kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

আশার ব্যাট ধরেছেন ডমিঙ্গো

বাঁহাতি স্পিন খেলাই তামিমদের মূল সমস্যা— কথাটা মানতে রাজি হননি রাসেল ডমিঙ্গো। বরং দক্ষিণ আফ্রিকায় মহারাজ ও অফস্পিনার সাইমন হারমারকে ২৯ উইকেট দেওয়ার পেছনে কন্ডিশনকে বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি, ‘বাউন্সটা বড় কারণ। এখানকার (বাংলাদেশ) উইকেটে বল লাফায় না। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় সেটা হয়েছে। যে কারণে ব্যাট-প্যাড ক্যাচও বেশি উঠেছে।’

সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম থেকে   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশার ব্যাট ধরেছেন ডমিঙ্গো

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

রঙ্গনা হেরাথ সজ্জন। নেটের বাঁহাতি স্পিনারকে ডেকে নিয়ে মৃদু হাসিতে কী যেন বললেন। লাজুক হেসে স্থানীয় নেট বোলারও দূরে গিয়ে মাঠে বসে পড়লেন। বোঝা গেল, এই নেট বোলার খেলে লাসিথ এম্বুলদেনিয়া কিংবা প্রবীন জয়াবিক্রমকে সামলানোর তালিম নেওয়া হবে না তামিম ইকবালের।

বিজ্ঞাপন

হেরাথ নিজেই টানা বল করেছেন, মাঝেমধ্যে ডেকে বাংলাদেশের তারকা ওপেনারকে বাঁহাতি স্পিন মোকাবেলার কৌশল বুঝিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে বাঁহাতি স্পিন খেলাকেই বাংলাদেশি ব্যাটাররা জটিলতম ‘পাজল’ মনে করে থাকতে পারেন!

ব্যাকগ্রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। একজন কেশব মহারাজ তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সিরিজ কাটিয়েছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। দুই টেস্টেই দক্ষিণ আফ্রিকার এই বাঁহাতি স্পিনার নিয়েছেন ১৬ উইকেট। চট্টগ্রামে অবস্থানরত শ্রীলঙ্কার এমন দুজন বাঁহাতি স্পিনার আছেন, যাঁরা সর্বশেষ টেস্টে দুজনে মিলে নিয়েছেন প্রতিপক্ষের ১৩ উইকেট। সেই প্রতিপক্ষ আবার ভারত। চট্টগ্রামের উইকেটের যে অতীত, তাতে ব্যাটারদের সঙ্গে স্পিনারদের লড়াই-ই গন্তব্য নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের। অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকলেও টেস্ট বিশ্বে মহারাজের চেয়ে জয়াবিক্রম ও এম্বুলদেনিয়ার বাঁহাতি স্পিনের বিষক্রিয়াই বেশি। এ বছরের মার্চে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে সেটি তাঁরা প্রমাণও করেছেন। নেটে বাঁহাতি স্পিনারকে ডেকে আনার পেছনে আর কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে অবশ্য বাঁহাতি স্পিন খেলাই তামিমদের মূল সমস্যা— কথাটা মানতে রাজি হননি রাসেল ডমিঙ্গো। বরং দক্ষিণ আফ্রিকায় মহারাজ ও অফস্পিনার সাইমন হারমারকে ২৯ উইকেট দেওয়ার পেছনে কন্ডিশনকে বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি, ‘বাউন্সটা বড় কারণ। এখানকার (বাংলাদেশ) উইকেটে বল লাফায় না। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় সেটা হয়েছে। যে কারণে ব্যাট-প্যাড ক্যাচও বেশি উঠেছে। ’ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটে অতটা বাউন্স পাবেন না স্পিনাররা। কোচ আশা করছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বিভীষিকাও পিছু নেবে না তাঁর দলের।

কিন্তু উপমহাদেশীয় কন্ডিশনেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি জয় ছাড়া বাংলাদেশের সব হারের মূল কারিগর প্রতিপক্ষ স্পিনাররাই। তাই সিরিজ শুরুর আগে নির্দিষ্ট ব্যাটিং ড্রিলে বিশ্বাসী তামিম গতকাল শুধু স্পিনারদেরই খেলেছেন। যদিও ওপেনার তাঁর নতুন বলের প্রস্তুতিও নেওয়ার কথা। তবে প্রায় দেড় যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতায় তামিম জানেন যে, চট্টগ্রামে তাঁর জন্য মূল চ্যালেঞ্জ লঙ্কান স্পিনাররাই। আদতে দলের পুরো ব্যাটিং লাইনআপের জন্যও।

ভিন্ন কন্ডিশন এবং ভিন্ন প্রতিপক্ষ এবার। তার ওপর ক্রিকেটের শেষ হয়ে যাওয়া ম্যাচটা স্রেফ অতীত বলে একটি আপ্তবাক্য আছে। তবু দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্টের সিরিজের ছায়া বারবার ঢেকে দিচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা মি. হোয়াইট সিরিজকে। ডারবানে ৫৩ রানের পর পোর্ট এলিজাবেথে ৮০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ ফিরে এসেছে। তবে এটা তো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর চোখের সামনে এমন বেশ কয়েকটি ব্যাটিংধসের সাক্ষী হয়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো। চট্টগ্রামেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট তার একটি উদাহরণ। এক সেশনেই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশ এমন ছিটকে গেছে কত। এই ধারা থেকে শিষ্যদের বের করে আনাই ডমিঙ্গোর এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ, ‘টেস্টে এক-দুটি সেশন খারাপ যেতে পারে। তবে আমাদের খারাপটা খুব বেশি খারাপ হয়, ছয়-সাত উইকেট হারিয়ে ফেলি। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একটা সেশনে দুটি উইকেট গেলে চেষ্টা করতে হবে আর যেন উইকেট না পড়ে। ’

সমস্যা আরো আছে। প্রতিপক্ষের টেল এন্ডারদের মতো শেষের ব্যাটাররাও সমান ভোগান্তির কারণ হয় বাংলাদেশের জন্য। প্রতিপক্ষের শেষ দিককার ব্যাটাররা অবদান রাখেন দলের সংগ্রহে। অন্যদিকে অলরাউন্ডার কোটায় একাদশে থাকা ব্যাটার আউট হলেই বাংলাদেশ ইনিংসের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়! আধুনিক ক্রিকেটে এই ব্যর্থতা অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে শিগগির এই সংকট থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের কোনো সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। তাই ইনিংসের দৈর্ঘ্য নির্ভর করবে ব্যাটারদের ওপরই।

আরো বড় সমস্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশের বোলিং ডিপার্টমেন্ট। চোটের কারণে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ স্কোয়াডেই নেই। কভিড থেকে উঠে আসা সাকিব আল হাসানের চট্টগ্রাম টেস্ট খেলার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ। তাই পূর্ণ শক্তির বোলিং নিয়ে চট্টগ্রামে নামবে বাংলাদেশ—জোর গলায় বলা যাচ্ছে না। তবে ডমিঙ্গো আশাবাদী, ‘অবশ্যই আমাদের সামর্থ্য আছে শ্রীলঙ্কার ২০ উইকেট নেওয়ার। ’ আর চট্টগ্রামের প্রত্যাশিত ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রান করে মমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমদের প্রত্যাবর্তনের ক্ষণও গুনছেন প্রধান কোচ।

ব্যাটারদের রানে ফেরার ম্যাচে বোলাররা ২০ উইকেট তুলে নিলেই তো...।



সাতদিনের সেরা