kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

খেলার ধরন বদলেই সফল বিদেশিরা

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেলার ধরন বদলেই সফল বিদেশিরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ব্যাটে-বলে দুই সেরা পারফরমারের দলের এক কাতারেই থাকার কথা। কিন্তু ঢাকায় বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রথম পর্ব শেষে দেখা যাচ্ছে, সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির দল শীর্ষে থাকলেও তলানিতে সেরা ব্যাটারের ফ্র্যাঞ্চাইজি। চার দিনে আটটি ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পর পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের নাজমুল ইসলাম দুই ম্যাচে নিয়েছেন আসরের সর্বোচ্চ সাত উইকেট। তাঁর দল এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দলও।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে চার ম্যাচের তিনটিতেই হারা মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার অবস্থান পয়েন্ট তালিকায় সবার শেষে। এই দলেরই অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর নামের পাশে চার ম্যাচে ১২৬.৫৩ স্ট্রাইক রেটে সর্বোচ্চ ১২৪ রান।

ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ৪৭ রানের ইনিংসও আছে তাঁর ব্যাটে। সেই ইনিংসটিও আবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দিনে হওয়া লো-স্কোরিং ম্যাচে। প্রথম চারটি ম্যাচ ডেতেই দিনের ম্যাচ মানেই সব দলের ব্যাটাররা কমবেশি রান করতে খাবি খেয়েছেন। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যাটারদেরই সমস্যা হয়েছে বেশি। পরিসংখ্যানই বলছে সে কথা। আট ম্যাচের মধ্যে চারটি হয়েছে দিনে। বরিশালের ১২৯/৮ তাড়া করে ১৭.৩ ওভারে জেতা ঢাকার ১৩০/৬-ই দিনের ম্যাচে আট ইনিংসের মধ্যে সর্বোচ্চ। চারটি ইনিংসে দলগুলো ১২০-ও পার করতে পারেনি। দুই ইনিংসে তো তিন অঙ্ক ছুঁতে না পারারও ঘটনা আছে।

দিনের ম্যাচের রানখরা নিয়ে গত কয়েক দিনে চর্চাও কম হয়নি। ইদানীং সূর্যালোকের দেখা খুব মিলছে না বলে দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া ম্যাচেও উইকেটে ময়েশ্চার থেকে যাওয়াকেই এর কারণ বলে ধরা হচ্ছে। অবশ্য দিনের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য কোনো দল এখন পর্যন্ত মিরপুরের উইকেটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বলেও শোনা যায়নি। মাহমুদের মতো অধিনায়করা বরং নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাই বলছেন। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য দিনের ম্যাচে স্থানীয় ব্যাটারদের সেভাবে জ্বলে না উঠতে পারার পেছনে দেখছেন তাঁদের দায়ই। তাঁর কথা শুনে মনে হতে পারে, বিদেশিদের সঙ্গে স্থানীয়দের পার্থক্যটিও এখানে, ‘মানছি যে সূর্যালোক না থাকায় উইকেটে ময়েশ্চার থাকছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে উইকেট ও কন্ডিশন বুঝে ব্যাটাররাও নিজেদের খেলার ধরন বদলালে ফল পেত। এসব ক্ষেত্রে রান করার জন্য ব্যাটারকে একটু সামনে এগিয়ে খেলতে হয়। বেনি হাওয়েল অথবা উইল জ্যাকসকে দেখুন, ওরা কী করছে! ওরা সামনে বেড়ে খেলছে, যাতে বোলার সুইংটা কম পায়। এ কারণেই ওরা ওদের শটগুলো খেলতে পারছে। ’

এখন পর্যন্ত খেলা তিন ম্যাচের একটিতে দিনে ব্যাট করেছেন হাওয়েল। প্রতি ম্যাচেই ঝড় তোলা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের এই ইংলিশ অলরাউন্ডারের রান করতে সমস্যা হয়নি সে ম্যাচেও। মাহমুদের পর আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১২ রান হাওয়েলেরই। অবশ্য সন্ধ্যার ম্যাচে রান করা নিয়ে হাহাকার শোনাই যায়নি। চট্টগ্রামই যেমন খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে করেছে আসরের সর্বোচ্চ ১৯০ রান। আট ইনিংসের ছয়টিতেই দলগুলো দেড় শ পার করেছে। এক ইনিংসেই শুধু তিন অঙ্ক পার করতে না পারার ঘটনা আছে। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বে অবশ্য দিন-সন্ধ্য-নির্বিশেষে রানপ্রবাহ দেখার আশা আছে। সেটি সেখানকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের তুলনামূলক ভালো উইকেটের জন্যই।



সাতদিনের সেরা