kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়তে চান কাবরেরা

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়তে চান কাবরেরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ শব্দটির যেন বেশ সখ্য। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন ১৩ বার। এর দাপটে তলিয়ে গেছে বাংলাদেশ দলের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন-সম্ভাবনার জিজ্ঞাসাগুলো। এর পরিবর্তে নতুন কোচের কণ্ঠে বেজেছে নতুন কথা, ‘একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়াই আমার লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় দলের ২৩তম বিদেশি কোচ কাল প্রথম মুখোমুখি হয়েছেন সংবাদমাধ্যমের। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে দেশ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে তলানিতে, ১৮ বছর ধরে যারা ট্রফি জেতে না, সেই দেশের ফুটবল কোচের সংবাদ সম্মেলনে উপচে পড়া ভিড়ে খটকা লাগতেই পারে! এখানে মাঠের খেলা যেমনই হোক না কেন, মাঠের বাইরে ফুটবল নিয়ে আগ্রহ-উৎসাহে কোনো ঘাটতি নেই। কয়েক দিন ধরে নতুন কোচের ক্লাব কোচিংয়েও অনভিজ্ঞতার ইস্যুটি নিয়ে চর্চা হচ্ছিল সংবাদমাধ্যমে। তাই হয়তো শুরুতে তিনি নিজেই ২০০৪ সাল থেকে পেশাদার ফুটবলে কাজ করার ফিরিস্তি দিয়েছেন। কাজ করেছেন নামিদামি একাডেমিতে। স্পেনের কয়েকটি বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গী হয়ে ভূমিকা রেখেছেন ফুটবলার গড়ায়।

সেখান থেকে এক লাফে কাবরেরার জাতীয় দলে উত্তরণ। এবং ভারতে কিছুদিন কাজ করার সুবাদে এ দেশে কাজটা সহজ হবে বলে মনে করছেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি খুব অনুপ্রাণিত। আমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছি, বিশেষ করে ভারতে প্রায় আট বছরের মতো কাটিয়েছি। সুবাদে সাফ ফুটবলের খবরাখবর কিছু জানা আছে। বাংলাদেশে দুটি বড় ক্লাব আবাহনী (কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ) ও বসুন্ধরা কিংস গতবার এএফসি কাপে খেলেছে। তাই এই উপমহাদেশ আমার জন্য নতুন নয়, ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা এখানে কাজ লাগবে আশা করি। ’

কাবরেরা যেভাবে অভিজ্ঞতার সুবিধা হিসাব করুক, এরই মধ্যে তাঁর কাছে বড় সাফল্যের চাহিদাপত্র দিয়ে রেখেছেন বাফুফে সভাপতি। ২০০৩ সালে সাফ জয়ের পর গত ১৮ বছর ট্রফিহীন কেটেছে বাংলাদেশ ফুটবলের। তাই দায়িত্ব যিনিই নেবেন তাঁর সামনে ট্রফিখরা কাটানো বিশাল চ্যালেঞ্জ। ৩৭ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচ সেটা অনুভব করলেও কিছু বলেননি ট্রফির স্বপ্ন-সম্ভাবনা নিয়ে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়াই প্রধান কাজ হিসেবে দেখছেন, ‘এটা আমার জন্য ভয়ংকর সুন্দর এক চ্যালেঞ্জ। শুরু থেকেই আমার কাজ হবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়া। একটা সুনির্দিষ্ট এবং আধুনিক হাই পারফরম্যান্স অবকাঠামোর মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স উন্নত করতে হবে। সেরা পারফরম্যান্স বের করতে হলে এই অবকাঠামোর মধ্যে টেকনিক্যাল ও পারফরম্যান্সের ইস্যু ছাড়াও খেলার বিশ্লেষণ, স্কাউটিং এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারগুলোও রাখতে হবে। ’

কাবরেরার পেছনে বার্সেলোনার ট্যাগ লাগানো আছে বলে অনুমান করা যায় তাঁর কোচিং দর্শনও। ওই ঘরানার ফুটবল খেলার জন্য খেলোয়াড়দের মান যেমন চাই, তেমনি তাদের মধ্যে থাকতে হয় বার্সা ডিএনএ। কোচও হয়তো সেটা বোঝেন এবং বলছেন অন্য কথা, ‘আমার লক্ষ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়া, যারা নিজেরাই বুঝবে কখন কিভাবে খেলতে হবে। গেমের অবস্থা অনুযায়ী ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে খেলোয়াড়দের। ’

নতুন কোচ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখেছেন স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপে। সঙ্গে মালদ্বীপ সাফের কয়েকটি ম্যাচের ভিডিও তাঁর দেখা। দেখার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে কোচের ধারণা, ‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলোয়াড় আছে। তা ছাড়া ক্লাবে তারা ভালো ট্রেনিং পাচ্ছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ খেলছে। সুতরাং আমরা অবশ্যই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়তে পারব। ’

এই দল গড়তে কাবরেরার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফিফা উইন্ডো এবং এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচগুলো। যত খেলবে ততই খেলোয়াড়দের ভয় ভাঙবে, তারা নতুন লড়াইয়ের জন্য অনুপ্রাণিত হবে। নিজেদের প্রস্তুতি ও মাঠে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্তর্গত পরিবর্তন হবে, যা সামগ্রিক সুফল বয়ে আনবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে। সংবাদ সম্মেলনে পাশে বসে কোচের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়ার ইচ্ছার কথা শুনে জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদও ভরসা রাখতে চান, ‘আমার বিশ্বাস তরুণ কোচের উদ্দীপনা ও কাজের আগ্রহ আমাদের দলকে বেশি উজ্জীবিত করবে। আমাদের তরফ থেকেও জাতীয় দল নিয়ে কিছু বিষয় তাঁকে জানানো হয়েছে। ’

সব সময় নতুন কোচের ওপর বিশ্বাস রেখেই ফুটবলের ভাগ্যবদলের খেলায় নামে বাফুফে। ১৮ বছর ধরে না মিললেও আশা নিয়েই তো বাঁচতে হয়। হাভিয়ের কাবরেরার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়ার গল্পেও নতুন আশায় বুক বেঁধেছে বাফুফে।



সাতদিনের সেরা