kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

ফিরলেন পুরনো তামিম, ফিরল ঢাকাও

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরলেন পুরনো তামিম, ফিরল ঢাকাও

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে ছয় মাসের বিরতির ঘোষণাই পুরনো সেই বিস্ফোরক তামিম ইকবালকে বের করে আনল কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলতেই পারে। না হলে স্ট্রাইক রেট নিয়ে নিত্য সমালোচনায় তিতিবিরক্ত হতে থাকা ওপেনারকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পরদিনই এমন নির্ভার ব্যাটিং করতে দেখা যাবে কেন! এক প্রান্ত আগলে রাখা ব্যাটিংয়ের ভাবনায় কুড়ি-বিশের ব্যাটিংয়েও মাঝখানে বহুদিন শটের ভাঁড়ার খুলে বসতে দেখা যায়নি তাঁকে। অথচ কাল রাতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে যেন সব ভুলেই মেললেন ডানা। তাসকিন আহমেদের বলে ইনসাইড আউট শটে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারা ছক্কায় তাই পুরনো ঝলকের পুরোটাই প্রকাশিত।

বিজ্ঞাপন

তা-ও আবার কোন সময়ে? যখন প্রথম চার ম্যাচে তিন হারে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়াই পড়ে গিয়েছিল গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে। তার ওপর লেন্ডল সিমন্সের করা চলতি বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ১৭৫ রান তোলা সিলেট দেয়ালে নিয়ে পিঠ ঠেকিয়েছিল আরো। এই রান তাড়ায় দাবি ছিল ঝোড়ো ব্যাটিংয়েরও। ঢাকার আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদের কাছ থেকেই সেটি প্রত্যাশিত ছিল বেশি। অন্য প্রান্তে রয়েসয়ে খেলা তামিম হবেন নীরব দর্শক, স্ট্রাইক রেটের নিম্নমুখিতার কারণে কারো তেমন পূর্বানুমানেও দোষের কিছু ছিল না। কিন্তু ঢাকার রান তাড়ার শুরু থেকেই দেখা যেতে শুরু করল অপ্রত্যাশিত ছবিটাই। যে ছবিতে বিধ্বংসী তামিমের মুগ্ধ দর্শক বরং শেহজাদই।

২৮ বলে যতক্ষণে এবারের বিপিএলের দ্রুততম ফিফটিতে পৌঁছান তামিম, ততক্ষণে শেহজাদের ব্যাটে উঠেছে মাত্র ১৪ রান! সেখান থেকে তিন অঙ্কে যেতে যেতে এই ম্যাচে সিমন্স-তামিমের সেঞ্চুরির টক্করে ঢাকার জয়ও সুনিশ্চিত হয়ে যায়। শেহজাদের (৩৯ বলে ১ ছক্কা ও ৭ চারে ৫৩) উইকেটটি হারিয়ে ৩ ওভার বাকি থাকতেই মাহমুদ উল্লাহর দলের ৯ উইকেটের জয়ে ঢাকার প্লে-অফের আশাও হালে পানি পেল আরো। ৬৪ বলে ৪ ছক্কা ও ১৭টি চারের মারে অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংসে দলকে হেসেখেলে জয় এনে দিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে তামিমের মুখেও প্রাণখোলা হাসি।

তাতে মিলিয়ে গেল সিমন্সের ৫৯ বলে করা সেঞ্চুরির হাসিও। তিন ম্যাচে এটি সিলেটের দ্বিতীয় হার। ৩৪ বলে ফিফটি করা ক্যারিবীয় ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৬৫ বলে ৫ ছক্কা ও ১৪ চারে খেলেন টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ক্যারিয়ারসেরা ১১৬ রানের ইনিংস। এই সংস্করণে এটি তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ে পাল্টা জবাব দেওয়া তামিমের হয়ে গেল এর দ্বিগুণ, যেখানে আর কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে নেই তিনটি সেঞ্চুরিও।

ফিফটি থেকে নিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে তামিমের লাগে ৩৩ বল (৬১ বলে)। এই ইনিংসটি অবশ্য একেবারে নিশ্ছিদ্র ছিল না। শূন্য রানে তাসকিনের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান মোহাম্মদ মিঠুনের সৌজন্যে। ৭১ রানে একই ওভারে দুইবার উইকেটবঞ্চিত হন মুক্তার আলীও। ক্যাচ দুটো ছাড়েন আলাউদ্দিন বাবু ও এনামুল হক। তাতে আরেকটু সাবধানী হওয়া তামিম ২০১৯ সালের বিপিএল ফাইনালেও ১৪১ রানের ইনিংসে শিরোপা জিতিয়েছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও ২০১৬-র বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেছিলেন ওমানের বিপক্ষে। ২০১৩-র ডিসেম্বরে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টিতে মোহামেডানের বিপক্ষে ইউসিবি বিসিবি একাদশের হয়ে। তখনকার তামিমের সঙ্গে গত কিছুদিনের তামিমকে মেলানো যায়নি কিছুতেই।

বহুদিন পর আবার মেলানো গেল। সেটি নিজের শহরের মাটিতে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিরতি ঘোষণার পরদিনই!



সাতদিনের সেরা