ষিত বাঁচিয়ে দেন কেরালাকে। গোল না হলেও ওই মুভেই মুখরিত হয় কলকাতার প্রেসবক্স। একটুখানি ব্রাজিলিয়ান টাচে কলকাতার সাংবাদিকরা এতটাই মুগ্ধ যে মিনিট নয়েক পর গোলের মুভে সবাই কুর্নিশ জানিয়েছে হাততালি দিয়ে। সেটিও প্রায় আগের মতো, এবার মাত্র দুজনকে ছিটকে রোবিনহো করেন গোলের জায়গা। এরপর ডান পায়ের শট জালে পৌঁছে দিয়ে বিশ্বাস জাগিয়ে তোলেন সবার মধ্যে। ৪১ মিনিটে আবারও রোবিনহো-জাদুতে ছত্রভঙ্গ কেরালার রক্ষণ, কিন্তু শট ক্রসবার উঁচিয়ে যাওয়ায় বড় হয়নি ব্যবধান। দুই মিনিট বাদে কাউন্টারে রিমনের হানায় আরেকবার বিপদে পড়ে প্রতিপক্ষ। ফাঁকায় দাঁড়ানো নুহা মারংকে দিলে গোল হয় অনায়াসে। সেটা না করে তিনি গড়ানো শটে বল তুলে দেন গোলরক্ষকের হাতে।

প্রথমার্ধের ওই বিশ্বাসের জোরে বিরতির পরও কিংস খেলেছে স্বচ্ছন্দে। সেই তাল-ছন্দে ৫৪ মিনিটে পায় আরেক গোল। এটিরও কারিগর ওই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। নিজে না ঢুকে বলটা তুলে দিয়েছেন পোস্টের সামনে নুহার মাথায়। গোল না করে কোনো উপায়ও ছিল না এই দীর্ঘদেহী গাম্বিয়ানের। ২-০ গোলের লিডে তাদের জয়ের রাস্তা অনেকখানি সুগম হলে বাকি সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে খেলার চেষ্টা করে। কিন্তু ৭৫ মিনিটে ফ্লেচারের গোলে আবার টেনশন পেয়ে বসে তাদের। সেই চাপে রক্ষণ ভুল করে বসে ৮৮ মিনিটে, গোলের সুযোগ আসে কেরালা ফরোয়ার্ডের সামনে। পরক্ষণেই সেই ভুল শুধরে খালিদ শাফি দুর্দান্ত এক ক্লিয়ার করে পথে রাখেন দলকে। কাল এই ইরানি ডিফেন্ডারকে দেখা গেছে চেনা রূপে। কিন্তু সবার চেষ্টাকে ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে রবসনের কীর্তি। ৯৩ মিনিটে এই ব্রাজিলিয়ানের শেষ ম্যাজিকও গোলে সুফলা হতে পারত। গোলরক্ষকের চমৎকার সেভে সেটা হতে দেয়নি। তাতে কোনো খেদ নেই, রবসন-ম্যাজিকে অন্তত দুই জয়ের গৌরব নিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা।



সাতদিনের সেরা