kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

সুযোগ পেয়েই নাঈমের রাজসিক প্রত্যাবর্তন

টিম কম্বিনেশনে অফস্পিনারের কোটা আপাতত মিরাজের জন্যই বরাদ্দ। তাই সুযোগের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় নাঈমকে। নিজের শহরে পাওয়া সুযোগটা কী দারুণভাবেই না কাজে লাগিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই অফস্পিনার। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে পাঁচ কিংবা তার বেশি উইকেট। ১০৫ রানে ৬ উইকেট নাঈমের ক্যারিয়ার সেরা। ক্যারিয়ার সেরা বলেই নয়, প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগানোর তৃপ্তি তাঁর আরো বাড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রামের কন্ডিশন।

সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম থেকে   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুযোগ পেয়েই নাঈমের রাজসিক প্রত্যাবর্তন

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

মেহেদী হাসান মিরাজ চোট পেয়েছেন বলেই শ্রীলঙ্কা সিরিজে ডাক পেয়েছেন নাঈম হাসান। গতকাল ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগারের পরও পরেরজন জানেন, মিরাজ ফিট হয়ে উঠলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বড়জোর স্কোয়াডে জায়গা পেতে পারেন। টিম কম্বিনেশনে অফস্পিনারের কোটা আপাতত মিরাজের জন্যই বরাদ্দ। তাই সুযোগের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় নাঈমকে।

বিজ্ঞাপন

নিজের শহরে পাওয়া সুযোগটা কী দারুণভাবেই না কাজে লাগিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই অফস্পিনার। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে পাঁচ কিংবা তার বেশি উইকেট। ১০৫ রানে ৬ উইকেট নাঈমের ক্যারিয়ার সেরা।

ক্যারিয়ার সেরা বলেই নয়, প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগানোর তৃপ্তি তাঁর আরো বাড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রামের কন্ডিশন। উইকেটে সহায়তা নেই, তার ওপর ভীষণ গরমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে ব্রেক থ্রু পাইয়ে দেওয়ার গৌরবের আবির মেখে দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে হাজির নাঈম, ‘পাঁচ উইকেট পাওয়া সব সময়ই আনন্দের। তবে এখানে খুব ভালো (ব্যাটিংয়ের জন্য) উইকেটে পাঁচ উইকেট পেয়েছি। তাই এটাকে এগিয়ে রাখব। ’

শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে কন্ডিশন বিবেচনায় দারুণ করেছে বাংলাদেশের পুরো বোলিং ইউনিট, বিশেষ করে স্পিনাররা। তাই সবাইকে ছাপিয়ে যাওয়ার পেছনে সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামকে কৃতিত্ব দিয়েছেন নাঈম, ‘তাইজুল ভাই, সাকিব ভাই খুব ভালো বল করেছেন, রান আটকে রেখেছেন। গতকাল (প্রথম দিন) আমি কিন্তু অত ভালো বোলিং করিনি, নির্দিষ্ট একটা জায়গায় বল ফেলে রান আটকে রাখতে পারিনি। গতকাল উনারা (সাকিব ও তাইজুল) রান আটকে রেখেছিলেন। এরপর সাকিব ভাই, কোচ (স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ) ও (মমিনুল হক) সৌরভ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি উইকেট কী ডিমান্ড করে। সে অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করেছি। সাফল্য এসেছে। ’

নাঈমের মতো ক্রিকেটারদের কুড়িয়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য বিস্তর ঘাম ঝরাতে হয়, মনের জোরও থাকতে হয়। চোট আর মেহেদী হাসানের মিরাজের ফর্মের কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটেই নিজেকে তৈরি করতে হয়েছে নাঈমকে। আপাত কঠিন এই কাজটাই দৃঢ় মনোবলে করেছেন তিনি, ‘শেষ দুই সিরিজ দলের সঙ্গে ছিলাম না। এর আগে ছিলাম। তখন বিসিএল, বিপিএল শুরু হলো। তারপর আবার বাংলা টাইগার্সের ক্যাম্পে চলে গিয়েছিলাম। সব মিলিয়ে খুব বেশি গ্যাপ হয়নি। তবে ইনজুরির সময়টা তো একটু কঠিন যায়, চেষ্টা করেছি নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার। ট্রিটমেন্ট করালাম, এরপর চেষ্টা করেছি যত তাড়াতাড়ি ফিরে আসা যায়। ’ সেই ফিরে আসা রাজসিকই হয়েছে নাঈমের।

