kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

আইএসএলের মান ছুঁতে লাগবে মোহনবাগান-জয়

মোহনবাগান শক্তিশালী দল। একটা দিন যেকোনো দলের খারাপ যেতেই পারে। আমরা খেলব জেতার জন্য। প্রথম ম্যাচ জয়ে শুরু করায় সবার মনে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এটা হলো মোহনবাগানের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অস্কার ব্রুজোন

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইএসএলের মান ছুঁতে লাগবে মোহনবাগান-জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পশ্চিম বাংলার ফুটবল ঐতিহ্যে শেল বিঁধে দিয়ে রাতারাতি জনপ্রিয় আলোচনায় উঠে এসেছেন গোকুলাম কেরালের কোচ। শোরগোল ফেলে দিয়েছে ভিনসেঞ্জো আলবার্তোর এক উক্তি, ‘আই লিগ ও আইএসএলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ’ ইতালিয়ান কোচ এই কথার সারবত্তা প্রমাণ করে দিয়েছেন মাঠে খেলে। অস্কার ব্রুজোনের প্রমাণের পালা।

বিজ্ঞাপন

কলকাতা গিয়েই এই স্প্যানিশ কোচ দাবি করেছিলেন, ‘বসুন্ধরা কিংস আইএসলের মানের দল। ’

সদ্য আই লিগজয়ী দল গোকুলাম কেরালা। তাদের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে মোহনবাগানের এমন লেজেগোবরে হবে, সেটা সেটা কেউ কল্পনাও করেনি। বাংলার ঐতিহ্যবাহী দলের ফুটবল গৌরব ধুলায় মিশিয়ে দেওয়ার পর আই লিগ চ্যাম্পিয়ন দলের ইতিলিয়ান কোচের মন্তব্য হয়ে উঠেছে মহার্ঘ্য। আইএসএল আর আই লিগকে যে তিনি এক ব্র্যাকেটে নিয়ে এসেছেন, তার কোনো প্রতিবাদ করছে না কেউ। কারো আঁতে ঘা লাগলেও কিছু করার নেই। আসলে মাঠে পারফরম করার পর বিজয়ী কোচের বাণী হয়ে উঠে মনোমুগ্ধকর। গুরুত্বপূর্ণ।

অস্কার ব্রুজোনের মনেও হয়তো সে রকম প্রস্তুতি চলছে। আইএসএলের পরাশক্তিকে হারিয়ে যদি তিনি দেখিয়ে দিতে পারেন! প্রমাণ করে দিতে পারেন বসুন্ধরা কিংসও ভারতীয় শীর্ষ লিগের দল!  মোহনবাগান প্রথম ম্যাচে হারলেও কিংস কোচ এতটুকু হেলাফেলা করছেন না তাদের, ‘মোহনবাগান শক্তিশালী দল। একটা দিন যেকোনো দলের খারাপ যেতেই পারে। আমরা খেলব জেতার জন্য। প্রথম ম্যাচ জয়ে শুরু করায় সবার মনে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এটা হলো মোহনবাগানের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ’

জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং পরের ম্যাচের চ্যালেঞ্জকে সহজও করে দেয়। মিডফিল্ডার সোহেল রানাও স্বীকার করেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালো হয়েছে। তবে ২১ তারিখ মোহনবাগানের বিপক্ষে ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ, এটা জিতলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে। ’ অবশ্য এক দফা সহজ করে দিয়েছে গোকুলাম কেরালা। তারা ৪-২ গোলে হারিয়ে মোহনবাগানভীতিটা অনেকখানি তাড়িয়ে দিয়েছেন কিংসের খেলোয়াড়দের মন থেকে। প্রথমত, মোহনবাগান নিয়ে এই বঙ্গেও এক ধরনের ইল্যুশন আছে, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তাদের আইএসএলে খেলা। এ ছাড়া গতবার মালেতে তাদের বিপক্ষে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত কিংসের জিততে না পারা। সব মিলিয়ে মোহনবাগান যেন মহাশক্তিধর।

কিন্তু কেরালা দেখিয়ে দিয়েছে সেই শক্তিতে ক্ষয়রোগ ধরেছে। তাদের চাপেই চিড়ে চ্যাপ্টা হয়েছে রক্ষণভাগ, প্রতিটি থ্রো বলেই পরাস্ত হয়েছে মোহনবাগানের রক্ষণভাগ। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার তিরি চোট নিয়ে ছিটকে গেছেন কয়েক মাসের জন্য। ফিটনেসের অভাব সেন্টার ব্যাক সন্দেশ জিঙ্ঘানেরও। এটা নিশ্চয়ই কিংসের ফরোয়ার্ডদের সুখবর। রবসন রোবিনহো-ফিগেল ফিগেইরার তালমিলে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের ভুল না করে উপায় নেই। সুতরাং সুযোগ তৈরি হবে এবং বক্সের স্ট্রাইকারকে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। নুহা মারংয়ের গোলে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর কলকাতায় গিয়ে পৌঁছেছেন নাইজেরিয়ান চিনেডু ম্যাথু। কোচ যেন নুহার ওপরই ভরসা রাখতে চান। ম্যাচ জেতার পর এই গাম্বিয়ান-স্প্যানিশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কোচ। সামনের ম্যাচগুলোতে তিনি আরো মানিয়ে নিতে পারবেন নিজেকে এবং খেলার উন্নতি হবে বলে তাঁর বিশ্বাস।

শুধু রক্ষণভাগ নয়, মাঝমাঠের মূল কারিগর হুগো বুমোসও লড়ছেন ইনজুরি সঙ্গে। এই ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডারকে প্রথম ম্যাচে বাইরে রাখলেও খেলিয়ে দিতে পারে কিংসের ম্যাচে। বুমোস খেললেও পুরোপুরি ফিট থাকবেন না। আসলে মোহনবাগান দলের ভেতর ফিটনেস ঘাটতির হাহাকার আছে। সেটা নিশ্চয়ই অস্কার ব্রুজোনের কাছেও পরিস্কার। সুতরাং কলকাতার মাঠে নিজেকে প্রমাণেরও সুযোগ এটা। তাতে তাঁর ওই বাণীও প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়।



সাতদিনের সেরা