kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

রান তিন শ থাকলেও আমি চাপে থাকি

ক্যারিয়ারের প্রথম ২৫ টেস্টে যেখানে কোনো সেঞ্চুরিই ছিল না, সেখানে গত আট টেস্টেই তিনটি তিন অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংস হয়ে গেল লিটন কুমার দাসের। নিজের ব্যাটিংয়ের এই বিবর্তনে লিটন কুমার দাস অনুশীলনের পদ্ধতিই শুধু বদলাননি, বদলেছেন মনোজগৎও। কালকের সংবাদ সম্মেলনে জানান দিলেন সেসবই

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রান তিন শ থাকলেও আমি চাপে থাকি

আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই, রান তিন শ থাকলেও তো আমি চাপে থাকি। ৫ উইকেট গেলেও চাপে থাকি। কারণ আমাকে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। আমি যখন যাই, তখন সত্যিই চাপে। মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে একটাই কথা হচ্ছিল। যেহেতু আমরা ব্যাকফুটে ছিলাম, ওখান থেকে যতটা সম্ভব টানা যায়। গিয়েই তো আমরা এক শ করতে পারব না!

যে জিনিস দেখা এখন বাদ দিয়েছেন?

—নাহ, পরিসংখ্যান দেখি না। (আগে) যখন দেখতাম, তখন দেখা যেত আমি ব্যাকফুটে চলে গেছি। সেই থেকেই চ্যালেঞ্জটা ছিল যে কিভাবে সামনের দিকে এগোনো যায়। এখন আর দেখি না।

বিজ্ঞাপন

কারণ এখন ধারাবাহিকভাবে সামনে এগোনোরই চিন্তাধারা।

সমালোচনার মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা নিয়েছেন যাঁর কাছ থেকে?

—কেউ আমাকে কাউন্সেলিং করেনি। মানসিকভাবে শক্ত থাকাই আসল। লোকে যখন ব্যর্থ হয়, তখনই আস্তে আস্তে (সাফল্যের ছক) মাথার মধ্যে চলে আসে। উন্নতি সেখান থেকেই হয়। ব্যর্থ না হলে কখনো বুঝবেনই না যে আপনার মানসিকতা কোন দিকে যাচ্ছে।

সমালোচনা নিয়ে এখন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি যেমন?

—সমালোচনা হবেই। আমার জীবনটা যেহেতু ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে, ভালো খেললে আপনারা বাহবা দেবেন বা জনগণ দেবে। খারাপ খেললে সমালোচনাও করবে। কারণ তারা চায়, আমি পারফরম করি। এই জিনিসটা আমাকে আর আক্রান্ত করে না। আমি বরং প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি কি না, অনুশীলনে মনোযোগী কি না, এসব ঠিক রাখার চেষ্টা করি। প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে এখন নিজেকেই নিজের কাছে অপরাধী লাগে। তাই চেষ্টা করি, ফলাফল ওপরওয়ালার হাতে।

সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে যে জীবনদর্শনে আস্থা?

—চেষ্টা সব সময় করি। কিছু সময় ব্যর্থ হই, কিছু সময় সফল হই। এটিই ক্রিকেট, এভাবেই চলতে থাকবে। আজ ভালো করেছি তো কাল আবার খারাপ হলেও হতে পারে। মানুষের জীবনই এ রকম।

ব্যাটিং অর্ডারে আরো ওপরে ওঠা নিয়ে বর্তমান চিন্তাধারা?

—(পাল্টা প্রশ্ন করে) আমি যে এই বছর (এত) রান করলাম, কততে নেমে করেছি? (তিনি মনে করেন) আস্তে আস্তে সুযোগ আসবে। সামনে যখন বড় ভাইয়েরা কেউ খেলবে না, তখন আমাকে সুযোগ দেওয়া হবে। এখন আমি ওপরে যাওয়ার মতো (অবস্থা) দেখছি না। ভালো আছি, যেখানে আছি ভালো আছি।

হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আগের দিনই বলেছেন যে লিটন এখন জানেন কোনটি করতে হবে, কোনটি হবে না। লিটন এখন কোনটি করেন না?

—এটি বলা খুব কঠিন যে কী কী করি না বা কী বদলেছে। এটুকুই বলতে পারি যে অনুশীলনের পদ্ধতি বদলেছে। তবে কী বদলেছে, তা বলতে পারব না। কিভাবে সফল হলাম বা কেন হচ্ছি, এই জিনিসটি আমার ভেতরেই থাক।

দলের আস্থা যেভাবে ভরসা হয়ে উঠেছে তাঁর?

—দল চায় আমি পারফরম করি। সব সময় দলের সমর্থনও পাই। তারা চায়, আমি ব্যাটিংয়ে যাব বড় ইনিংস খেলার জন্য। ভেতরে ভেতরে এই ব্যাপারটি আমাকে সহায়তাই করে। কারণ দল আমার ওপর অনেকখানি ভরসা করছে।

আগের ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্সের যে পরামর্শ এখনো অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন?

—অবশ্যই আমি এখন বুঝি যে টেস্ট ক্রিকেটের ধরনটা কেমন বা কতক্ষণ ধরে ব্যাটিং করলে ইনিংসগুলো বড় হবে। তিনি (প্রিন্স) আমাকে (উইকেটে টিকে থাকার গুরুত্ব) বুঝিয়েছিলেন। তা আমার জন্য অনেকটাই কাজে দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ওটাই অনুসরণ করছি।

২৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর উইকেটে গিয়ে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে যেসব কথাবার্তা হচ্ছিল?

—আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই, রান তিন শ থাকলেও তো আমি চাপে থাকি। ৫ উইকেট গেলেও চাপে থাকি। কারণ আমাকে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। আমি যখন যাই, তখন সত্যিই চাপে। মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে একটাই কথা হচ্ছিল। যেহেতু আমরা ব্যাকফুটে ছিলাম, ওখান থেকে যতটা সম্ভব টানা যায়। গিয়েই তো আমরা এক শ করতে পারব না!



সাতদিনের সেরা