kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

বিমর্ষ কেসরিক

দুই ওয়াইডে রোমাঞ্চ শেষ!

উইলিয়ামস বল না উইকেট না ব্যাটারের পাঁজর সোজা—কোনোটিই করেননি। উল্টো পর পর তাঁর দুটি ওয়াইড বলে দুই উইকেটে হার নিশ্চিত হয়েছে সিলেট সানরাইজার্সের। সঙ্গে সঙ্গেই ক্রিকইনফোতে একজনের মন্তব্য, ‘ওয়াইড দুটি ইচ্ছাকৃত ছিল না তো?’

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই ওয়াইডে রোমাঞ্চ শেষ!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কেসরিক উইলিয়ামস। গতকাল প্রথম ম্যাচে এই ক্যারিবীয় পেসার যখন ১৯ নম্বর ওভারটি করতে আসেন, তখন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের দরকার ১২ বলে ৬ রান। টি-টোয়েন্টির এই যুগে এটা প্রাথমিকের পাঠও না। কিন্তু ম্যাচ পরিস্থিতি পুরো উল্টো।

বিজ্ঞাপন

কুয়াশাচ্ছন্ন পড়ন্ত বিকেলের মতোই বিপন্ন কুমিল্লা। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন আর তানভির ইসলাম ক্রিজে যে তখন। উইলিয়ামস বল না উইকেট না ব্যাটারের পাঁজর সোজা—কোনোটিই করেননি। উল্টো পর পর তাঁর দুটি ওয়াইড বলে দুই উইকেটে হার নিশ্চিত হয়েছে সিলেট সানরাইজার্সের। সঙ্গে সঙ্গেই ক্রিকইনফোতে একজনের মন্তব্য, ‘ওয়াইড দুটি ইচ্ছাকৃত ছিল না তো?’

সাধারণত অনুসারীদের এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য পেজে দেয় না ক্রিকেটের জনপ্রিয়তম ওয়েবসাইটটি। তবু কেন এই মন্তব্যটি ওয়েবসাইটটির সম্পাদকীয় নীতি অনুমোদন দিল? হতে পারে দূর থেকে তারাও হয়তো ম্যাচ ভেন্যু মিরপুরের প্রেসবক্সে কান পেতে থাকবেন, যেখানে জমে ওঠা নাটুকে ম্যাচের ১৯তম ওভারে কেসরিকের অর্থহীন বোলিং বিস্ময় ছড়িয়েছে! আদতে এটাই বিপিএল। ক্রিকেট অনিশ্চয়তার রোমাঞ্চ যেখানে উড়ে যায় অবিশ্বাসের জলোচ্ছ্বাসে।

টস হেরে সিলেটের ৯৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর কুমিল্লার হামাগুড়ি দিয়ে অতিক্রম করা ম্যাচে ক্রিকেটীয় উপাদানও কিন্তু কম নেই। এত অল্প পুঁজি আগলে রাখতে নেমে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন সিলেটের বোলাররা। মাত্র তিনটি ওয়াইড। প্রথমটি ম্যাচের প্রথম বলে। আর বাকি দুটির গল্প তো শুরুতেই বলা হয়েছে। ফিল্ডিংয়েও প্রায় নির্ভুল ছিল সিলেট। রবি বোপারা দুর্দান্ত দুটি ক্যাচ নিয়েছেন। ফাফ দু প্লেসির বিপিএল অভিষেকও ভালো হয়নি সোহাগ গাজীর দারুণ রিটার্ন ক্যাচে। একটি ক্যাচই ফেলেছে সিলেট সানরাইজার্স, সেই ক্যাচটি আবার পড়েছে উইলিয়ামসের হাত থেকেই!

কাকতালীয় ব্যাপার। প্রথম দিনের প্রথম ম্যাচ লো স্কোরিং হয়েছিল। গতকালও তা-ই। যদিও টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেটের ব্যাটারদের প্রতি যথেষ্টই কৌতূহল ছিল। বিশ্বখ্যাত পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডকে উড়িয়ে কী মোক্ষলাভ করেছে, সেটি তো কৌতূহলোদ্দীপকই। কিন্তু সেই কৌতূহল দুপুরের ঘোলা আকাশে মিশে যেতে দেরি হয়নি। কুমিল্লার অফস্পিনার নাহিদুলকে কাট শটে তিনবারের চেষ্টায় উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন এনামুল হক বিজয়। একই বোলারকে ডাউন দ্য উইকেটে তুলে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ মিঠুন সাজঘরে ফিরেছেন পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে। পাওয়ার হিটিংয়ে যা নমুনা দেখা গেছে, তা কলিন ইনগ্রামের ব্যাটে। তিন বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ২০ রান করেছেন তিনি। তবে এটা কে না জানে যে বিধ্বংসী ব্যাটিং সামর্থ্যের কারণে ইনগ্রামের ছোটবেলায় দাদির দেওয়া ‘বুলডোজার’ নামটা ক্রিকেট সার্কিটেও বহাল আছে। চার-ছক্কার জন্য তাঁর বিশেষ কোনো তালিমের দরকার নেই। আর কোনো কোচ উড়ে এসেই সব শিখিয়ে দেবেন, এই প্রত্যাশাও বাড়াবাড়ি। তবু শুরুর দিন কয়েক আগে ঘটা করে বিদেশি কোচ আনে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। এসবে কিছু প্রচারণা মেলে, আসল কাজটা হয় না।

তো, ইনগ্রামসহ ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানো সিলেটের রক্ষাকবচ হতে পারতেন ইংলিশম্যান বোপারা কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু দলকে ৫৮ রানে রেখে এই দুজনের বিদায়ের পর জানা হয়ে যায় সিলেটের ভবিতব্য। শেষমেশ ‘সেঞ্চুরি’ আর ছোঁয়া হয়নি চায়ের দেশের। কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস সাত বোলার ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে একজনের নামের পাশেই কোনো শিকার নেই, আরিফুল হক। এক বিপিএল চমকে দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটিয়ে ফেলা এই পেসার অলরাউন্ডার ব্যাটেও ব্যর্থ হয়েছেন গতকাল। নাজমুল ইসলাম অপুর সোজা বলে বহু দূরে ব্যাট রেখে তাঁর আউটটিই কুমিল্লাকে আকস্মিক চাপে ফেলে দেয়। ২০ রানে দুই উইকেট নেওয়া নাহিদুল মহামূল্য ১৬ রান করে সেই চাপ কিছুটা সামাল দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন।

তবে গতরাতে কেসরিক উইলিয়ামসকে কোনো সৌজন্য কেক উপহার পাঠিয়েছে কি না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, তা জানা যায়নি!



সাতদিনের সেরা