kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

চার ম্যাচে ঢাকার তৃতীয় হার

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রথমে মালিকানা সংকটে ভুগেছে ঢাকা। পরে মালিকানা মিলেছে, নামিদামি তারকাও ভিড়েছে ড্রেসিংরুমে, কিন্তু মাঠের ফলে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা যেন প্লেয়ার্স ড্রাফট-পূর্ববর্তী অবস্থায় আটকে আছে। চার ম্যাচে গতকাল তৃতীয় হারে এখন পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে। এ অবস্থা থেকে প্লে-অফের পথ ভীষণ কঠিন হয়ে গেছে বলে মনে করছেন ঢাকার তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল।

বিজ্ঞাপন

তারকাখচিত ঢাকাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে সিলেট সানরাইজার্স।

দিনের প্রথম ম্যাচে রান ওঠে না। গতকালও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। যদিও কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশের নিচে উইকেট শুকাতে ইলেকট্রিক হিটারও গতকাল ব্যবহার করা হয়। তবে প্রত্যাশিত অ-টি-টোয়েন্টিসুলভ ম্যাচের আলো হয়ে মাঠে ফিরেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ৪০২ দিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে ফিরেই দুই উইকেট নিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক। মামুলি লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে নামা দলের বিপরীতে ২১ রানে ২ উইকেট যথেষ্টই ভালো। সঙ্গে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফেরার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বোলার মাশরাফি ১০-এ ৮ পেতেই পারেন।

কিন্তু তাঁর দল ঢাকা ডাহা ফেল! টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামার পর মোহাম্মদ নাঈম ও অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর ৪০ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি ছাড়া কোথাও প্রতিরোধের চেষ্টাও চোখে পড়েনি। তবে ৩০ বলে নাঈমের ১৫ রানকে ‘অবদান’ মনে করে কি ঢাকা? বরং লোয়ার মিডল অর্ডারে নেমে ১৬ বলে ২১ রান করে শুভাগত হোম দলে নিজের গুরুত্ব বাড়িয়ে থাকবেন। ঢাকার দুর্দশা বাড়িয়েছেন আম্পায়ারও। নাজমুল ইসলাম অপুর বল প্যাডের আগে ব্যাটে লাগা সত্ত্বেও এলবিডাব্লিউর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে আন্দ্রে রাসেলের বিপক্ষে। ডিআরএস নেই, তাই ক্ষোভ জানিয়েই সাজঘরে ফিরে যেতে হয়েছে এই ক্যারিবীয়কে। ৮ বল বাকি থাকতে ১০০ রানে গুটিয়ে যাওয়া ঢাকার ভাগ্যও আর বদলায়নি।

রান তাড়া করতে নেমে কোনো তাড়াহুড়া করতে হয়নি সিলেটকে। লেন্ডল সিমন্সকে নিজের দ্বিতীয় ওভারে মাশরাফি তুলে নেওয়ার পর ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে সিলেটকে পথ হারাতে দেননি এনামুল হক। মাশরাফির দ্বিতীয় শিকার হিসেবে এই টপ অর্ডার যখন আউট হন, তখন জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে সিলেট। মাশরাফির চতুর্থ ওভারের শেষ বলে দ্বিতীয় ম্যাচে নামা সিলেট প্রথম জয় নিশ্চিত করেছে।

১৮ রানে নেওয়া ৪ উইকেটে প্রতিবারই ‘পুষ্পা’ উদযাপন করেছেন নাজমুল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘এবারের জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলাম। সেখান থেকেই আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। অনুশীলনগুলোও কাজে লেগেছে। ’ নিজের সাফল্যে উইকেটের সাহায্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার, ‘উইকেটে কিছু হেল্প ছিল। উইকেটে হিট করলে হয় বল থেমেছে, নয়তো লাফিয়েছে। ’ তবে বিজিত দলের প্রতিনিধি তামিম ইকবাল দুষছেন নিজেদেরই, ‘আজ উইকেট অত খারাপ ছিল না। অন্তত ১০০ করার মতো না। ’ ‘তিনটি ম্যাচ হেরেছি। যেটা জিতেছি, সেটাও ভাগ্যগুণে। আমাদের বোলিং ভালো হচ্ছে, কিন্তু ব্যাটিং হচ্ছে না। এখান থেকে কোয়ালিফাই করতে হলে আমাদের দল হিসেবে ভালো খেলতে হবে’, মনে করছেন তামিম।  

ঢাকা ১৮.৪ ওভারে ১০০/১০ (মাহমুদ ৩৩; নাজমুল ৪/১৮, তাসকিন ৩/২২)। সিলেট ১৭ ওভারে ১০১/৩ (এনামুল ৪৫, ইনগ্রাম ২১*; মাশরাফি ২/২১)। ফল : সিলেট ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : নাজমুল ইসলাম (সিলেট)।



সাতদিনের সেরা