kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

ভাগ্য সঙ্গী হলে মিলতে পারে কিংসের অঙ্ক

২৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাগ্য সঙ্গী হলে মিলতে পারে কিংসের অঙ্ক

টুর্নামেন্টের সবচেয়ে খারাপ ও দুর্ভাগ্যজনক দিনটি পার করে ফেলেছে বসুন্ধরা কিংস। সেদিক থেকে আজকের দিনে তাদের সৌভাগ্য নিয়ে ফেরার কথা। ভাগ্য ফিরলে এবং খেলোয়াড়রাও হারের শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারলে কিংস শেষ দিনের অঙ্ক মিলিয়ে পৌঁছে যেতে পারে নক আউটে!

এএফসি কাপের ‘ডি’ গ্রুপে শেষ দিনের অঙ্কটাও কঠিন। প্রথমে গোকুলাম কেরালার বিপক্ষে তাদের সামনে জয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

পরে দিনের শেষ ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানকে হারতে হবে মাজিয়ার কাছে অথবা ড্রয়ে শেষ হতে হবে ম্যাচটি। সুতরাং সব কিছু তাদের হাতে নেই। তাই নিজেদের হাতে যেটা আছে, গোকুলাম কেরালাকে হারানোটাই আপাতত গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে মোহনবাগানের কাছে ৪-০ গোলে হারের শোক-তাপ থেকে কোচ-খেলোয়াড়দের বের হতে হবে। কোচ অস্কার ব্রুজোন সেই বিধ্বস্ততা কাটিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলে গেছেন, ‘আগের ম্যাচটি আমাদের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। স্বাভাবিকভাবে গত দিনটাও খুব খারাপ কেটেছে। মনে হচ্ছিল আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। এটাই ফুটবল। বাজে দিন যেমন আসবে, তেমনি সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে সবাইকে। তাই মানসিক প্রস্তুতিটাই আমাদের জন্য বড় ব্যাপার এবং চ্যালেঞ্জিংও। ’

কোচের কথায় স্পষ্ট, তাঁর খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তোলাটা বড় কাজ। ওই হারের পরদিন একরকম ট্রমার মধ্যে কেটেছে তাঁদের। চুপ মেরে গিয়েছিলেন। গতকাল একটু বোল ফুটেছে তাঁদের মুখে। মুখে বলছেন শেষ ম্যাচে লড়াইয়ের কথা। তবে সেই বয়ানে নেই আগের আত্মবিশ্বাস। ‘গ্রুপে এখনো সব দলের সুযোগ আছে, সেটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। একাদশে তিনটি পরিবর্তন আসতে পারে’—বলেছেন কিংস কোচ। একটি পরিবর্তন খুব স্পষ্ট, সেটা চিনেডু ম্যাথুর জায়গায় ফিরছেন গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড নুহা মারং। বাকি দুটি পরিবর্তন কোথায়, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।

আসলে অমন হারের পর যেকোনো দলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফেরাটা খুব কঠিন। প্রতিপক্ষ গোকুলাম কেরালাও ১-০ গোলে মাজিয়ার কাছে হেরেছে আগের ম্যাচে। এই ম্যাচ তারা জিতলে তাদেরও দুয়ার খুলে যাবে, সে ক্ষেত্রে পরের ম্যাচে মোহনবাগানের জিততে হবে মাজিয়ার বিপক্ষে। কেরালার ইতালিয়ান কোচ ভিনসেঞ্জো আলবার্তোর বিশ্বাস মৌসুমের শেষ ম্যাচটি রাঙিয়ে দেবে তাঁর খেলোয়াড়রা, ‘আমাদের অনেক খেলোয়াড়ের চুক্তি শেষ হবে ৩১ মে। এটা তাদের জন্য ফাইনাল ম্যাচ। তারা নিশ্চয়ই চাইবে শেষটা জয়ে রাঙাতে। তাদের ওপর আমার বিশ্বাস আছে। তারা শতভাগ দিয়ে ক্লাবের জন্য খেলবে, আমার জন্য খেলবে এবং নিজেদের জন্য খেলবে। ’

কিংস অধিনায়ক রবসন রোবিনহোর চোখে কেরালার এই প্রতিপক্ষ অনেক সংগঠিত এবং কাউন্টারে বেশ ভয়ংকর। এই কৌশলে আই লিগ চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানকে হারিয়েছিল ৪-২ গোলে। সুতরাং কিংস রক্ষণভাগের জন্য আবার আসছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। খালিদ শাফি-তারিক কাজী-বিশ্বনাথদের খেলতে হবে নির্ভুল ফুটবল। সেটা যতক্ষণ ঠিকঠাক হবে ততক্ষণ ম্যাচে টিকে থাকবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। কারণ গোল বের করার সামর্থ্য আছে এই দলের। দুই ব্রাজিলিয়ান রবসন রোবিনহো ও মিগেল ফিগেইরা মিলে চাপে ফেলতে পারে প্রতিপক্ষকে। সঙ্গে প্রথম ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা নুহা মারংও ফিরছেন গোলভাগ্য নিয়ে।

এ রকম টুর্নামেন্টে ভাগ্যটাও খুব জরুরি। মোহনবাগানের ম্যাচে সেই ভাগ্যের সঙ্গটাই পায়নি বসুন্ধরা কিংস। ২০ মিনিটের মধ্যে রোবিনহো ও রিমনের দুটি শট পোস্টে লেগে ফেরায় ‘জীবন’ পেয়েছিল বাগান। সামনে এগোতে গেলে এ রকম ‘সৌভাগ্যের বর’ও লাগে। তখনই ফুটবলের চিত্রনাট্যে যোগ হয় অবিশ্বাস্য সৌন্দর্য, যা ফুটবলানুরাগীর মনে গেঁথে থাকে অনেক দিন। দুর্ভাগ্যকে বিদায় দিয়ে সেরকম এক ম্যাচের খোঁজে আজ যুবভারতীতে নামছে বসুন্ধরা কিংস। শুধু তারা জিতলেই হবে না, পরের ম্যাচে মাজিয়ারও হারা চলবে না মোহনবাগানের কাছে। সুতরাং নক আউটে যাওয়ার অঙ্ক বড় কঠিন। ভাগ্য সঙ্গী হলেই সহজ হবে এই অঙ্ক।



সাতদিনের সেরা