kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

৪০২ দিন পর

দুপুরে খরা আর সন্ধ্যায় রানবন্যা

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুপুরে খরা আর সন্ধ্যায় রানবন্যা

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুপুরে রানখরা তো সন্ধ্যায় ফোয়ারা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রথম তিনটি ম্যাচ ডে পেরিয়েছে এভাবেই। দিনের প্রথম ম্যাচে রান করতে যেখানে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে ব্যাটারদের, সেখানে কৃত্রিম আলোয় আবার রানের প্লাবন। একই মাঠের পাশাপাশি উইকেটে দুই বেলায় দুই রকম ম্যাচই হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল চতুর্থ দিনের প্রথম ম্যাচটিও আগের তিন দিনের ধারা মেনেই এগিয়েছে। যথারীতি লো স্কোরিং ম্যাচই।

এসব ক্ষেত্রে সাধারণত উইকেটই দলগুলোর সুরক্ষার ঢাল হয়ে ওঠে। নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে উইকেটের চাল-চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়াটা খুব নিয়মিত ব্যাপারই ছিল। সেদিক থেকে এবারের বিপিএলকে বেশ ব্যতিক্রমই বলতে হয়। কারণ এবার ব্যাটার থেকে শুরু করে কোচ, প্রত্যেকেই দায় নিচ্ছেন নিজেদের ওপরই। গতকাল সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ১০০ রানে অল আউট হওয়া মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার ওপেনার তামিম ইকবালও নিলেন, ‘ভালো খেলছি না আমরা, এটাই একমাত্র কারণ। চার ম্যাচের মধ্যে যেটিতে জিতেছি, সেটিও সৌভাগ্যবশত জিতেছি। আমাদের বোলিং ভালো হলেও ব্যাটিং মোটেও তা হচ্ছে না। এখানে উইকেট বা অন্য কিছুকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমি বলব, এর আগে দুপুরে যে ম্যাচগুলো হয়েছে, সে তুলনায় উইকেট আজ আরো ভালো ছিল। ’

দুপুরের ম্যাচে এই ‘ভালো উইকেটে’ও খাবি খাচ্ছে দলগুলো। বিশেষ করে আগে ব্যাট করা দলের ভাগ্যে অবধারিত হারই লেখা হচ্ছে। অবশ্য বিজয়ী দলকেও বেশ কাঠখড় পুড়িয়েই জিততে হচ্ছে। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই যেমন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে মাত্র ১২৫ রানে থামানো ফরচুন বরিশালেরও ৪ উইকেটে জিততে ঘাম ছুটে গেছে। পরদিন এর চেয়েও বাজে অবস্থা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। সিলেট সানরাইজার্সের ৯৬ রান তাড়া করে জিততে তারা হারায় ৮ উইকেট। তৃতীয় দিন বরিশালের ছুড়ে দেওয়া ১৩০ রানের লক্ষ্যে ৬ উইকেট হারানো ঢাকা বরং একটু সহজেই পৌঁছায় আন্দ্রে রাসেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে। গতকাল সেই ঢাকার বিপক্ষেই সিলেটের ৭ উইকেটের জয়ও ১৭তম ওভারে গিয়ে।

কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? উইকেট দুপুরে রানপ্রবাহে বাদ সাধছে তো সন্ধ্যায় ছাড়ও দিচ্ছে কী কারণে? একেবারে ব্যাখ্যাতীত কোনো ব্যাপার নয়। বরং দুই বেলায় উইকেটের দুই রকম আচরণে আবহাওয়ারও যোগ আছে অনেকটা। এমনিতে সাতসকালে পানি দিয়ে উইকেট রোল করা হয়। কিন্তু রোল করার পর সে পানি পুরোপুরি শুকাচ্ছে না। কারণ গত কিছুদিন ধরেই প্রখর সূর্যালোক অনুপস্থিত। দুপুরেও কিছুটা অন্ধকার হয়ে থাকছে আকাশ।

তাই পানি ভালোভাবে না শুকানোয় উইকেটে ময়েশ্চার বা আর্দ্রতা থেকেই যাচ্ছে। সুবাদে পেস বোলাররা পেয়ে যাচ্ছেন আদর্শ কন্ডিশন। কাল তো হিটার দিয়েও উইকেট শুকানোর চেষ্টা করলেন মাঠকর্মীরা। উইকেটের এই ভেজা ভাব থাকায় বল কখনো কখনো থেমেও ব্যাটে যায়। দুয়েমিলেই দুপুরের ম্যাচে ব্যাটারদের কাজ কঠিন হয়ে উঠছে।

সন্ধ্যার ম্যাচে তা আবার সহজ হয়ে যাওয়ার পেছনেও প্রকৃতি। ওই সময়ে শিশিরের কারণে বোলারদের বল গ্রিপ করতে যেমন সমস্যা হয়, তেমনি বল স্কিড করায় ব্যাটারদের ব্যাটেও খুব ভালো যায়। তাই দুপুরে ম্যাচ খেলে ভোগা দল সন্ধ্যায় খেলতে নেমেই আবার দাঁড় করাচ্ছে বিশাল সংগ্রহ। বিপিএলে আগের তিন দিনে প্রথমে ব্যাট করা দলের স্কোরগুলো দেখুন—১৮৩, ১৬১ ও ১৯০! আসরের উদ্বোধনী দিন ১৮৩ রান করেও খুলনা টাইগার্সের কাছে হারা ঢাকার অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ তাই কালকের ব্যাটিং বিপর্যয়ে উইকেটকে অভিযুক্ত করলেন না, ‘উইকেট খুব ভালো ছিল। এটি নিয়ে কোনো অভিযোগই নেই। আমাদের ব্যাটিংটাই বরং হতাশাজনক ছিল। ’



সাতদিনের সেরা