kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

কেউ একদিন ৮-১০ হাজার রানও করবে

৮৫ মিনিটে ১৯ রান মোটেও উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। তবু সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে আশাবাদ শোনা গিয়েছিল লর্ডসের প্রেসবক্সে। ২০০৫ সালে ক্রিকেটতীর্থে টেস্ট অভিষিক্ত তিনি যদিও তখন ১৭ বছর পর বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাঁচ হাজার টেস্ট রান করার স্বপ্ন দেখেননি। গতকাল চট্টগ্রামে এই কীর্তি গড়ার পর সংবাদ সম্মেলনে সেদিনের স্বপ্ন নিয়ে কৌতুক করেছেন। রিভার্স সুইপ বিতর্ক থেকে শুরু করে নিজের স্ত্রীর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট নিয়েও ঝাঁজালো উত্তর দেওয়া মুশফিককে এতটা প্রাণোচ্ছ্বল সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি। এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের ক্রীড়া সম্পাদক সাইদুজ্জামান—

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেউ একদিন ৮-১০ হাজার রানও করবে

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ হাজার রান করা প্রসঙ্গে...

আলহামদুলিল্লাহ। আপনারা দেখেছেন প্রথম দিনও ভীষণ গরম ছিল। দুই দিন ফিল্ডিং ক্লান্তি নিয়ে আমাদের লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব ওদের (শ্রীলঙ্কা) ইনিংসের কাছাকাছি যাওয়া। এটা ঠিক যে যতটা লিড নেওয়া দরকার ছিল সেটা পারিনি।

বিজ্ঞাপন

ওদের পেসারদের কৃতিত্ব দেব, এই উইকেটে দারুণ বোলিং করেছে। খুবই ভালো লাগছে যে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আমি পাঁচ হাজার রান করেছি। আশা করছি, এটাই প্রথম না। দলে অনেকের সামর্থ্য আছে। একদিন টেস্টে ৮-১০ হাজার রান করছে আমাদেরই কেউ।

 

নিজের শুরুর স্বপ্ন প্রসঙ্গে...

লর্ডসে অভিষেকের সময় লক্ষ্য ছিল, কিভাবে দ্বিতীয় টেস্টটা খেলা যায় (হাসি)! সত্যি বলছি। টেস্টটা তো খুব ভালো খেলিনি। তবে আমাকে যদি প্রশ্ন করেন, তিন ফরম্যাটের মধ্যে কোনটা আমার প্রিয়? আমি বলব, টেস্ট ক্রিকেট। আমি তিনটা ফরম্যাটই খেলতে চাই। তবে টেস্ট ক্রিকেট আই লাভ মোস্ট। টেস্ট ক্রিকেট সব সময় আমার কাছে অগ্রাধিকার পায়। টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে বিচার করা যায়। আপনি কতগুলো সেঞ্চুরি করলেন, কত বড় ইনিংস খেললেন, সেসব দিয়ে। এতে আপনার দল উপকৃত হবে। শুরুর দিকে আমার ইচ্ছা ছিল যত বেশিদিন সম্ভব টেস্ট খেলা, বড় বড় অর্জন যেন করতে পারি। ব্যক্তিগত এবং দলগতভাবে। হয়তো আরো ভালো করতে পারতাম। ভালোর তো শেষ নেই। কিন্তু তার পরও যে জায়গায় আছি, আলহামদুলিল্লাহ।

রিভার্স সুইপ প্রসঙ্গে...

আমি ভেবেছিলাম প্রথম প্রশ্নই এটা হবে (হাসি)। এটা নির্ভর করে উইকেটের ওপর। যেসব উইকেটে ডিফেন্স করে টিকে থাকা যায়, তখন অন্য শট খেলার প্রশ্নই ওঠে না। এটা (চট্টগ্রাম) খুব ভালো ব্যাটিং উইকেট। এখানে সোজা ব্যাটে খেলা যায়। অন্য শটের দরকার হয় না। আর একটা ব্যাপার বলি, আমি কিন্তু দুটা ডাবল সেঞ্চুরির সময় তিন-চারটা রিভার্স সুইপ ভালোভাবে খেলেছিলাম। এটা আমার পছন্দের শট, ঝুঁকি আছে জানি। তাই আমি ভবিষ্যতে এই শট খেলা থেকে বিরত থাকব না।

বেশ কিছু সম্ভাব্য সেঞ্চুরি মিস করা নিয়ে...

যদি খেয়াল করেন, আমি ৭ নম্বরে অনেক ইনিংস খেলেছি। অনেক সময় পার্টনার না থাকায় বড় ইনিংস খেলতে পারিনি। এখন সেই সমস্যা নেই। ওপরে ব্যাট করছি, তাই ব্যাটিং পার্টনার থাকে। এখন চেষ্টা করছি সামনে যে ম্যাচগুলো আসে, সেগুলোতে যেন রান করে আরো এগিয়ে যেতে পারি। সেঞ্চুরির সংখ্যা নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমি চেষ্টা করছি পরের সুযোগগুলো যেন কাজে লাগাতে পারি।

তামিম ইকবালের সঙ্গে প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে...

তামিম আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ও আমার ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙেছিল! এরপর বলেছিল যে দুই-তিন বছর পর তুই আবার ডাবল সেঞ্চুরি করবি। আমাদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা দলের জন্য ভালো।

নিজের পরবর্তী লক্ষ্য প্রসঙ্গে...

কিছু চাওয়ার নেই। বাংলাদেশে অভিজ্ঞতার দাম নেই। ১৭ বছর কাটিয়েছি, এটাই অনেক বড় ব্যাপার। আল্লাহ আমার জন্য যা রেখেছেন ততটুকু ভালোভাবে খেলতে চাই। আজকে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর কেক কেটে প্রথমে (মাহমুদুল হাসান) জয়কে খাইয়ে বলেছি যে, তুই এখানে সবচেয়ে জুনিয়র। তোর সম্ভাবনা আছে ১০ হাজার রান করার। আশা করি, তুই সেদিন নতুন কাউকে কেক খাইয়ে দিবি। এই পরম্পরা এগিয়ে নেবে বাংলাদেশকে।

নিজের স্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট প্রসঙ্গে...

আমি দেখিনি কী লিখেছে। দেখলে বুঝতে পারতাম। আর সমালোচনার যে ব্যাপারটা বললেন, এটা কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই কাম্য নয়। একমাত্র বাংলাদেশেই দেখেছি একটা সেঞ্চুরি করলে ব্র্যাডম্যানের চেয়ে বড় কিছু হয়ে যায়। আবার দুই-তিনটা ম্যাচ রান না করলে গর্তের মধ্যে ঢুকে যায় (সমর্থকরা)। জানি না এটা কারা করে, এটা তাদের সমস্যা।

টি-টোয়েন্টি নিয়ে নিজস্ব ভাবনা...

এই ফরম্যাট থেকে অবসরের কোনো চিন্তা আপাতত নেই। ইচ্ছা আছে বাংলাদেশের জন্য যতটুকু সুযোগ আসবে এবং আমাকে যে যে ফরম্যাটে চাইবে (নির্বাচকরা), আমার ফিটনেস ধরে রেখে তত দিন ভালো করার চেষ্টা করব।

 



সাতদিনের সেরা