kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

মোহনবাগানকে চাপে রেখেই জিততে চায় কিংস

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোহনবাগানকে চাপে রেখেই জিততে চায় কিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সল্ট লেকের ভরা গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার শিহরণ কেমন, জানা আছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। এটিকে মোহনবাগানকে জেতাতে আজ আবার কলকাতার দর্শক গলা ফাটাবে, কোনো সন্দেহ নেই। এএফসি কাপে প্রথম ম্যাচটা তাদের দল অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে বসেছে। এখন বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় দলের হয়ে জামাল-সাদ উদ্দিনরা এই ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম মাতিয়েছেন। বাংলাদেশেরই দল আবাহনীর সর্বশেষ অভিযান অবশ্য কোনো দাগ কাটতে পারেনি। তবে বসুন্ধরা কিংসের ব্যাপারটা ভিন্ন। দেশে যেমন দাপট তাদের, তেমনি এই অঞ্চলেও নিজেদের সেরা প্রমাণের মিশন ক্লাবটির। কোচ অস্কার ব্রুজোন তো কলকাতায় পা রেখেই বলে দিয়েছেন, এই কিংস ভারতীয় সুপার লিগের কোনো দলের চেয়ে কম নয়। কিংসের বাজেট, বিদেশিদের মান, সর্বশেষ এএফসি কাপের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে তাঁর এ মন্তব্য কলকাতাবাসীর হজম করে নেওয়া ছাড়া উপায়ও ছিল না। আজ মোহনবাগানের ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে তাই মোটেও স্বস্তিতে নেই সমর্থকরা। অভিজ্ঞ কোচ অস্কার নিজে তা খুব ভালো করেই বুঝছেন। কাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মোহনবাগান শিবিরের সেই অস্বস্তির গল্প শুনিয়ে এই ম্যাচ কিভাবে বের করবেন সেই ছকও এঁকে দেখিয়ে দিয়েছেন তাদের, ‘আমাদের মূল লড়াইটা হবে প্রথম ৩০ মিনিটে। প্রথম ম্যাচ হেরে ওরা চাপে আছে। শুরু থেকেই সমর্থকরা উদ্দীপ্ত করে যাবে তাদের এই ম্যাচটা বের করে নিতে। আমরা ওই সময়টা যদি তাদের ধরে রাখতে পারি, তবে সমর্থকরা যেমন হতাশ হবে, তেমনি মাঠেও মোহনবাগান আরো বেশি চাপে পড়ে যাবে। সেখান থেকেই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। ’

অর্থাৎ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে আরো একবার বিষাদের চাদরে মুড়িয়ে ম্যাচটা তিনি বের করে নিয়ে আসতে চান। আহত মোহনবাগানকে ম্যাচের আগে কথার লড়াইয়ে আরো যতটা সম্ভব কাবু করার কৌশলই যেন তিনি নিয়েছিলেন। মোহনবাগান কিংসের শক্তিমত্তা নিয়ে ম্যাচের আগে তাঁর মন্তব্য, ‘ভারতীয় ফুটবল র‌্যাংকিংয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে থাকবে। কিন্তু দল হিসেবে আমরা মোটেও পিছিয়ে থাকার মতো নই। ভারতীয় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনায় আমি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পক্ষে থাকতেই পছন্দ করব। তাদের সঙ্গে রবসন রোবিনহো, মিগেল ফিগেইরা, নুহা মারংয়ের মতো বিদেশিরা এই দলটাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। ’ মোহনবাগানের নতুন কোচ হুয়ান ফার্নান্দো এখনো যে দলটাকে গুছিয়ে তুলতে পারেননি, নির্দিষ্ট খেলার ধরনও তৈরি হয়নি তাদের, এমন মন্তব্য করতে ছাড়েননি তাঁরই স্বদেশি ব্রুজোন।

তাতেও অবশ্য নিজেদের কাজটা কমে যায় না—এটা তিনি ভালো করেই জানেন, ‘ওরা এখনো ছন্দ পায়নি, ডিফেন্স নিয়ে ভুগছে, তার মানে এই নয় এই ম্যাচে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। আমরা তাই এখান থেকে কোনো সুবিধা নেওয়ার চিন্তা করছি না। ’ ডিফেন্সে এক তিরির অনুপস্থিতি আগের ম্যাচে এলোমেলো করে দিয়েছে ফার্নান্দোর দলকে। তিরির বিকল্প হিসেবে শুরু থেকে সেন্টার ব্যাকে আরেক বিদেশি আয়ারল্যান্ডের কার্ল ম্যাকহিউ খেলতে পারে। তাতে এই ম্যাচে একই রকম অগোছালো থাকবে ভাবার কোনো কারণ নেই। মোহনবাগান বরং চাপ দেবে জয়ের জন্য, সেই চাপ সামলেই তাদের হতাশ করেই দলটিকে আবারও ছন্দহীন করে দেওয়ার পরিকল্পনা কিংস কোচের। মোহনবাগান চাইছে ঠিক উল্টোটা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে যেমন ফেভারিট ভাবা হয়েছে তাদের, সেই মানটা মাঠে দেখাতেই যেন মরিয়া কোচ ফার্নান্দো, ‘আমাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে জানা আছে। মোহনবাগান ভালো দল, সেরা একটা ক্লাব। আমরা এখন শুধু এই ইতিবাচক দিকটাতেই মনোযোগ দিচ্ছি। ’ কিংসের চ্যালেঞ্জ তাদের এর উল্টো পিঠটাই দেখিয়ে দেওয়া।

প্রথম ম্যাচে মাজিয়া এফসিকে হারিয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছে তারা। ঢাকায় লিগে নিজেকে খুব বেশি মেলে ধরতে না পারা নুহা মারং বড় আসরে দেখিয়েছেন নিজের কার্যকারিতা। কিংস তাই আত্মবিশ্বাসী, ওদিকে মোহনবাগানের নিজেদের ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ এশিয়ার ক্লাব ফুটবলে এই দুইয়ের লড়াই আজ উপভোগ্যই হয়ে ওঠার কথা।

 



সাতদিনের সেরা