kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

ক্যারিবীয় ছন্দের কাটাকুটির ম্যাচ ঢাকার

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্যারিবীয় ছন্দের কাটাকুটির ম্যাচ ঢাকার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কাজ চালাতে থাকল দুই দলই। আর সেগুলো সবই ক্যারিবীয় কাঁটা। ফরচুন বরিশালের একাদশে যেমন তিন বিদেশির প্রত্যেকের ঠিকানাই দূর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ। অতজন না হলেও মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকারও একজন ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আন্দ্রে রাসেল।

পুরো মহিমায় দেখা না দিলেও বরিশালের ক্রিস গেইল ঢাকায় এসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খেলতে নেমে গিয়ে তবু কিছুটা ছন্দ ধরলেন। এর সঙ্গে ব্যাটে-বলে ডোয়াইন ব্রাভো এবং বোলিংয়ে আলজারি জোসেফও কিছুটা। তাই লো স্কোরিং ম্যাচেও ঢাকাকে চেপে ধরা গেল। জয়ের জোরালো সম্ভাবনাও তৈরি করল বরিশাল, কিন্তু শেষে এসে ঢাকার রাসেল এমন তোপ দাগলেন যে ম্যাচ শ্বাসরুদ্ধকর সমাপ্তির দিকেও আর এগোল না।

ক্যারিবীয় ছন্দের এই কাটাকুটি খেলায় ১৫ বল বাকি থাকতে ঢাকার ৪ উইকেটের জয় তাই একরকম সহজই হলো। তবে শুরুর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে সেই জয়ের ভিত গড়ার কারিগর অবশ্য দুজন স্থানীয় ব্যাটার। তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পাওয়া ঢাকার ত্রাণকর্তা অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর সঙ্গে শুভাগত হোমও। ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর তাঁদের ব্যাটে ৬৯ রানের জুটি না হলে ঢাকা শিবিরে জয়ের ভাবনা উঁকিই দিতে পারত না। সেই জুটি ভাঙার পর রাসেলের পাশাপাশি মাহমুদও চড়াও হন প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর। ম্যাচসেরা মাহমুদের ৪৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে দ্বিতীয় ম্যাচে এসে প্রথম হারের স্বাদ পায় সাকিব আল হাসানের বরিশালও।

ঢাকার মতো তাদের শুরুও ছিল ভীতি-জাগানিয়া। সৈকত আলী ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে সাবধানী ব্যাটিংও করছিলেন। তবে এই ওপেনিং জুটি ভাঙতে না ভাঙতেই লণ্ডভণ্ড হওয়ার মতো অবস্থা বরিশালের। শুভাগত আর হাসান মুরাদ মিলে দুজনকে তুলে নেওয়ার পর তৌহিদ হূদয়কে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রাসেলও। ২৩ রানেই ৩ উইকেট হারানো দল এরপর দিশা খুঁজে পায় সাকিব ও গেইলের ব্যাটে। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এই জুটি। সাকিবকে (১৯ বলে ২৩) ফিরিয়ে রুবেল জুটি ভাঙার পর নুরুল হাসানও (১) ফেরার পথ ধরেন দ্রুতই। এবার ৩০ বলে দুই ছক্কা আর তিন চারে ৩৬ রান করা গেইলের সঙ্গে জমে যান আরেক ক্যারিবীয় ব্রাভো (২৬ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৩৩*)। যদিও মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে আগের দুই দিনের ধারা ভেঙে দলকে বড় সংগ্রহও এনে দিতে পারেননি।

২৭ রানে দুই উইকেট নিয়ে ঢাকার সফলতম ব্যাটার রাসেল নামার আগেই দলকে জয়ের পথ দেখায় মাহমুদ-শুভাগত জুটি। অথচ এর আগে বিপিএলে অভিষিক্ত তরুণ বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলাম ও ক্যারিবীয় জোসেফের জোড়ায় জোড়ায় শিকার করুণ হাল করে ঢাকার। শুভাগতকে (২৫ বলে ২৯) ফিরিয়ে ব্রাভো আবার বরিশালকে ম্যাচে ফেরানোর সম্ভাবনা জাগালেও তা শেষ করে দেন রাসেল। ১৫ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৩১ রানের হার না মানা ইনিংসে জয় দ্রুতগামী করেন এই ক্যারিবীয়, দুই দলের স্কোর সমান করে দিয়ে যাওয়া মাহমুদ ৪৭ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৪৭) ফিফটি বঞ্চনায় পুড়লেও দলের জয়ে তা বিলীনও হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফরচুন বরিশাল : ২০ ওভারে ১২৯/৮ (গেইল ৩৬, ব্রাভো ৩৩*, সাকিব ২৩, সৈকত ১৫; রাসেল ২/২৭, উদানা ২/২৯, রুবেল ১/৮, শুভাগত ১/১৯, হাসান ১/১২, মাহমুদ উল্লাহ ১/৩১)। মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা : ১৭.৩ ওভারে ১৩০/৬ (মাহমুদ উল্লাহ ৪৭, রাসেল ৩১*, শুভাগত ২৯; শফিকুল ২/২০, জোসেফ ২/৩৪, ব্রাভো ১/১৬, সাকিব ১/২১)। ফল : ঢাকা ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : মাহমুদ উল্লাহ (ঢাকা)।



সাতদিনের সেরা