kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

পাঁচ দিনের চিন্তায় বাংলাদেশ

সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম থেকে   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পাঁচ দিনের চিন্তায় বাংলাদেশ

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

টেস্ট ম্যাচের আগের দিন ঐচ্ছিক অনুশীলন নিয়মিত ঘটনা নয়। বাধ্য হয়েই গতকাল সেই রুটিনে যেতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। এত্ত গরম চট্টগ্রামে যে মাঠ লাগোয়া গ্যালারিতে বসেও ঘেমে নেয়ে ওঠার অবস্থা। তাপমাত্রা ত্রিশ ছুঁই ছুঁই, তবে আর্দ্রতার কারণে ভাপসা গরম।

বিজ্ঞাপন

এমন আবহাওয়ায় পাঁচ দিন টানা ক্রিকেট খেলার জন্য শক্তি সঞ্চয় দরকার। ‘ফাইনাল পরীক্ষা’র আগের দিন বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ঐচ্ছিক করে দেওয়ার কারণ এটাই। এমনিতেও কোনো দলই টেস্ট ম্যাচের আগের দিন পরীক্ষার শেষ রাতের মতো প্রস্তুতিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে না।

আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে শরীর-মনকে বিশ্রাম দেওয়ার এ সুযোগটা অনেকেই নিয়েছেন। যদিও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অবিশ্বাস্য ফর্মও হোটেলে রাখতে পারেনি মমিনুল হককে। বাংলাদেশ অধিনায়কের ১১ টেস্ট সেঞ্চুরির সাতটিই এই মাঠে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গড় ১৩১! এবারের উইকেটেও রানের প্রতিশ্রুতি আছে। তবু দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যর্থতা পেছনে ফেলার সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগানোর আগে প্রস্তুতিতে সামান্যতম ঘাটতি রাখতে চাননি মমিনুল। মুশফিকুর রহিম কখনোই প্র্যাকটিস সেশন মিস করেন না। তবে দিনের সব আকর্ষণ ছিল যথারীতি সাকিব আল হাসানকে ঘিরে। ফিটনেট টেস্ট-ফেস্ট কিছু হয়নি তাঁর। স্টেডিয়ামে এসে সোজা উইকেট দেখে নেটে ব্যাটিংয়ের পর কোচকে সাকিব জানিয়ে দেন যে, তিনি খেলতে প্রস্তুত। অতঃপর আজ খেলছেনও। গত বছরের ডিসেম্বরের পর আবার লাল বলের ক্রিকেটে সাকিবকে পাচ্ছেন মমিনুল, শতভাগ ফিটনেসের সংশয় নিয়ে হলেও।

টেস্ট এখনো বাংলাদেশ দলের কাছে সংশয়াচ্ছন্ন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাদ দিলে গত সাড়ে তিন বছরে জিম্বাবুয়ে ছাড়া আর কোনো দলের বিপক্ষে জয় নেই মমিনুলদের। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ধরলে ১৮ টেস্টে তিন জয়ের বিপরীতে হার ১৪টিতে। সেই হারের ধরন নিয়েই প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে এপ্রিলে দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্টের সিরিজের পর থেকে। একটি সেশনেই কেমন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। এক দিন আগে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তাই এই ‘রোগ’ থেকে সেরে ওঠার তাগিদ দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। গতকাল অধিনায়ক মমিনুলও আশ্বাস দিলেন, ‘আমাদের পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তবে একবারে পাঁচ দিনের কথা তো ভাবা যায় না। একটা করে দিন চিন্তা করতে হবে। ’

চট্টগ্রামের উইকেটে এই ব্যাটিংধস থেকে বেরিয়ে আসার পর্যাপ্ত অনুপ্রেরণাও আছে। ঘূর্ণিঝড় অশনির রেশ আর নেই। আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে ঝড়-বৃষ্টির হুমকি উঠে গেছে। তবে মাঝেমধ্যে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টি হতে পারে। তাতে উইকেটের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন না মমিনুল। গত ১০ বছরে এশিয়ার মধ্যেই সবচেয়ে রানপ্রসবা চট্টগ্রামের রেকর্ডটা আরো ঝলমলে হওয়ারই কথা।

ব্যাটারদের স্বর্গভুমে নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন বোলাররা। চট্টগ্রামের আবহাওয়াও চোখ রাঙাচ্ছে তাঁদের। তাই এই কন্ডিশনে বোলিং অপশন বাড়ানোর ব্যাপারটাও ভাবতে হচ্ছে মমিনুলকে, ‘চট্টগ্রামে রান বেশি হয়। তাই বোলারের চাহিদা বেশি থাকে। এটার প্রভাব পড়তে পারে একাদশে। ’

এই বোলিংয়ে বড়সড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের অনুপস্থিতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত পারফরম করছিলেন তাঁরা। মিরাজ তো ব্যাটেও প্রত্যাশিত ভরসা দিচ্ছিলেন দলকে। এই দুজন এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন যে তাঁদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বদলে হাহাকারের মতোই শুনিয়েছে অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া, ‘নিউজিল্যান্ডে জয়ে তাদের অনেক অবদান ছিল। তাদের মিস করব। একজন (মিরাজ) ভালো ব্যাটিংও করে। ’ বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টে সাকিবের মতো এই দুজনের অনুপস্থিতি নিয়েও দুর্ভাবনার শেষ নেই। তবে এঁদের জায়গা যাঁরা নেবেন, তাঁদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে মমিনুলের, ‘ওদের জায়গায় যারা খেলবে, তাদের জন্য এটা ভালো সুযোগ। ওরা (তাসকিন ও মিরাজ) এমন পারফরম করছিল যে অন্য কাউকে সুযোগ দিচ্ছিল না। এখন ওদের জায়গায় যারা খেলবে, তারা বার্তা দিতে চাইবে যে আমরাও ভালো অবস্থানে আছি। তাদের ওপর আমার বিশ্বাস আছে। অনেক সময় সাকিব ভাইও ছিল না। যে ছিল তার জায়গায়, তার ওপর বিশ্বাস ছিল। এই বিশ্বাস আমি সব সময় দেখাব। ’

বিশ্বাস তাঁর নিজের ওপরও আছে। অধিনায়ক হওয়ার পর তাঁর ব্যাটিং গড় মমিনুলসুলভ নয়, ১৫ টেস্টে ৩৪.৬৫। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের চার ইনিংসে একবারও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। তাই ইদানীং প্রেসের সামনে এলেই ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মমিনুলকে। নিজের দর্শন দিয়ে এই প্রশ্ন মোকাবেলা করেছেন অধিনায়ক, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে আমি ব্যাড প্যাচের মধ্যে আছি। যদি বিশ্বাস করি, তাহলে এটা থেকে বের হতে পারব না। আমার কাছে মনে হয়, আমরা যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি... সবাই সবার সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারব ইনশাআল্লাহ। ’

চট্টগ্রামের বাইশ গজের আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং গড় অবচেতনে হলেও অনুপ্রেরণা জোগাবে সব সময় অতীতকে পেছনে ফেলে আসা মমিনুলকে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পাঁচ দিন কঠিন ক্রিকেট খেলার।



সাতদিনের সেরা