kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

আক্রমণের বুমেরাংয়ে ঘায়েল ব্রুজোন

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বসুন্ধরা কিংস শিবিরে সুনসান নীরবতা। ম্যাচ হারের রাতেই গতকালের ট্রেনিং বাতিল করেছিলেন কোচ। খুব প্রয়োজন ছাড়া খেলোয়াড়রা রুম থেকে বেরও হচ্ছেন না। মাথা নিচু করে হায়াত রিজেন্সির ডাইনিংয়ে এসে দুটো খেয়ে রুমে ফিরে যাচ্ছেন চুপচাপ।

বিজ্ঞাপন

অস্ফুটে শোনা গেল এক হাহাকার, ‘আমরা হারতে পারি, তাই বলে চার গোল!’

ম্যাচের আগে কিংস শিবিরে যে রকম আলোড়ন ছিল, ঠিক উল্টো ছিল মোহনবাগানে। শুরুর ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে হুংকার ছুড়েছিল প্রতিপক্ষের দিকে। এলিটা কিংসলে মাঠে আসতে নিষেধ করেছিলেন মোহনবাগান সমর্থকদের। কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোনও প্রাক-ম্যাচ সম্মেলনে সবুজ-মেরুনের কোচ হুয়ান ফেরান্দোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সেরা একাদশই বাছাই করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছিলেন কিংসের কোচ। অস্কারকে আগে কখনো প্রতিপক্ষ কোচের ওপর এমন চড়াও হতে দেখা যায়নি।

এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, এএফসি কাপ শুরুর আগের দিন থেকেই অস্কার খেপে আছেন মোহনবাগানের হুয়ান ফেরান্দোর ওপর। দুজনই স্প্যানিশ কোচ। স্বদেশি বলেই একটু আন্তরিক হয়ে আলাপ করতে গিয়েছিলেন অস্কার। তাতে হুয়ান সেরকম সাড়া দেননি, আন্তরিকতাও দেখাননি। সেই উপেক্ষা-অবহেলা অস্কারের অহমে খুব লেগেছিল। প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে হুয়ানকে একহাত নেওয়াটা হতে পারে তারই বহিঃপ্রকাশ। সেই অন্তর্গত রাগ-ক্ষোভের কারণেই কি ম্যাচের কৌশল গুলিয়ে ফেলেছিলেন অস্কার? নইলে যে ম্যাচে তাঁর জয় না হলেও চলে, সেই মোহনবাগানের বিপক্ষে তিনি কেন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাবেন? যেখানে ড্র হলেও কিংসের নক আউটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতভাগ, সেখানে কেন হাই ব্যাকলাইন নিয়ে খেলবে কিংস? দলের মূল অস্ত্র রবসন রোবিনহোকে কড়া মার্কিংয়ে রাখলে কোচের প্ল্যান ‘বি’ কী ছিল, তা অজানাই থেকে গেছে। তাই হন্যে হয়ে গোল খুঁজতে হয়নি প্রতিপক্ষকে। চার গোলের তিনটিই যে উপহার দিয়েছে কিংস!

তপু বর্মন ইনজুরিতে থাকায় কিংসের রক্ষণভাগের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই রাইট ব্যাক বিশ্বনাথকে বানানো হয়েছে সেন্টার ব্যাক আর রাইটে খেলেছেন তারিক কাজী। এই কম্বিনেশনে প্রথম ম্যাচে তারা উতরে গেছে মাজিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু পরের ম্যাচে শক্তিশালী মোহনবাগানের বিপক্ষে এই বিকল্প কাজ করেনি। কারণ তাদের ফরোয়ার্ডরা অনেক দ্রুতগতির। থ্রু বল ধরে গতিতে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে ফিনিশ করার ক্ষমতা রাখেন। ইরানি ডিফেন্ডার খালিদ শাফির গতিতে অক্ষমতাও খুব চোখে পড়ার মতো। নিজেদের দুর্বলতাগুলো জানার পরও কিংসের হাই ব্যাকলাইন খেলাটা হয়েছে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

বড় বিস্ময় হলো, অস্কার সাধারণত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন তেড়েফুঁড়ে যান না। গত এএফসি কাপ বিশ্লেষণ করলেও স্প্যানিশ কোচের এই চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। বড় ম্যাচে রক্ষণ আগলে গোলের জন্য ওঠে তাঁর দল। কিন্তু মোহনবাগানের বিপক্ষে এই ম্যাচে কিভাবে যেন তিনি সব গুলিয়ে ফেলেছেন। এ ব্যাপারে অস্কার আর কোনো কথা বলতে নারাজ। তিনিও যেন চার গোলের শোক নিতে পারছেন না। অথচ ম্যাচের আগে প্রথম ২৫-৩০ মিনিট দেখেশুনে সতর্কভাবে খেলার কথা নিজেই বলেছিলেন। খেলায় হয়েছে উল্টো। প্রথম ২০ মিনিটে রবসন ও রিমনের দুটো শট দুর্ভাগ্যজনকভাবে পোস্টে লেগে ফেরে। সেই দেখেই হয়তো অস্কার উজ্জীবিত হয়েছিলেন। দুঃসাহসী হয়ে উঠেছিলেন। মোহনবাগানকে তাদের মাঠে হারিয়ে স্বদেশি হুয়ানকে শিক্ষা দেওয়ার লোভে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।  

কিংসের এই হারের পেছনে বিশ্বনাথের শিশুসুলভ ভুল, অভিজ্ঞ খালিদ শাফির অনভিজ্ঞের মতো খেলা এবং দুর্ভাগ্যের ছায়া—সবই ছিল। ছিলেন ‘অস্বাভাবিক’ অস্কার ব্রুজোনও।



সাতদিনের সেরা