kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

সম্ভাবনার ঝিলিক দেখেছিলেন মমিনুল

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্ভাবনার ঝিলিক দেখেছিলেন মমিনুল

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : কভিড পরিস্থিতির কারণে এত দিন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আশপাশেও যাওয়া যেত না। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, গতকাল চট্টগ্রাম টেস্ট শেষ হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও চাক্ষুস করা গেছে। সঙ্গে বোনাস মিলেছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মাঠের আঁচ, পড়ন্ত বিকেলেও মাটি থেকে ভাপ উঠছিল! তাতেও সামান্যই অনুমান করা যায়, গত পাঁচ দিন এই উত্তপ্ত কড়াইতে টানা খেলেছেন মমিনুল হকরা।

এই গরমে তামিম ইকবালকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ হাজার টেস্ট রানের ক্লাব খোলার আবেগ বিসর্জন দিতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। অসুস্থ বোধ করায় আম্পায়ার রিচার্ড ক্যাটলবরোর পরিবর্তে ডিউটি করতে হয়েছে জোয়েল উইলসনকে। তবে মমিনুল আবহাওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি। বরং পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে জুটিয়ে ফেলা সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন, ‘আমার মনে হয়, ওদের ৬টা উইকেট ফেলে দেওয়ার পর মাঝের সময়টা আরেকটা উইকেট নিতে পারলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত। ’

সেটি না হওয়ার কারণও পরোক্ষে জানিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক, ‘পেস বোলাররা যদি আরেকটু ভালো করতে পারত। ’ সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছিলেন স্পিনাররা। তাই তাঁদের প্রশংসা করেছেন মমিনুল, ‘এই উইকেটে স্পিনারদের উইকেট পাওয়া কঠিন। সাকিব ভাইয়ের ভূমিকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথম ইনিংসে ওরা যখন দ্রুত রান তুলছিল, তখন সাকিব ভাই রান আটকেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেটা করেছেন। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে স্পিনাররা সবাই ভালো করেছে। ’ চতুর্থ দিনে ব্যাটাররা একটু চালিয়ে খেললে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যেত হয়তো। তবে সেটি করায় ঝুঁকিও দেখেছেন মমিনুল, ‘এখানকার উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। বিশেষ করে টিকে থাকার জন্য। তবে শট খেলায় ঝুঁকি আছে। উইকেট পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে লিটন যদি আউট না হতো তাহলে সেই চান্সটা (রান বাড়ানোর) আমরা নিতে পারতাম। ’ 

দক্ষিণ আফ্রিকা বিপর্যয়ের পর চট্টগ্রাম টেস্টের নৈপুণ্য বাংলাদেশ দলের জন্য স্বস্তির। এরপর মিশন মিরপুর, যেখানকার উইকেট চট্টগ্রামেরটির মতো ফ্ল্যাট হবে না। বরং ম্যাচ নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। সেই ফল আবার অনেকাংশে নির্ভর করে স্পিনারদের ওপর। কন্ডিশনের এই অদল-বদল নিয়ে চিন্তিত নন মমিনুল, ‘আমরা তো ঢাকা ও চট্টগ্রামের উইকেটে সারা বছরই খেলে থাকি। বরং ঢাকাতেই বেশি খেলি। আমার মনে হয় সবাই এটা জানে। (চট্টগ্রামে) স্পিন হয়তো একটু আস্তে আসে, সেখানে (ঢাকায়) পড়ার পর জোরে যাবে। এটা অনুশীলনে রপ্ত করা যায়। ’

বাংলাদেশের উইকেট সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে শ্রীলঙ্কার ধনঞ্জয়া ডি সিলভারও। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেনও তিনি। তাই মিরপুরের কন্ডিশন ধনঞ্জয়ার চেনা, ‘জানি যে ঢাকায় স্পিনাররা দাপট দেখাবে। তাই আমরা এক পেসার ও তিন স্পিনার খেলাতে পারি। ’ চট্টগ্রাম টেস্টের ফল নিয়ে মমিনুলের চেয়ে বেশি খুশি মনে হয়েছে শ্রীলঙ্কার এ ক্রিকেটারকেই, ‘প্রথম দিন ব্যাটিং করতে নেমেই বুঝে গিয়েছিলাম ড্র হচ্ছে। বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা ছিল তবে অতি সামান্য, কিন্তু এই উইকেটে বোলারদের জন্য কোনো সাহায্য নেই। সব মিলিয়ে ড্র করে আমি খুব খুশি। ’

 



সাতদিনের সেরা