kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

টি-টোয়েন্টির ওপেনারদের হালচাল

স্ট্রাইক রেট সংকটে বাংলাদেশ

২০১৮ সালের ৮ মার্চ থেকে নিজের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার মাঝখানেই তামিমের বাড়তি ডট বল খেলা এবং স্ট্রাইক রেট নিয়ে ফিসফাসটা সমালোচনার তুঙ্গে পৌঁছেছে বেশি। অথচ এই সময়ে খেলা ১৮ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর গড় (২৬.২২) ও স্ট্রাইক রেট (১২১.৩৩) পুরো ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের চেয়েই (৭৮ ম্যাচে ২৪.০৮ ও ১১৬.৯৬) বেশি।

মাসুদ পারভেজ   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্ট্রাইক রেট সংকটে বাংলাদেশ

ধীরগতির ব্যাটিংয়ের দুর্নাম ক্যারিয়ার শেষেও বহুকাল বয়ে বেড়িয়েছেন জাভেদ ওমর। অবসরে যাওয়ার পরও সেটি ঘোচানোর তৎপরতা থেমে ছিল না বাংলাদেশ দলের সাবেক এই ওপেনারের। সাংবাদিকদের তাই দিয়ে বসতেন ‘স্ট্রাইক রেট চ্যালেঞ্জ’ও। ওপেনিংয়ে দলের পছন্দে তাঁর চেয়ে সব সময়ই এগিয়ে থাকা দুই নাম মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেনদের তুলনায় যে খুব পিছিয়ে নন তিনি, পরিসংখ্যান দিয়েই সেটি প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়তেন, ‘ওদের স্ট্রাইক রেট দেখুন, দেখুন আমারটাও।

বিজ্ঞাপন

এমন যদি হতো যে ওরা অনেক এগিয়ে, তাহলেই মানতাম আমি সত্যিই ধীরে ব্যাটিং করি। ’

পরিসংখ্যান কখনোই অন্য দুজনকে খুব মারকুটে বলেও মনে করায়নি। জাভেদের (৫১.৮৯) সঙ্গে শাহরিয়ার (৫৩.০৭) ও মেহরাবের (৫৮.৮৪) পার্থক্যটাও উনিশ-বিশই ছিল। এত বছর পর ক্রমেই জনপ্রিয়তার চূড়ায় পৌঁছে যেতে থাকা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যখন স্ট্রাইক রেটই একজন ব্যাটারের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য শেষ কথা বলে বিবেচিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেটারদের হালচালও পরিসংখ্যানের নিক্তিতে একটু মেপে নেওয়া যাক। এই সংস্করণে স্ট্রাইক রেটের জন্য নিত্য সমালোচিত হয়ে আসা তামিম ইকবাল ২০২০ সালের ৯ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। পরিসংখ্যানের সময়কালকে তাই আপাতত দুই ভাগে ভাগ করা যাক। শেষ ম্যাচ খেলার আগের দুই বছরে তামিম কেমন করেছেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে পরের দুই বছরে বাংলাদেশের হয়ে ওপেন করা অন্যদের স্ট্রাইক রেটই বা কেমন!

২০১৮ সালের ৮ মার্চ থেকে নিজের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার মাঝখানেই তামিমের বাড়তি ডট বল খেলা এবং স্ট্রাইক রেট নিয়ে ফিসফাসটা সমালোচনার তুঙ্গে পৌঁছেছে বেশি। অথচ এই সময়ে খেলা ১৮ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর গড় (২৬.২২) ও স্ট্রাইক রেট (১২১.৩৩) পুরো ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের চেয়েই (৭৮ ম্যাচে ২৪.০৮ ও ১১৬.৯৬) বেশি। অবশ্য এই সংস্করণে সেটিও খুব উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। তামিমহীন সময়টিতে অন্যরাও কি পেরেছেন নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে কিংবা টি-টোয়েন্টি উপযোগিতায় বিশ্বমানে পৌঁছতে?

পরিসংখ্যানে আছে এসব প্রশ্নের উত্তরও। ২০২০ সালের ১১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২৭টি ম্যাচ খেলা নাঈম শেখ ওপেন করেছেন সব ম্যাচেই। সবচেয়ে বেশি ১৪ ম্যাচে দেখা গেছে তাঁর সঙ্গে লিটন কুমার দাসের ওপেনিং জুটি। আট ম্যাচে তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন সৌম্য সরকারও। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে এই তিন ওপেনারেরই গড় ও স্ট্রাইক রেট তাঁদের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের চেয়ে কমেছে। ৩২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে নাঈমের গড় ২৫.৬১ ও স্ট্রাইক রেট ১০৫.০২ হলেও সর্বশেষ ২৭ ম্যাচে তা ২৩.৩৮ এবং ১০০.১৬। এই সময়ের মধ্যে অন্য পজিশনেও ব্যাটিং করা লিটনের ১৮ ম্যাচ খেলে গড় (১৬.৭৫) ও স্ট্রাইক রেট (১০১.৯০) ৪৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারের চেয়ে কম (১৯.১৮ ও ১২২.৪৯)। ব্যতিক্রম নন সৌম্যও। ৬৬ ম্যাচ খেলে তাঁর গড় ১৮.০৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১২২.১৫ হলেও শেষ ১৭ ম্যাচে নানা পজিশনে ব্যাটিং করে তা ১৬.৯৩ ও ১১২.৯১!

তামিমের না থাকার দুই বছরে টি-টোয়েন্টিতে দলের শীর্ষ তিন তারকার পরিসংখ্যানেও নিম্নগতি। ৯৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে মুশফিকুর রহিমের স্ট্রাইক রেট ১১৫.৩৫ হলেও ২০২০ সালের ১১ মার্চ থেকে খেলা ১৪ ম্যাচে তা কমে নেমেছে ৯০.৫৯-এ। একই সময়ে ১৮ ম্যাচ খেলা সাকিব আল হাসানের স্ট্রাইক রেট (১০৬.৮৬) তাঁর ৯৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারের চেয়ে (১২০.৪৮) বেশ কম। ১১৩ ম্যাচ খেলা মাহমুদ উল্লাহরও তা-ই। অন্য দুই তারকার মতো তাঁরও ২৭ ম্যাচ খেলে গড় (২৩.৬১) ও স্ট্রাইক রেট (১০৫.৩০) কমেছে ক্যারিয়ারের চেয়ে (২৪.০৩ ও ১১৭.৮৮)।

আদতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে আদর্শ স্ট্রাইক রেট বলতে যা বোঝায়, তা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারেরই নেই!



সাতদিনের সেরা