kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

মুস্তাফিজকে পাওয়া যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে?

সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম থেকে   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুস্তাফিজকে পাওয়া যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে?

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে আশ্চর্য নীরব মমিনুল হক। বাঁহাতি এই পেসারকে লাল বলে দেখতে চান কি না, এই প্রশ্নও গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। বোঝা গেল, দলে কাকে চান, সেটি মুখ ফুটে বলার অবস্থাতেও নেই মমিনুল। তবে মৃদু আশার কথা শুনিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

বিজ্ঞাপন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শেষে দেশে ফিরলেই মুস্তাফিজের সঙ্গে লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনার জন্য নির্বাচকদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় থেকেই লাল বলের ক্রিকেটে মুস্তাফিজকে ফেরানো নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সম্প্রতি দারুণ বোলিং করে আশার আলো জাগানো পেস ইউনিটকে শক্তিশালী করতে বিসিবির নীতিনির্ধারকদের টেস্ট ভাবনায় ফিরে আসেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশ দলের ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেও মুস্তাফিজকে টেস্টে ফেরানোর পক্ষে জোরালো যুুক্তি তুলে ধরেছিলেন। গতকাল একই আলোচনা নতুন করে ফিরে এসেছে পেসার শরীফুল ইসলাম চোট নিয়ে ছিটকে পড়ায়।

ফরম বিবেচনায় টেস্ট দলের সেরা পেসার এখন তাসকিন আহমেদ। কাঁধের চোট পাওয়ায় আপাতত লাল বলের ক্রিকেট থেকে দূরে তিনি। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট দলেও এই বাঁহাতি পেসারকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচকরা। এই অবস্থায় বাংলাদেশ দলের পেসার সংকট প্রকট। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশনে যখন তিন পেসার খেলানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের।

তাসকিন ও শরীফুলের পর বাংলাদেশ দলের লাল বলের পেসার আছেন এবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজা ও শহীদুল ইসলাম। পরের দুজনের অভিষেকই হয়নি। আবার গতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া টিম ম্যানেজমেন্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও আবু জায়েদ রাহীকে চাইবে বলে মনে হয় না। তাতে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এবাদত আর খালেদই ভরসা মমিনুলের, যে দুজন আবার চোটগ্রস্ত তাসকিন ও শরীফুলের পরের সারির। তাতে তৃতীয় পেসার বাছাই করতে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার কথা মমিনুলের।

এই সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারতেন মুস্তাফিজুর রহমান। সাদার মতো লাল বলেও হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন তিনি অভিষেকে। এরপর চোট এবং বিশ্রামের কারণে খুব বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলা না হলেও বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সফলতম পেসার মুস্তাফিজই। ২০২১ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলা তাঁর ১৪ ম্যাচে ৩৬.৮৭ গড়ে উইকেট আছে ৩০টি। আর বর্তমান সময়ে যাঁকে সেরা পেসার মনে করা হয় সেই তাসকিন ১১ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়েছেন ৫৫.৯৪ গড়ে।

মুস্তাফিজের তাই অনায়াসে হেঁটে ঢুকে পড়ার কথা বাংলাদেশ দলে। যদিও মমিনুল তাকিয়ে আছেন বোর্ডের দিকে, ‘মুস্তাফিজ টেস্ট খেলবে কি না, সেটি বোর্ড নির্ধারণ করবে। যদি বোর্ড দেয়, তবে অবশ্যই খেলবে। ’ অধিনায়ক হিসেবে মুস্তাফিজকে দলে পেলে খুশি হবেন কি না, এই প্রশ্নও বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন মমিনুল, ‘বোর্ড যদি সিদ্ধান্ত নেয়, এরপর আরো কিছু বিষয় আছে। যেমন ফিটনেস, তারপর ও অনেক দিন লাল বলের ক্রিকেট খেলে না। তবে বোর্ড দিলে অবশ্যই খেলবে। ’

লাল বলের ক্রিকেট মুস্তাফিজ সর্বশেষ খেলেছেন গত বছর। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়মিত খেলেছেন সাদা বলে। তার মানে ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেননি মুস্তাফিজ। আর আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে একাদশে সুযোগ না পাওয়া বাঁহাতি পেসারের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থাকার কথা নয়।

অবশ্য বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিতে আগেই লাল বল থেকে ছুটি নিয়ে রেখেছেন মুস্তাফিজ। যদিও ক্রিকেটারের পছন্দের ফরম্যাট খেলার ‘অধিকার’ তুলে নেওয়ার কথা বলা হয় বোর্ডের পক্ষ থেকে। যদিও এই কঠোর ভাবনা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে শোনা যায়নি। তাই বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসও মুস্তাফিজের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে, ‘তাসকিন ও শরীফুলের চোটের পর পেস ডিপার্টমেন্ট কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এটা দুর্ভাবনার বিষয়। অবশ্যই এই অবস্থায় মুস্তাফিজকে টেস্টে চাইব। তবে তার আগে এটা নিয়ে ওর সঙ্গে কথা (নির্বাচকদের) বলতে বলেছি। ’



সাতদিনের সেরা