kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

পাঁচ বোলারে স্বস্তির প্রথম দিন

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম ইনিংসে সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশ ছড়ি ঘোরাতে পারেনি মূলত পঞ্চম বোলারের অভাবে। ওই সফরের দুই টেস্টেরই প্রথম দিনে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সমানে পাল্লা দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের ইতিহাস তো সবারই জানা।

সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম থেকে   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পাঁচ বোলারে স্বস্তির প্রথম দিন

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্য দিনের চেয়ে গতকাল আর্দ্রতাও ছিল বেশি। গরমে এমনই হাঁসফাঁস অবস্থা যে সাধারণ গ্যালারির ওপর জরুরি ভিত্তিতে শামিয়ানা টাঙানোর নির্দেশ গেছে বিসিবির পক্ষ থেকে। এমন ‘আগুনে’ দিনের শেষে কুশল মেন্ডিস বললেন, ‘আমাদের ওখানকার চেয়েও আজ গরম বেশি।

বিজ্ঞাপন

’ এমন গরমে সেঞ্চুরি করার জন্য অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটার। একটু পরে নিজের শিষ্যদেরও পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ। জহুর আহমেদ চৌধুরীর বাইশ গজ ব্যাটিংস্বর্গের মাথার ওপরে গনগনে সূর্যের তাপ সয়ে সফরকারী দলের ঘাড়ে বাংলাদেশ নিঃশ্বাস ফেলছে বোলারদের কল্যাণেই।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে বাংলাদেশের চারটি উইকেটই স্পিনারদের। স্বভাবতই নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের প্রশংসাই বেশি ঝরেছে রঙ্গনা হেরাথের কণ্ঠে। তবে পরোক্ষে পাঁচ বোলারে যাওয়ার আদর্শ নীতির গুণগানও করেছেন বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কান স্পিন বোলিং কোচ হেরাথ, ‘টেস্টে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার জন্য আমি সব সময় পাঁচ বোলারের পক্ষপাতী। সেটা গরম থাকুক কিংবা না থাকুক। এতে বোলারদের কাজটা সহজ হয়ে যায়। সবাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়। ’

চট্টগ্রামের কন্ডিশন বিবেচনায় পাঁচ বোলার ফর্মুলা কতটা সুফল দিয়েছে, সেটি স্কোরকার্ডেই লেখা আছে। দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ উইকেট পাননি, তবে দুজনে মিলে বোলিং করেছেন ২৪ ওভার। বাকি ৬৬ ওভার বোলিং করেছেন তিন স্পিনার। এঁরা সবাই বিশেষজ্ঞ বোলার। তাই সবাইকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিশ্রাম দিলেও প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর সার্বক্ষণিক চাপ রাখতে পেরেছেন মমিনুল হক। চার বোলারে টেস্ট খেলার ধারা চট্টগ্রাম টেস্টেও অব্যাহত রাখলে নিয়মিত বোলারদের বিশ্রাম দেওয়ার জন্য খণ্ডকালীন বোলারের ওপর নির্ভর করতে হতো বাংলাদেশ অধিনায়ককে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম ইনিংসে সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশ ছড়ি ঘোরাতে পারেনি মূলত পঞ্চম বোলারের অভাবে। ওই সফরের দুই টেস্টেরই প্রথম দিনে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সমানে পাল্লা দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের ইতিহাস তো সবারই জানা। চারজনের ক্লান্ত বোলিং ইউনিটের ওপর চড়াও হয় দক্ষিণ আফ্রিকার লোয়ার মিডল অর্ডার এবং এরপর চাপে পড়ে ব্যাটিং ভরাডুবির শিকার বাংলাদেশ।

