kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

যেতে হবে বহুদূর

সফল ক্যারিয়ারের ‘সবে শুরু’ লিটনের

২৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সফল ক্যারিয়ারের ‘সবে শুরু’ লিটনের

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের দিন বাংলাদেশ সফরে আসা আইসিসি চেয়ারম্যান গ্রেগ বার্কলেকে নিয়ে সেই সকাল থেকেই তাঁর ছিল রাজ্যের ব্যস্ততা। ঢাকা টেস্টের প্রথম ঘণ্টায় তাই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান মাঠে ছিলেন না। বার্কলেকে নিয়ে তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে। সেই সময়েই ৭ ওভারের মধ্যে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দুঃস্বপ্নের শুরু মমিনুল হকদের।

বিজ্ঞাপন

তবে এরপর ষষ্ঠ উইকেটে মুশফিকুর রহিম আর লিটন কুমার দাসের ব্যাটে অবিচ্ছিন্ন ২৫৩ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়া জুটিতে স্বপ্নময় দিন পার করার পর বিকেলে নাজমুল বললেন, দিনের শুরুতে মাঠে না থেকে বেঁচেই গেছেন তিনি, ‘ওই সময় থাকলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেত। আল্লাহর রহমত, আমি ছিলাম না (মাঠে)। ’ নাজমুলের ধারণা, ওই সময়ে পুরো বাংলাদেশেরই ছিল একই অবস্থা, ‘এটি কি শুধু আমার (দিনের শেষটা স্বস্তি দিচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে)? আপনাদের (স্বস্তি) হয়নি? সারা বাংলাদেশের দম আটকে যাচ্ছিল তো!’

দম বন্ধ করা সেই পরিস্থিতি থেকেই বাংলাদেশ দিনের শেষে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে মুশফিক-লিটনের ব্যাটে। তাতে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর স্তুতিবাক্যেও ভাসলেন এই দুই ব্যাটার। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ প্রথমজন দলের চরম বিপর্যয়ে আবারও হাল ধরা ব্যাটিংয়ের অনুপম এক প্রদর্শনী করেছেন। পরেরজনও দিন দিন আরো পরিণত হওয়ার নজির রেখে দুর্দান্ত ইনিংসে দলকে টেনেছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ২৫ টেস্টে যেখানে কোনো সেঞ্চুরিই ছিল না লিটনের, সেখানে সবশেষ আট টেস্টেই তিন অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংস তিনটি। মুশফিকও ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টানা দুই ইনিংসে করলেন সেঞ্চুরি। ২৫ রানের কমে ৫ উইকেট হারানো কোনো দলের হয়ে ষষ্ঠ উইকেটে কোনো সেঞ্চুরি পার্টনারশিপই ছিল না আগে। মুশফিক-লিটন মিলে রেকর্ডকে ডাবল সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে নিয়ে যাওয়া নিয়ে অকুণ্ঠ প্রশংসায় মাতলেন কাল ডমিঙ্গো। দিনের শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, ‘অসাধারণ জুটি। কোচ হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে আমার দেখা অন্যতম সেরা জুটি। ২৪ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর অনেক চাপ ছিল। দারুণ লড়াই করেছে দুজন। ’

কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় লিটনের নিজেকে বদলে নেওয়ার ধাপগুলোও জানেন ডমিঙ্গো, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেকনিকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লিটন নিজের খেলাটাকে বিকশিতও করেছে। দারুণ ব্যাটিং টেকনিক রপ্ত করে নিয়েছে। তা ছাড়া বছর দেড়েক ধরে টেস্টের জন্য নিজেকে তৈরি করা ভালো উপায়ও খুঁজে নিয়েছে। দারুণ এক রুটিনের মধ্যে ঢুকে গেছে। ’ গত আট টেস্টে তিন সেঞ্চুরি পাওয়াকে লিটনের ‘শুরু’ও ধরছেন ডমিঙ্গো, ‘এটি ওর তৃতীয় সেঞ্চুরি। ও এমন একজন খেলোয়াড়, যার ব্যাটিং দেখাটা প্রশান্তির। ওর সামনে অনেক সময়ও পড়ে আছে। আশা করছি, এটি ওর সফল টেস্ট ক্যারিয়ারের সবে শুরু। ’ এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের মতে, লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করাটা লিটনের কাজেই দিচ্ছে, ‘ওর নিজের খেলাকে পরের পর্যায়ে তুলে নিয়েছে। আমার মনে হয় ব্যাটিং অর্ডারে পরের দিকে নামাটা ওকে সাহায্যই করেছে। নিশ্চিতভাবেই একদিন সে চার কিংবা পাঁচে ব্যাটিং করবে। তবে ছয় কিংবা সাতে নামাটা ওর চাপ সরিয়ে নিচ্ছে, যে কারণে একাগ্র ও ইতিবাচক খেলা খেলতে পারছে। ’

আজ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালেও মুশফিক-লিটনকে অবিচ্ছিন্ন দেখতে চান ডমিঙ্গো। কারণ দ্বিতীয় নতুন বল এখনো তেমন পুরনো নয়। দ্বিতীয় দিনেও প্রথম ঘণ্টায় শ্রীলঙ্কান পেসারদের তাই ভয়ংকর হয়ে ওঠার আশঙ্কা আছে যথেষ্টই। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে দুই অপরাজিত ব্যাটারের কাছে ডমিঙ্গোর বাড়তি সতর্কতার দাবিও অমূলক নয়, ‘আমরা জানি, আবার কঠিন অবস্থায় পড়ে যাওয়া থেকে আমরা কেবল দুই উইকেট দূরে আছি। এখানে (মিরপুরে) প্রথম ইনিংসের গড় রান ৩১৪। আজ রান রেট খুব ভালো ছিল। কিন্তু মিরপুরে যে খেলা খুব দ্রুত ঘুরে যেতে পারে, সেটিও তো আমরা জানি। এখানে কোনো দলকে দুই বা তিন সেশনেই অল আউট করে দেওয়া সম্ভব। ’ তাই আজ সকালে মুশফিক-লিটনের কাছে ডমিঙ্গোর চাওয়া, আরো এক ঘণ্টা টিকে থাকা, ‘এই দুই ব্যাটার যদি কাল (আজ) প্রথম ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারে, তাহলে আমরা খুব ভালো জায়গায় চলে যাব। ওরা যদি তিন শ পার করে দিতে পারে, এরপর মোসাদ্দেকও আসবে। ’



সাতদিনের সেরা