kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

হকি ফেডারেশন

উল্টো দেনার ভারে ন্যুব্জ হকি

সনৎ বাবলা   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকি আয়োজন করে দেনার দায়ে পড়েছে বাংলাদেশ হকি। অবিশ্বাস্যভাবে সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার চুক্তি করে এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টটি ঢাকায় আয়োজন করেছে ফেডারেশন। এমন এক টুর্নামেন্ট করে দেশের হকির কী লাভ হয়েছে, এই প্রশ্ন উঠেছে হকি ফেডারেশনের অন্দরমহল থেকেই।

গত ডিসেম্বরে ঢাকায় হয়েছে এই হকি টুর্নামেন্ট।

বিজ্ঞাপন

এশিয়ান হকি ফেডারেশনের এই টুর্নামেন্টের শর্তই ছিল যাবতীয় খরচের ভার আয়োজকদের। সেই ভার বহন করে এখন ন্যুব্জ দেশের হকি। ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ খুব হতাশা নিয়ে বলেছেন, ‘যাদের টুর্নামেন্ট (এএইচএফ) তাদের কাছ থেকে একটি টাকাও পাওয়া যাবে না, এ রকম কোনো টুর্নামেন্ট বিশ্বে কোথাও হয়েছে কি না আমার জানা নেই। টাইটেল স্পন্সর, টিভি স্বত্ব, এমনকি বিলবোর্ড থেকেও এক টাকা আয় করতে পারবে না আয়োজকরা। আমার সাধ্য থাকলে এই টুর্নামেন্ট বাতিল করে দিতাম। এখনো লাখ লাখ টাকা দেনার মধ্যে আছে ফেডারেশন। ’

ফিফা-এএফসির কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজক হলে বাংলাদেশকে আয়োজনের সব টাকাই পাঠিয়ে দেয় তারা। সব খরচ করার পরও ফেডারেশনের কোষাগার স্ফীত হয়। ক্রিকেটে তো আয়ের খাত আরো বেশি। কিন্তু হকিতে এই প্রথম শোনা গেল, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস হকির সব খরচ আয়োজকদের, এমনকি এএইচএফ (এশিয়ান হকি ফেডারেশন) কর্তাদের বিমান ভাড়া ও থাকা-খাওয়ার খরচও জুগিয়েছে ফেডারেশন।

এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্ট আয়োজক হওয়ার জন্য এএইচএফ-কে ৮০ হাজার ডলার দিতে হয়েছিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে! এরপর টুর্নামেন্ট চলাকালীন ঢাকায় এএইচএফের প্রধান নির্বাহী তৈয়ব ইকরামের কাণ্ডকীর্তি দেখে বিরক্ত হয়েছিলেন অনেক কর্মকর্তা। টুর্নামেন্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ম্যাচ অফিশিয়াল নিয়ে আসেন তিনি। অকারণে আর্জেন্টিনা থেকে এনেছিলেন এক ম্যাচ অফিশিয়াল। তা ছাড়া এএইচএফের ১৯ কর্মকর্তার ঢাকায় আসারই দরকার কী ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বিমানভাড়া থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়া সব মিলিয়ে তৈয়ব ইকরাম ঢাকায় বসিয়েছিলেন এক লুটের রাজত্ব। এ অবস্থা দেখে ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা বিভিন্ন দেশে খবর নিয়ে বলছেন, ‘বাংলাদেশ হকি স্রেফ তৈয়ব ইকরামের ফাঁদে পড়েছে। মালয়েশিয়া, ওমান, ভারত ও পাকিস্তান কখনো টাকা দিয়ে টুর্নামেন্ট করেনি। এ দেশের কর্মকর্তাদের ঘোল খাইয়েছেন এশিয়ান হকির ওই নির্বাহী কর্মকর্তা। ’

তৈয়ব ইকরামের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাকিস্তানে। নাগরিকত্ব ম্যাকাউয়ের আর এশিয়ান হকির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেন মালয়েশিয়ায় এএইচএফের সদর দপ্তরে বসে। তাঁর সঙ্গে এশিয়ান হকির কমিটিতেই আছেন বাংলাদেশের দুই কর্মকর্তা—রশীদ সিকদার ও সাজেদ আদেল। সংগত কারণে প্রশ্ন ওঠে, এই দুজন কী করেছিলেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের জবাব, ‘তাঁদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন, আগের সাধারণ সম্পাদক মুমিনুল হক সাঈদ চুক্তি করেছিলেন। ’ ‘দেশান্তরি’ মুমিনুলের ওপর দায় চাপিয়ে এএইচএফের দুই বাংলাদেশি সদস্য পার পেতে চাইছেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট চলাকালীন তৈয়ব ইকরামের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা কারো নজর এড়ায়নি।

পুরো টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের খরচ হয়েছে দুই কোটি ১০ লাখ টাকা। জাতীয় দলের জন্য পাওয়া স্পন্সরশিপ মানি এক কোটি ২০ লাখ টাকা ফেডারেশন খরচ করেছে টুর্নামেন্ট খাতে। বাকিটা এখনো তাদের দেনা।

দেনা মেটাতে হকির স্থায়ী আমানত ভাঙিয়ে দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, হকি ফেডারেশনের সভাপতি বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান এই টুর্নামেন্টের পেছনে বিপুল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফেডারেশনের পরবর্তী সভার মূল এজেন্ডা নাকি এই দেনা পরিশোধের উপায় খুঁজে বের করাই!



সাতদিনের সেরা