kalerkantho

শুক্রবার ।  ২০ মে ২০২২ । ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩  

টি-টোয়েন্টিই এখন দু প্লেসির জীবন

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চারপাশে সতীর্থদের বাংলায় কথোপকথন তাঁর কাছে দুর্বোধ্য লাগা স্বাভাবিক। মাত্রই কয়েক দিন হয় ঢাকায় এসেছেন বলে এখনো কোনো বাংলা শব্দও শেখা হয়ে ওঠেনি। তবে এখানকার খাবার চেখে দেখা শুরু করে দিয়েছেন। বিরিয়ানি খেয়েছেন, মরিচ আর লেবুর রস দিয়ে মাখানো পেয়ারার স্বাদও মুখে লেগে আছে বলে জানালেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলতে আসা ফাফ দু প্লেসি।

বিজ্ঞাপন

আরো আগেই তাঁর বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরে খেলার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণেই তা শুধুই পিছিয়ে যাচ্ছিল বলেও জানালেন, ‘কয়েক বছর ধরেই এখানে আসার চেষ্টা করছিলাম। শেষবার দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের খেলা থাকায় ছাড়পত্র পাইনি। পরের দুই বছর তো পেরিয়ে গেল কভিডেই। ’

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান প্রোটিয়াদের সাবেক এই অধিনায়ক। অক্টোবর-নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিলেন অবশ্য। কিন্তু দলে নেওয়া হয়নি তাঁকে। অথচ বিশ্ব আসর শুরুর ঠিক আগে দুবাইতেই আইপিএলের ফাইনালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) শিরোপা ভাগ্য গড়ে দেওয়া ৮৬ রানের ইনিংসটি খেলেন দু প্লেসি।

আইপিএল ইতিহাসের সফলতম ফ্র্যাঞ্চাইজি সিএসকের হয়ে নিয়মিত পারফরমার সর্বশেষ আয়োজনে করেছেন আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩৩ রানও। এবার বিপিএল মাতাতে এসে জানালেন কুড়ি-বিশের ক্রিকেটই এখন হয়ে উঠেছে তাঁর জীবনও। যে জীবনে অন্তত সাতসকালে ঘুম থেকে ওঠার তাড়া নেই। এখানে এসে এক দিন তাই খুব সকালের অনুশীলন নিয়ে বিরক্তিও আড়াল করলেন না, ‘‘শুধুই টি-টোয়েন্টি খেলার ব্যাপারটি বেশ ভালোই। আপনাকে তো আর টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য সেই সকাল ৭টায় উঠতে হচ্ছে না। এখানে যদিও এক দিন অনুশীলনের জন্য হোটেল ছাড়তে হয়েছে সকাল ৭টায়ই। দলসংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে তাই বলেছিলামও যে, ‘এই কাজটি যাতে আর করতে না হয়, তাই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলাম। অথচ আপনারা কিনা সেই সকালেই আমাকে তুললেন!’ টি-টোয়েন্টিটা বেশি ভালো লাগার কারণ চার সপ্তাহের মধ্যেই টুর্নামেন্ট শেষ এবং প্রচুর ম্যাচও খেলা যায়। ’’

পুরো আসরের জন্য আসা দু প্লেসির আজ সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিপিএল অভিষেকও হয়ে যাচ্ছে। যদিও দুইবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার হয়ে সুদূরেই চোখ দু প্লেসির, ‘প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই শিরোপা জেতা। দ্বিতীয় লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচে যতটা সম্ভব অবদান রাখা। আর টুর্নামেন্ট শেষে থাকতে চাই সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটারদের মধ্যেও। ’ নতুন দেশ ও ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলতে এলেও প্রভাবটা তেমনই রাখতে চান, যা রেখে এসেছেন সিএসকের হয়েও!



সাতদিনের সেরা