২০১৯ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষবার পাঁচ বোলার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিল বাংলাদেশ দল। এরপর ব্যাটিং ভারী করতে গিয়ে চার বোলারে খেলেছেন মমিনুলরা। মাউন্ট মঙ্গানুইতে এই ফর্মুলাতেই সাফল্য মিলেছিল। তবে সেই জয়ে এবাদত হোসেনের অবিশ্বাস্য স্পেল মুছে ফেললে ফল অন্য রকমও হতে পারত। অবশ্য নিউজিল্যান্ডে ব্যাটিং ভারী করার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্তত ডারবান টেস্টে একজন বোলার না খেলানো নিয়ে পরে আক্ষেপ শুনেছি টিম ম্যানেজমেন্টের মুখেও। রঙ্গনা হেরাথ তো বলেই দিয়েছেন যে, আদর্শ টেস্ট একাদশ পাঁচ বোলারের।

টাইমলাইন বলছে, ৯ টেস্ট পর পাঁচ বোলার খেলিয়েছে বাংলাদেশ দল। সাকিব আল হাসানের ফিটনেসের ওপর পূর্ণ আস্থা থাকলে অবশ্য চার বোলারেই ঘুরপাক খেতে পারত বাংলাদেশ দল। নাঈমকে ডাগআউটে রেখে মোসাদ্দেক হোসেনকে আট নম্বরে খেলানোর আলোচনা ছিল থিংকট্যাংকে।

পাঁচ বোলারের কারণে অধিনায়কের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টও সহজ হয়েছে। গতকাল সবচেয়ে বেশি ৩১ ওভার করেছেন তাইজুল ইসলাম। তবে টেস্ট বিশেষজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার এমনটা নিয়মিতই করে থাকেন। প্রথম ঘণ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন ১৫ মাস পর টেস্টে ফেরা নাঈম, করেছেন ১৬ ওভার। আর মাত্র মিনিট পঁয়ত্রিশ ব্যাটিং অনুশীলন করেই চট্টগ্রাম টেস্টে নেমে পড়া সাকিব ১৯ ওভার বোলিং করেছেন সবচেয়ে কম রান দিয়ে। এ যেন অভিজ্ঞতার কাছে ক্রিকেট-বিজ্ঞানের ইনিংস ব্যবধানে হার!

রঙ্গনা হেরাথ স্পিনারদের প্রথম দিনের নৈপুণ্যে তৃপ্ত, ‘প্রথম দিন বিবেচনায় বোলারদের নৈপুণ্যে আমি খুশি। সাকিব এবং টিজে (তাইজুল) ভালো বোলিং করেছে। নাঈম দুটি উইকেট নিয়েছে। গত ১৮ মাসে (আসলে ১৫ মাস) খুব বেশি ক্রিকেট খেলেনি ও। তবে অনেক প্র্যাকটিস করেছে। তাই শুরুতে ওর আত্মবিশ্বাস পাওয়া দরকার ছিল। প্রথম বলে উইকেট পাওয়ায় সেটা হয়েছেও। ’

চট্টগ্রামের উইকেট প্রথম দিনেও পেসারদের প্রতি ন্যূনতম সমবেদনা দেখায়নি। তবু উইকেট সোজা বোলিং করে লঙ্কান হাফ সেঞ্চুরিয়ান কুশল মেন্ডিসের প্রশংসা কুড়িয়েছেন শরিফুল ও খালেদ, ‘(বাংলাদেশের) পেসাররা উইকেট টু উইকেট বল করেছে। এই উইকেটে আসলে পেসারদের এর বেশি কিছু করারও নেই। ’ তবে তাঁর সিংহভাগ প্রশংসা বরাদ্দ তাইজুলদের জন্য, ‘তাইজুল এবং অফস্পিনারটি (নাঈম) খুব ভালো বোলিং করেছে। উইকেটে সামান্য টার্ন ছিল। ওরা উইকেট টু উইকেট বল করায় আমরা বড় শট খেলতে পারিনি। ’

ব্যাটিংস্বর্গে প্রতিপক্ষকে ২.৮৬ রান রেটে আটকে রাখতে পারা বোলিং ইউনিটের জন্য ভীষণ গরমে আচমকা ছায়া পাওয়ার মতোই স্বস্তিদায়ক। রঙ্গনা হেরাথ নিশ্চিতভাবেই পাঁচ বোলারের পক্ষে আরো জোর আওয়াজ তুলতে পারবেন পরের টিম মিটিংগুলোয়।

 



সাতদিনের সেরা