kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

আরেক নায়ককে হারাল অস্ট্রেলিয়া

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরেক নায়ককে হারাল অস্ট্রেলিয়া

ছিলেন বন্ধুদের আড্ডার মধ্যমণি। মাতিয়ে রাখতন আসর। সেই অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস চলে গেলেন হঠাৎ করে। পরশু স্থানীয় সময় রাত ১১টায় মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অস্ট্রেলিয়ার ৪৬ বছর বয়সী এই সাবেক অলরাউন্ডার।

বিজ্ঞাপন

মাস দুয়েক আগে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে হৃদরোগে প্রাণ হারান কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন। প্রিয় বন্ধু সাইমন্ডসের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাজঘরে পাশাপাশি বসতেন ওয়ার্ন। হোটেলে থাকতেন একই রুমে। মদ, বিশৃঙ্খল জীবনাচার আর বিতর্কও সঙ্গী ছিল দুজনের। সাইমন্ডসের ইনস্টাগ্রামের প্রফাইল পিকচারটাও ওয়ার্নের সঙ্গে। ওয়ার্নের মৃত্যুর পর সেটা দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আমি বিধ্বস্ত। আশা করছি এটা দুঃস্বপ্ন। ’ কে জানত, আরেক দুঃস্বপ্নে ডুবিয়ে শোকযাত্রায়ও সঙ্গী হবেন দুজন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মার্ক টেলর মানতেই পারছেন না মৃত্যুগুলো, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ বছর বারবার পড়তে হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে। রডনি মার্শ, ওয়ার্নের পর সাইমন্ডস—একেবারে বিশ্বাসই হচ্ছে না। ক্রিকেটের আরেকটি মর্মান্তিক দিন। ’

টাউন্সভিল শহরের ৫০ কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানায় স্থানীয় পুলিশ। হার্ভে রেঞ্জ রোডের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় অ্যালিস রিভার ব্রিজের কাছে বাঁক নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় সাইমন্ডসের গাড়ি। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপ জেতা এই অলরাউন্ডারের। এ সময় পোষা দুটি কুকুর ছিল গাড়িতে, যারা শেষ পর্যন্ত ছেড়ে যায়নি মালিককে। ২৬ টেস্টে ৪০.৬১ গড়ে ১৪৬২ রান ও ২৪ উইকেট, ১৯৮ ওয়ানডেতে ছয়টি সেঞ্চুরিসহ ৫০৮৮ রান ও ১৩৩ উইকেট আর ১৪ টি-টোয়েন্টিতে ৩৩৭ রানের পাশাপাশি নিয়েছিলেন ৮ উইকেট।

২০০৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে ১২৫ বলে খেলেন ১৪৩ রানের ইনিংস। ২০০৮ সালে সিডনি টেস্টে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ১৬২ রানের ইনিংস। সেই টেস্টেই হরভজন সিংয়ের সঙ্গে ‘মাংকিগেট কেলেঙ্কারিতে’ জড়ানোর পর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেন ২০০৯ সালের ৭ মে। আইপিএলে মুম্বাইয়ে একই দলে খেলে দূরত্ব কমেছিল হরভজনের সঙ্গে। সেই হরভজনও স্তব্ধ সাইমন্ডসের মৃত্যুতে, ‘অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের হঠাৎ মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত হয়ে গেছি। ওর আত্মার শান্তি কামনা করছি। ’

ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত সাইমন্ডসের জন্ম ১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে খেলার ডাক পেলেও সাড়া দেননি। ১৯৯৮-এ অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া এই অলরাউন্ডারের জীবনের অন্যতম সমস্যা ছিল শৃঙ্খলার অভাব ও অ্যালকোহলে আসক্তি। ২০০৫ সালে মদ্যপ হয়ে অনুশীলনে নেমে বাদ পড়েন দল থেকে। ২০০৮ সালে মাছ ধরার নেশায় টিম মিটিংয়ে না এসে চলে যান মাছ ধরতে! ম্যাথু হেইডেনের সঙ্গে একবার মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে গিয়েছিল নৌকা। প্রায় তিন ঘণ্টা সাঁতরে দুজন ওঠেন ডাঙায়, অথচ হাঙরের মতো ভয়ংকর প্রাণীও ছিল সেই জলে।

এমন বর্ণিল চরিত্রের ক্রিকেটের ‘ব্যাডবয়ের’ মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে ক্রিকেটবিশ্বে। শচীন টেন্ডুলকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘শুধু অসাধারণ অলরাউন্ডারই নয়, মাঠে সব সময় প্রাণবন্ত থাকত সাইমন্ডস। ’ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট পুড়ছেন প্রিয় বন্ধু হারানোর বেদনায়, ‘খুবই কষ্ট হচ্ছে। ’ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট আরেকজন নায়ককে হারাল। ’ এপি

 



সাতদিনের সেরা