kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

আজ মুখোমুখি

এক দশকেও বিপিএল দুই অঙ্কে!

মাসুদ পারভেজ   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক দশকেও বিপিএল দুই অঙ্কে!

ছবি : মীর ফরিদ

চার বছর পরে শুরু করেও ব্র্যান্ড ভ্যালুতে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এগিয়ে গেছে বলে মানতেই চাইলেন না তিনি। আজ থেকে মাঠে গড়াতে যাওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বরং চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিলেন, ‘আমি দ্বিমত পোষণ করি। আপনাদের একটি চ্যালেঞ্জ দেওয়া যাক। বিপিএলটা আগে শুরু হতে দেন, পাঁচ-ছয় দিন যাক।

বিজ্ঞাপন

এরপর ভিউয়ারশিপ দেখবেন। আমাদের ভিউয়ারশিপ অনেক বেশি। ’

বেশি হলে সম্প্রচার চুক্তির অর্থমূল্যেও এর প্রভাব পড়ার কথা। তা পড়ছে কি না দেখে নেওয়া যাক। মাসখানেক আগেই পিএসএলের পরবর্তী দুই আসরের জন্য স্থানীয় দুই টিভি চ্যানেলের সঙ্গে ২৪ মিলিয়ন ইউএস ডলারের সম্প্রচার চুক্তি করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এক আসরের জন্যই আয়োজকরা পাচ্ছে ১০৮ কোটি টাকার মতো। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু করে ছয় বছরেই যেখানে তিন অঙ্কে পৌঁছে গেছে পিএসএল, সেখানে এখনো দুই অঙ্কেই পড়ে আছে বিপিএল। ইমপ্রেস-মাত্রা কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে এবারের আসরের জন্য সম্প্রচার খাত থেকে বিসিবির প্রাপ্তির অঙ্কটা মাত্র ২২-২৩ কোটি টাকার মধ্যে, যা ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার পর গত এক দশকেও বিপিএলের একটি আদর্শ ব্যাবসায়িক ভিতের ওপর দাঁড়াতে না পারার সাক্ষ্যই দেয়।

বিসিবির আসরটিকে দেখার চোখই সেই মজবুত গাঁথুনির পথে অন্তরায় কি না সেই প্রশ্ন ওঠাও অস্বাভাবিক নয়। কারণ গতকাল বঙ্গবন্ধু  বিপিএলের টাইটেল স্পন্সর ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে খোদ মল্লিককেই বলতে শোনা গেল যে এই আসর থেকে আয়-রোজগার তাঁদের মূল উদ্দেশ্য নয়। তাঁরা মূলত জোর দিচ্ছেন এই জায়গাটিতে, ‘বিসিবি সভাপতির কড়া নির্দেশনা হলো স্থানীয় খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিজেকে মেলে ধরার মঞ্চ দেওয়া এবং আয়োজনে আমাদের সক্ষমতা বাড়ানো। ’ 

আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ভাবনা থেকে সরে আসার কঠোর বাস্তবতার দিকটিও দেখাতে চাইলেন মল্লিক, ‘এই নিয়ে আমি সাতটি বিপিএলের সঙ্গে যুক্ত আছি। শুরুতে কিন্তু আমরা একটি বিজনেস মডেলের মধ্যেই ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা যা, তাতে চাইলেই সব কিছু করা যায় না। ’ অনেক কিছু করতে না পারার উদাহরণ হিসেবে এসে গেল ভারতের আইপিএলও, ‘আয় বাড়াতে গেলে আমাদের দুটি মডেলে যেতে হবে। হয় বিগ ব্যাশের মতো, নয়তো আইপিএলের মতো। এখন আইপিএলে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই বিক্রি হয় ৫০০ কোটি টাকায়। আমাদের এখানে কি তা হবে? বরং এখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা খেলোয়াড়দের টাকা না দিয়ে চলে যায়। এ কারণে বহুবার ফ্র্যাঞ্চাইজিও বদলাতে হয়েছে আমাদের। আমাদের আর্থ-সামাজিক যে প্রেক্ষাপট, সেটি বিচার করেই আমাদের টুর্নামেন্টটি করতে হচ্ছে। ’ পিএসএলের সঙ্গে আরেকটি মৌলিক পার্থক্যও তুলে ধরলেন বিপিএল সদস্যসচিব, ‘আমরা কিন্তু কোনো বিদেশি বিনিয়োগ নিই না। অথচ পিএসএলে বেশির ভাগ দলের মালিকই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক। আমাদের কাঠামোই ভিন্ন। ’

অবশ্য এই ভিন্নতার মধ্যেও ‘বিজনেস মডেল’ দাঁড় করানো সম্ভব ছিল বলে মনে করেন মল্লিক। এত দিনেও সেই ভিতের ওপর দাঁড়াতে না পারার দায় তিনি দিচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিদের, ‘বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজির কার্যক্রমই টুর্নামেন্টভিত্তিক। কিছু ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজিও অবশ্য আমরা দেখেছি। যেমন—বসুন্ধরা, বেক্সিমকো ও কুমিল্লা (ভিক্টোরিয়ান্স)। তবে বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিই যে বিভাগের দল নেয়, সেই বিভাগে একাডেমি করা কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা—কোনো কিছুর সঙ্গেই তারা সম্পৃক্ত থাকে না। কোনো কিছু না করে শুধু একটি বিপিএলে অংশ নিলেই একটি বিজনেস মডেল দাঁড়াবে না। আবার কোনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি এসে দুই বছর খেলে, এরপর তৃতীয় বছরে খেলোয়াড়দের পেমেন্ট করে না! মডেল দাঁড়াবে কিভাবে?’

দাঁড়ায়নি বলেই এক দশকেও দুই অঙ্কেই পড়ে আছে বিপিএল!



সাতদিনের সেরা