kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

রোবিনহোরা প্রেরণা খুঁজছেন জাতীয় পতাকায়!

ক্লাবের লড়াইয়ের মধ্যে রোবিনহো অনুপ্রেরণা খুঁজছেন লাল-সবুজের পতাকায়, ‘এই টুর্নামেন্টে অনুপ্রেরণার বড় জায়গা হলো দেশের পতাকা। এখানে বাংলাদেশ জাতীয় দল না খেললেও বসুন্ধরা কিংস পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। সেদিক থেকে আমরা খেলব লাল-সবুজ পতাকার জন্য।’

সনৎ বাবলা   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোবিনহোরা প্রেরণা খুঁজছেন জাতীয় পতাকায়!

মঞ্চটা ক্লাব ফুটবলের, কিন্তু খেলোয়াড়দের অনুভূতি বসুন্ধরা কিংস ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে ‘লাল-সবুজের’ পতাকায়। এমনকি ব্রাজিলিয়ান রবসন রোবিনহোও কলকাতায় গিয়ে ক্লাব আর জাতীয় দলের ভেদাভেদ খুঁজে পান না! বরং বসুন্ধরা কিংসকে দেখছেন দেশের ফুটবলের প্রতীক হিসেবে।

এএফসি কাপে রবসন রোবিনহোর হাতেই থাকবে কিংসের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এই টুর্নামেন্টের গত মিশনে মালদ্বীপে গিয়ে তিনি নিজের সেরাটা দেখিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু সতীর্থরা সেই মানে নিজেদের মেলে ধরতে না পারায় চূড়ান্ত সফল্য পায়নি দল। সেবার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড রাউল বেসেরার ইনজুরি একটা বড় বাধা হয়েছিল। এবার কিংসে সেরকম দুর্বলতা নেই বলে মানছে অনেকে। তাই এএফসি কাপের ‘ডি’ গ্রুপে ফেভারিট হয়েই কলকাতা গেছে তারা।

তবে ক্লাবের লড়াইয়ের মধ্যে অধিনায়ক রোবিনহো অনুপ্রেরণা খুঁজছেন লাল-সবুজের পতাকায়, ‘এই টুর্নামেন্টে অনুপ্রেরণার বড় জায়গা হলো দেশের পতাকা। এখানে বাংলাদেশ জাতীয় দল না খেললেও বসুন্ধরা কিংস পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। সেদিক থেকে আমরা খেলব লাল-সবুজ পতাকার জন্য। একটা ক্লাব দলের জন্য এটা বিশাল অনুপ্রেরণা। আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ ও দেশের ফুটবলানুরাগীরা। ’ সত্যি আগামী কয়েক দিন সবার চোখ থাকবে কলকাতা যুবভারতী স্টেডিয়ামে। সেই ২০১৪ সালে শেখ জামাল ধানমণ্ডির আইএফএ শিল্ড অভিযানের মতো। দুর্দান্ত ফুটবল খেলে তারা চমকে দিয়েছিল কলকাতাকে, ওই পারফরম্যান্স দিয়ে কিছুদিন পুরো জাতিকে মাতিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের ওই ক্লাব দল।

সতীর্থদের কাছে রোবিনহো চাইছেন সেরকম কিছু। কলকাতা মাতানো ফুটবল পারফরম্যান্স। দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনও মনে করেন এই দলের সেই সামর্থ্য আছে, ‘আমাদের দলটি ভারাসাম্যপূর্ণ। ফরোয়ার্ড লাইন দুর্দান্ত, হাতে বিকল্পও অনেক। সুতরাং এই দলের প্রতিটি ম্যাচ জেতার ক্ষমতা আছে। ’ প্রত্যেক খেলোয়াড়দের মনে তিনটি ম্যাচ জেতার আত্মবিশ্বাস গুঁজে দেওয়ার কাজ করছেন কোচ। আগামীকাল মাজিয়া স্পোর্টসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে কিংসের তৃতীয় এএফসি কাপ মিশন।

গতবার মালদ্বীপের এই দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে কিংস শুরু করেছিল এএফসি কাপ। এবারও একই প্রতিপক্ষ হলেও এই দল তার চেয়ে শক্তিশালী। মালদ্বীপের চলমান লিগে মাজিয়া ১২ ম্যাচের ১১টিই জিতেছে, হেরেছে মাত্র একটি। এই পরিসংখ্যানে তাদের শক্তির আস্ফাালন দেখা গেলেও তারেক কাজীও নিজেদের সামর্থ্য কিছুটা কম দেখেন না। ফিনল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই বাংলাদেশি ডিফেন্ডারও অনুপ্রেরণা খোঁজেন জাতীয় পতাকায়, ‘ছোটবেলায় ফিনল্যান্ডে থাকলেও আমি বাংলাদেশের পতাকা আঁকতাম। তখন থেকে লাল-সবুজের পতাকার প্রতি আমার অন্য রকম টান। দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছি, এই পতাকার মান রাখতে চেষ্টা করেছি। এবার ক্লাব দলের হয়ে ভারতে এসে সেই পতাকার প্রতিনিধিত্ব করছি। সুতরাং নিজের সেরাটা দিয়ে লড়াই করে যাব। ’ আশির দশকের নওগাঁর শহীদুল কাজী দেশান্তরি হয়ে ফিনল্যান্ডে বসতি গড়েন। এরপর ফিনিশ মায়ের কোলে তারেক কাজীর জন্ম হলেও বাবার শিক্ষায় বাংলাদেশের ‘লাল-সবুজের’ পতাকা হয়ে গেছে তাঁর প্রিয়। প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে ঢাকায় খেলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, সুবাদে তাঁর অভিষেক হয় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে।

জাতীয় দলে খেলায় গৌরব আছে। কিন্তু ক্লাব দলে গৌরবের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সুযোগ আছে। তার জন্য প্রেরণা খুঁজতে হবে জাতীয় পতাকায়!

 



সাতদিনের সেরা