kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

এবার ‘অসমাপ্ত’ কাজ সারলেন ফ্লেচার

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : দুজনেই ফিরলেন। তাঁদের একজন আইসোলেশন শেষে মাঠে ফিরলেন, আরেকজন হাসপাতাল থেকে। খুলনা টাইগার্সের হয়ে তাঁরা ইনিংস ওপেনও করলেন। কভিড নেগেটিভ হয়ে এবারের বিপিএলে প্রথম খেলতে নামা সৌম্য সরকার অবশ্য শুরু করলেন ব্যর্থতা দিয়েই।

বিজ্ঞাপন

তবে রান তাড়ায় তাঁর ওপেনিং সঙ্গী আন্দ্রে ফ্লেচার ‘অসমাপ্ত’ কাজ সেরে তবেই থামলেন।

হ্যাঁ, এই ক্যারিবীয় ব্যাটারের কাজ বাকিই থেকে গিয়েছিল। খুলনার আগের ম্যাচটিও ছিল এই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষেই। ঢাকা পর্বের সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষের ১৯০ রান তাড়ায় শুরুটা যেমন হওয়া চাই, ফ্লেচারও শুরু করেছিলেন সেভাবেই। কিন্তু রেজাউর রহমান রাজার বলে চোয়ালের নিচে বল লাগায় ১২ বলে একটি করে ছক্কা আর চারে ১৬ রান করেই থামতে হয় এই ক্যারিবীয়কে। যেতে হয় হাসপাতালেও। তাঁর জায়গায় বিপিএল ইতিহাসের প্রথম ‘কনকাশন সাব’ও নিতে হয় খুলনাকে।

সেই ম্যাচে ২৫ রানে হারা খুলনা ঠিক পরের ম্যাচেই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পেয়ে গেল স্বাগতিকদের। ম্যাচের আগে দুই দলের কাছেই মনে হচ্ছিল, এখানকার উইকেট ১৭০ রানের। কিন্তু টানা চার ম্যাচে টস হারা মেহেদী হাসান মিরাজের দল খুলনাকে দিতে পারল মাত্র ১৪৪ রানের লক্ষ্য। এই রান তাড়ায় ফ্লেচার শুরু করলেন যেন সেখান থেকেই, যেখানে থামতে হয়েছিল আগের ম্যাচেই।

৪৭ বলে ২ ছক্কা ও ৬ চারে এই ক্যারিবীয় খেললেন ৫৮ রানের ইনিংস। আগের দুই ম্যাচে মাত্র ৬ ও ১১ রানে আউট হওয়া অধিনায়ক মুশফিকও চলতি বিপিএলে প্রথম রানের মুখ দেখলেন। ১ ছক্কা ও ৪ চারে ৩০ বলে তিনিও খেললেন ৪৪ রানের হার না মানা ঝোড়ো ইনিংস। দুয়েমিলে ৭ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের জয়ে খুলনা ঢাকা পর্বে হারের বদলা নিল। তিন ম্যাচে এটি খুলনার দ্বিতীয় জয়। অন্যদিকে চার ম্যাচে এটি চট্টগ্রামের দ্বিতীয় হার।

মুশফিকের রানে ফেরার দিন রানে ফিরেছেন চট্টগ্রামের আফিফ হোসেনও। আগের তিন ম্যাচে মাত্র ৩৩ রান করা এই তরুণ এবার ৩৭ বলে ২ ছক্কা ও ৩ চারে করেছেন ৪৪ রান। কেনার লুইসকে দ্রুতই হারানোর পর অন্য ওপেনার উইল জ্যাকসকে (২৩ বলে ২৮) নিয়ে আফিফের ৫৭ রানের জুটিতে চট্টগ্রাম অনেক দূর যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। থিসারা পেরেরা এই জুটি ভাঙার পর থেকেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে খুলনা। এর পরপরই লঙ্কান লেগস্পিনার সেকুগে প্রসন্নকে ছক্কা মারার চেষ্টায় সীমানায় ক্যাচ দেন সাব্বির রহমান (৪)।

একই চেষ্টায় মেহেদী হাসানের অফস্পিনে সাজঘরে ফিরতে হয় অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকেও (৬)। আগের তিন ম্যাচেই শেষের ঝড়ে চট্টগ্রামকে অনেকটা এগিয়ে দেওয়া বেনি হাওয়েলকে (৫) এবার দ্রুতই ফেরানো খুলনার সফলতম বোলার পেরেরা (৩/১৮) প্রতিপক্ষকে পরে কোণঠাসা করেন আরো। লঙ্কান পেসারের স্লোয়ার ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে শামীম হোসেন সীমানায় ক্যাচ হতেই ১০২ রানে ৭ উইকেট হারানো দলে পরিণত হয় চট্টগ্রাম। সেখান থেকে নাঈম ইসলাম (১৯ বলে ২৫*) ও বোলার শরীফুল ইসলামের (৬ বলে ১২*) ব্যাটে দেড় শর কাছাকাছি যেতে পারেন মিরাজরা।

ফ্লেচারের ‘অসমাপ্ত’ কাজ সারার পাশাপাশি মুশফিকের রানে ফেরার যোগফল যে পুঁজিকে লড়াই করার মতো বলে মনেই করায়নি!



সাতদিনের সেরা