kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আফ্রিকা জয় হলো না ভারতের

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফ্রিকা জয় হলো না ভারতের

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থাকল ভারতের। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ ঘরের বাইরে সব দেশেই জয়োৎসব করলেও রংধনুর দেশটিতে সাদা পোশাকে কখনো সিরিজ জিততে পারেনি ভারত। সেঞ্চুরিয়নে রোমাঞ্চকর জয়ে দীর্ঘদিনের অতৃপ্তি ঘোচানোর দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়ের শিষ্যরা। কিন্তু বিরাট কোহলিরাও পারলেন না আক্ষেপের গল্পটা অন্যভাবে লিখতে! বরং প্রত্যাবর্তনের অসাধারণ গল্প লিখে ভাঙাচোরা ও অনভিজ্ঞ দল নিয়েও টানা দুই জয়ে সিরিজ জয়ের উৎসবে মাতোয়ারা হলো প্রোটিয়ারা। জোহানেসবার্গে ৭ উইকেটের সহজ জয়ে ১-১-এ সমতা ফেরানোর পর কেপ টাউনেও কার্যত ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে আরেকটি ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ডিন এলগারের দল।

নিউল্যান্ডসে জিততে গতকাল চতুর্থ দিনে প্রোটিয়াদের দরকার ছিল ১১১ রান আর ভারতের ৭ উইকেট। অসম্ভব না হলেও ওই অবস্থান থেকে ম্যাচ বের করে নেওয়ার কাজটা বড্ড কঠিনই ছিল সফরকারীদের। অসাধারণ কিছু করে বোলাররা পারেওনি ভারতকে জেতাতে। জাসপ্রিত বুমরাহ-মোহাম্মদ সামিরা আগুন ঝরানো বোলিং করে কঠিন পরীক্ষা নিলেও কিগান পিটারসেন, রসি ফন দার দুসেনদের দৃঢ়চিত্তের ব্যাটিংয়ে বাজিমাত করেছে প্রোটিয়ারাই। শার্দূল ঠাকুরের বোলিংয়ে স্টাম্প উড়ে যাওয়ার আগে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ম্যাচের ভাগ্যই লিখে দিয়ে আসেন ম্যাচ ও সিরিজসেরা পিটারসেন। এরপর অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়ে বাকি পথটুকু অনায়াসে পাড়ি দিয়ে দেন রসি ফন দার দুসেন ও টেম্বা বাভুমা।

উজ্জীবিত জয়ে শুরু করেও এভাবে আত্মসমর্পণ করায় ব্যাটারদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কোহলি, ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের মনঃসংযোগে চিড় ধরছে। এখানে অজুহাতের জায়গা নেই। ব্যাটিং নিয়ে আমাদের ভাবতেই হবে।’

২৭তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ডিন এলগারকে মাঠের আম্পায়ার আউট দিলেও ডিআরএস নিয়ে বেঁচে যান তিনি। সেটাই মানতে না পেরে স্টাম্প মাইকের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানাতে থাকেন বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল। অপর প্রান্তে ডিআরএস নিয়ে কথা বলতে থাকেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হলেও আইসিসি শুধু সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছে তাঁদের।

পিছিয়ে পড়েও ক্ষয়িঞ্চু ও আনকোরাদের নিয়ে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দলকে হারিয়ে স্বভাবত উচ্ছ্বসিত ডিন এলগার, ‘কঠিন পরিস্থিতিতেও ছেলেরা দারুণভাবে সাড়া দিয়েছে। আমরা একটি তরুণ প্রতিভাবান দল পেয়েছি, যাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে ওই অভিজ্ঞতা সঞ্চার করছি আমরা।’ ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর : ভারত ২২৩ এবং ১৯৮। দক্ষিণ আফ্রিকা : ২১০ এবং ৬৩.৩ ওভারে ২১২/৩ (পিটারসেন ৮২, ফন দার দুসেন ৪১*, বাভুমা ৩২*, এলগার ৩০, মারক্রাম ১৬; শার্দূল ১/২২, সামি ১/৪১, বুমরাহ ১/৫৪)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : দক্ষিণ আফ্রিকা ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ : কিগান পিটারসেন।



সাতদিনের সেরা