উচ্চতার কারণে এমনিতে উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স পান নাঈম, যা বিদেশের মাটিতে যথেষ্ট কার্যকর হবে বলে বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ। তবে চট্টগ্রামের উইকেট তো ব্যাটিংস্বর্গ। সেই উইকেটে সাফল্যের জন্য নিত্যনতুন পথ খুঁজতে হয়েছে নাঈমকে, ‘এই উইকেটে চিন্তা ছিল ভালো জায়গায় বোলিং করার। এখানে বেশি ফ্লাইট দিলে বিপদ। আমি চেষ্টা করেছি ফ্লাইট দেওয়ার। প্রথম দিন একটু বেশি ফ্লাইট দিয়েছিলাম। আজ (গতকাল) লক্ষ্য ছিল ভালো জায়গায় জোরের ওপর বল করার। ’

বলার অপেক্ষা রাখে না, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের উইকেটটাই সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে নাঈমকে, ‘ওর (ম্যাথুজের) তখন ১ রান দরকার ছিল (ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে)। তাই সব ফিল্ডার ওপরে নিয়ে এসেছিলাম। চিন্তা ছিল, ও চেষ্টা করবে। ওই ওভারে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছিল। ’ ম্যাথুজের সেই ঝুঁকি ক্যাচ হয়ে জমা পড়ে মিড অনে দাঁড়ানো সাকিবের হাতে।

আউট ম্যাথুজ এর আগেও হতে পারতেন। যদি ব্যক্তিগত ৬৯ রানে তাঁর দেওয়া ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারতেন মাহমুদুল হাসান জয়। কিংবা ১১৯ রানে খালেদ আহমেদের বলে পরাস্ত লঙ্কান ব্যাটারের বিপক্ষে রিভিউ নিত বাংলাদেশ। কিন্তু বল তাঁর ব্যাট ছুঁয়ে যাওয়ার শব্দ কেউই শুনতে পাননি! এমনকি ম্যাথুজ নিজেও আঁচ করতে পারেননি। তেমনটাই জানিয়েছেন নাঈম, ‘আমরা কেউই সাউন্ডটা শুনতে পাইনি। বাইরে থেকে বলা সহজ, মাঠে কাজটা খুব কঠিন। একটা বল মিনি সেকেন্ডে বেরিয়ে যায়। ম্যাথুজেরটায় কোনো আওয়াজই হয়নি। ’

নাঈমের এই অর্জনের দিনে ওপেনাররাও স্বস্তি দিয়েছেন বাংলাদেশ দলকে। বিনা উইকেটে ৭৬ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করায় এই অফস্পিনারের আশা, ‘তামিম ভাই আর (মাহমুদুল হাসান) জয় খুব ভালো ব্যাটিং করছে। এখানে যত লম্বা ব্যাটিং করা যায়, আমাদের জন্য তত ভালো। যদি আমরা লিড পাই, তখন চেষ্টা করব যত দ্রুত সম্ভব অলআউট (শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস) করতে। ’

এই লক্ষ্য পূরণে ব্যাটার নাঈমেরও ডাক পড়তে পারে। বাংলাদেশের টেল এন্ডের চিরায়ত ব্যাটিং ব্যর্থতা ঘোচাতে তৈরিও তিনি, ‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, চিন্তা করি প্রসেস মেনে চলার। যতটুকু সম্ভব দলকে দিতে চাই। আমি শতভাগ চেষ্টা করব। ’

 



সাতদিনের সেরা