kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

আপাতত তামিমের ভাবনায় টেস্ট আর ওয়ানডে

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০২০ সালের মার্চের পর থেকে নেই তামিম ইকবাল। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে দল ঘোষণার আগেই নিজেকে সরিয়ে নেন দেশসেরা ওপেনার। গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বসে সংবাদমাধ্যমকে জানালেন এই ফরম্যাট থেকে আরো ছয় মাস দূরে থাকছেন তিনি। এর কারণ এবং তামিমের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আপাতত তামিমের ভাবনায় টেস্ট আর ওয়ানডে

শুরুর ঘোষণা...

বেশ কয়েক দিন ধরে আমার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তো, আমার কাছে মনে হয় প্রথমেই আমি একটা জিনিস বলি, আমার সঙ্গে শেষ কয়েক দিন ধরে বিভিন্নভাবে অনেক জায়গায় বৈঠক হয়েছে। বোর্ড সভাপতি, জালাল (ইউনুস) ভালো, কাজী ইনাম ভাইয়ের সঙ্গে। তাঁরা অবশ্যই চাচ্ছেন আমি চালিয়ে যাই, অন্তত বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

আমার ব্যাপারটা আলাদা ছিল। এখন সবাই মিলে যেটা ভালো হয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ছয় মাস আমি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে ভাবছি না। এই কয়েক মাস আমার পুরো ফোকাস থাকবে টেস্ট ও ওয়ানডেতে।

টি-টোয়েন্টির বিষয়টি হলো ছয় মাস আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি নিয়ে ভাবব না। আশা করি এই ছয় মাসে তরুণরা এত ভালো খেলবে...আমার আর প্রয়োজন পড়বে না। এর পরও ছয় মাস পর...আল্লাহ মাফ করুক যদি এমন সময় আসে...ক্রিকেট বোর্ড, নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্ট যদি মনে করে আমাকে দরকার, আমিও যদি তৈরি থাকি, তখন আবার এটা নিয়ে আলাপ হবে। কিন্তু এই ছয় মাস টি-টোয়েন্টি নিয়ে ভাবছি না।

ছয় মাস দূরে থাকা প্রসঙ্গে...

অনেক ক্রিকেটারই টি-টোয়েন্টি আগে ছেড়েছেন। ওয়ানডে আমাদের সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট, আমিও খুব উপভোগ করি। টেস্ট ক্রিকেট এমন একটি ফরম্যাট, যখন থেকে ক্রিকেটের ব্যাট ধরা শুরু করি, তখন দুটো ইচ্ছা ছিল। এক হচ্ছে বাংলাদেশের হয়ে খেলব এবং টেস্ট ক্রিকেট। আপনারা (সংবাদকর্মী) জানেন টেস্ট ক্রিকেটের মূল্য কতটা। হয়তো এই ফরম্যাটে আমরা খুব শক্তিশালী দল না। কিন্তু টেস্টে একটি সেঞ্চুরি বা ফিফটি করার মূল্য অন্য রকম। আমি যত দিন সম্ভব টেস্ট খেলে যেতে চাই। আমার বয়স এখন ৩৩। ৩৪-৩৫ বছর বয়সে অনেকের টেস্ট অভিষেক হয়। তারা আরো পাঁচ বছর খেলে। আমার এখনো চার বছর আছে ভালো ক্রিকেট খেলার। পারফরম্যান্স এবং ফিটনেস ঠিক থাকলে আরো চার-পাঁচ বছর খেলব।

তরুণদের সুযোগ...

ওদের (তরুণদের) যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া দরকার। এক-দুই সিরিজের ওপর ভিত্তি করে ওদের ওপর আস্থা হারালে সেটা ভুল। আমরা যারা সিনিয়র আছি, আমাদেরও এমন অসংখ্য সময় গেছে—দু-তিনটি সিরিজ ভালো খেলিনি। এরপর আবার টানা তিনটি সিরিজ ভালো খেলেছি। আমি নিশ্চিত আমার জায়গায় যারা খেলছে, তারা ভালো খেলবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত, ছয় মাস পর আমার আর দরকার হবে না। এর পরও বললাম বিশ্বকাপের আগে বোর্ড বা আমি মনে করলে ফিরব। তবে এই মুহূর্তে এটা নিয়ে ভাবছি না।

স্ট্রাইক রেটসংক্রান্ত সমালোচনার জবাবে...

মাঠের বাইরে কী আলোচনা হচ্ছে, এটা নিয়ে ভাবলে খেলাটা কঠিন হয়ে যাবে। আমি কী করছি, কী করিনি—এসব নতুন কিছু না। আমি খোলা বইয়ের মতো। অত কিছু ভাবি না। আমার কাছে যেটা বললাম, প্রায়োরিট টেস্ট আর ওয়ানডে। ওখানেই পুরো ফোকাস দিতে চাই।

ব্যক্তিগত পরিকল্পনা...

আমি এখন যেটা বলেছি, সেটায়ই স্ট্রিক্ট থাকব। বোর্ডকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা—তারা ডেকে বলেছে তাদের পরিকল্পনা কী। সব মিডিয়ায় এসে বলা ঠিক না। কিছু বিষয়ে আমার ও বোর্ডের মধ্যে কথা হয়েছে। পাপন ভাই (বোর্ড সভাপতি) ও জালাল ভাই (ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান) গত কয়েক দিন আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন। বোঝার চেষ্টা করেছেন আমার অবস্থানটা কী। আর পরের ছয় মাসে কী হবে...। আমাদের যারা টি-টোয়েন্টিতে ওপেন করছে, তাদের সব ধরনের সামর্থ্য আছে। আমি নিশ্চিত তারা ভালো করবে।



সাতদিনের সেরা