kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

প্রশ্ন সংগঠকদের নিয়ে

নির্বাচন কি শাটলারদের অভয় দিচ্ছে?

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টনে নির্বাচনী দৌড়ঝাঁপ দেখলে মনে হয় খেলাটিকে উদ্ধার করতে নেমেছে একদল মানুষ। অথচ কোনো না কোনো সময় তাদের হাতেই ক্ষয়ে গেছে দেশের জনপ্রিয় খেলাটি। ক্ষয়ের পাশাপাশি এটি ভয়ের ক্ষেত্রও হয়ে উঠেছে মেয়ে শাটলারদের জন্য। কিছু কর্মকর্তার চারিত্রিক স্খলন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মেয়েরা এই খেলায় জাতীয় পর্যায়ে নাম লেখাতেই ভয় পায়।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী ডামাডোল এখন ব্যাডমিন্টনে। একদিকে ফোরাম সমর্থিত আমির হোসেন বাহারের প্যানেল, অন্যদিকে জোবায়েদুর রহমান রানার সঙ্গে আরেক দল। দুই প্যানেলের মধ্যে আছে তৃতীয় একটি পক্ষও, যারা নানাভাবে দেন-দরবার করছে। এর পরও যে ব্যাডমিন্টনের চেহারা বদলাবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের সভাপতি আ জ ম নাছির উদ্দীনও খেলাটির দুর্দশা অনুভব করেন, ‘ব্যাডমিন্টন এ দেশের পাড়া-মহল্লার খেলা, সুবাদে এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। অন্যান্য খেলার তুলনায় এটিই উজ্জ্বল থাকার কথা; কিন্তু হয়েছে উল্টো। এর চেহারা ফেরানোর জন্য সবাই মিলেমিশে যোগ্য সংগঠক দিয়ে একটি কমিটি করতে পারলেই ভালো। ’ আগামী ২৬ তারিখ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই স্পষ্ট হবে মিলেমিশে কমিটি, নাকি ভোটাভুটি।

মাঠের পারফরম্যান্সে ওরকম কিছু অর্জন নেই বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টনের। ভারত ও শ্রীলঙ্কা তো বটেই এমনকি নেপালের বিপক্ষেও ফিরতে হয় হারের গ্লানি নিয়ে। ফেডারেশন কর্তাদেরই তাতে বড় দায়। ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সাজিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগও আছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগও জমা পড়েছে।

আরো ভয়ংকর হলো মেয়ে শাটলাররা জাতীয় ব্যাডমিন্টনে এসে নিরাপদ বোধ করেন না। সাবেক কমিটি সদস্য জাহিদুল হক কচির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেছিলেন শাটলাররা। সুখবর হলো কচি এবার কাউন্সিলর হননি। এর পরও একটি প্যানেলে এ রকম দুই বিতর্কিত সাবেক খেলোয়াড়কে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের কারণে খেলা ছেড়ে দিতে হয়েছিল মহিলা বিভাগের এক জাতীয় চ্যাম্পিয়নকে! তাঁদের সঙ্গে সখ্য না গড়লে প্রতিভাবানকেও সামনে এগোতে দেন না। একবার সখ্য হলে তার ভিডিও ধারণ করে চলতে থাকে ব্ল্যাকমেইল! এখনো এক ব্যাডমিন্টন কোচের বিরুদ্ধে চলছে মেয়ে শাটলার ধর্ষণের তদন্ত।

এই চক্রের হাত থেকে ব্যাডমিন্টনকে রক্ষা করতে দরকার দক্ষ নারী সংগঠকসহ একটি কমিটি। কিন্তু দুই প্যানেল মেলালে নারী মাত্র তিনজন—সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা কামরুন নাহার ডানা, কামরুন্নেসা আশরাফ দীনা ও পুলিশের তাফতুন নাসির। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও মনে করেন কমিটিতে মহিলা সংগঠকের অন্তর্ভুক্তি খুব দরকার, ‘নারীদের অংশগ্রহণ আরো বেশি হওয়া উচিত ক্রীড়াঙ্গনে। সেই ভাবনা থেকে পুলিশের এক নারী অফিসারকে ক্রীড়া পরিষদ থেকে কাউন্সিলর দেওয়া হয়েছে। ডানা আপাও দক্ষ সংগঠক। তাঁরা নির্বাচনে জিতে আসতে পারলে অবশ্যই খেলাটির উপকার হবে। ’ কিন্তু দুই পক্ষ হয়ে তাঁরা নির্বাচন করলেও খেলাটির উপকারের কথা ভাবছেন কতজন!



সাতদিনের সেরা