kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

ছোট পরিবর্তনে বড় প্রাপ্তি

১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছোট পরিবর্তনে বড় প্রাপ্তি

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : সময়ক্ষেপণের ব্যাপারটি ফুটবলকে ঘিরেই বেশি আলোচিত হয়। ক্রিকেটেও এ ধারা আছে। এ বছরের মার্চ-এপ্রিলে এই সময়ক্ষেপণ নিয়েই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। গতকাল অনুচ্চে সেই ঘটনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সও।

বিজ্ঞাপন

সঙ্গে সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছোট একটি পরিবর্তন ড্রেসিংরুমে স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান।

পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ ঘণ্টায় ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ দল। হারের আশঙ্কা তখন বড় হাঁ করে আছে মমিনুলদের সামনে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মাহমুদুল হাসান ও নাজমুল হোসেন ফিরে যাওয়ার পর বাকি সময়টুকু বিভীষিকাময় মনে হচ্ছিল। তামিম জানতেন আরো ১২.৪ ওভার খেলা বাকি আছে। ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে খেলা যেহেতু হচ্ছে, তাই আগে খেলা গুটিয়ে ফেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু একটা শেষ সময়সীমা ছিল—সাড়ে ৫টায় দিনের খেলা শেষ হবে। সেদিন ড্রেসিংরুম থেকে এই বার্তা গেলে দিনের দশম ওভারের জন্য মানসিক প্রস্তুতিটা ভিন্ন রকম হতো তামিমের, ৯.১ ওভারে আউট না-ও হতে পারতেন।

কিন্তু আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার মুখে দেখেন স্বাগতিকরাও পিছু নিয়েছে তামিমের, আম্পায়াররা বেলস তুলে নিয়েছেন। ড্রেসিংরুমে ফিরে সেদিন উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন তামিম। জানা গেছে, তাঁর অনুযোগ ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের সবার প্রতি, বিশেষ করে ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সের দিকে—কেন তিনি একটা বার্তা পাঠাননি। কেউ কোনো উত্তর দেননি, আবার তামিমের এই উষ্মাকে খুব একটা গ্রহণযোগ্য বলেও মনে করেননি কেউ কেউ। তবে গতকাল জেমিই প্রসঙ্গটি তুলে তামিমের প্রশংসা করেছেন, ‘দিনের শেষ ভাগে ব্যাটারদের সময় নষ্ট করাটাও জরুরি। দক্ষিণ আফ্রিকায় একটা ঘটনা ঘটেছিল। ব্যাপারটা একটু খেয়াল করলে হয়তো অন্য রকম হতো। এখানে (চট্টগ্রামে) তামিম এই কাজটায় লিড দিয়েছে। ’ টানা দুই দিন বাংলাদেশের শেষটা ভালো হওয়ার পেছনে ব্যাটারদের এই সচেতনতা বড় ভূমিকা রেখেছে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শুরুই হয়েছিল দিনের শেষ সেশনে। এমন পরিস্থিতিতে হুড়মুড়িয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় নতুন কিছু নয়। কেমন যেন একটু তাড়াহুড়াও দেখা যায় বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে। পোর্ট এলিজাবেথের ওই ইনিংসে তামিম নিজেও যেমন পরের বল খেলার জন্য দ্রুত গার্ড নিচ্ছিলেন। সেই তিনি এবার চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে কিছুক্ষণ ব্যাটিং করার পর ফিজিও ডেকে কোমরের চিকিৎসা নিয়েছেন। গতকাল শেষ ভাগে ঘন ঘন ডাগআউট থেকে সাহায্য চেয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। জেমি সিডন্স এতে তৃপ্ত, ‘আমরা (ব্যাটাররা) সময় না নেওয়ায় প্রতিপক্ষ বেশি ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিল (দক্ষিণ আফ্রিকায়)। আজ সেরকম কিছু যেন না হয়, সেই চেষ্টা করেছি। তামিম ও মুশফিক এই কাজটায় নেতৃত্ব দিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট তো কোনো রেস না। ’ টেস্ট ক্রিকেট হলো, ২২ গজে ছোট ছোট উন্নতির সম্মিলিত প্রতিফলন।



সাতদিনের সেরা