kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এর পরও ডাগআউটে বাফুফে সদস্যরা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এর পরও ডাগআউটে বাফুফে সদস্যরা!

দলের ডাগআউটে কেন বাফুফে সদস্যরা? প্রশ্নটা ছিল আগে থেকেই, তবে মৌসুম শুরু হতে না হতেই বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে এটা। বসুন্ধরা কিংস, শেখ রাসেল, মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকটি ক্লাবের চিঠিতে প্রিমিয়ার লিগের আগে বিতর্কিত রেফারিংয়ের সঙ্গে এটিই হয়ে গেছে অন্যতম প্রধান ইস্যু।

বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে এই মুহূর্তে জেরবার দেশের ঘরোয়া ফুটবল। এর পাশাপাশি বলা হচ্ছে ডাগআউটে বাফুফে সদস্যদের উপস্থিতি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে দেওয়া ক্লাবগুলোর চিঠি অনুযায়ী ডাগআউটে বাফুফে সদস্যের উপস্থিতি দেখলে রেফারিরা প্রভাবিত হন। বেসুরো হয়ে যায় তাঁদের বাঁশি। স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপের ম্যাচে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তুলেছে কয়েকটি ক্লাব। সরাসরি না হলেও তাদের অভিযোগের কাঠগড়ায় আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু ও রহমতগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ। দুজন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েও খেলা চলাকালীন থাকেন দলের ডাগআউটে। তাঁদের উপস্থিতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে রেফারির ওপর।

বাফুফে সদস্যদের ঘরোয়া ফুটবলের ডাগআউটে থাকা নিয়ে প্রথম বিতর্ক ওঠে ২০১২ সালে। তখনো রূপু ছিলেন আবাহনীর ম্যানেজার আর মোহামেডানের ডাগআউটে দাঁড়াতেন আমিরুল ইসলাম বাবু। এ দুজনই ছিলেন বাফুফে সদস্য। আর বাফুফে সহসভাপতি হয়েও আরিফ খান জয় থাকতেন বিজেএমসির ডাগআউটে। ২০১১ সালের প্রিমিয়ার লিগে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন বলে লিখিত অভিযোগ করেছিল ফরাশগঞ্জ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে বাফুফে সদস্যদের ডাগআউটে দাঁড়ানো রোধ করে বাইলজে ধারা যোগ করেছিল। ওই সময় থেকে ঘরোয়া ফুটবলে বাফুফে সদস্যদের ক্লাব দলের ডাগআউটে না দাঁড়ানোর রীতি দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। এটা ছিল পেশাদারিত্বের পথে আরেক ধাপ উত্তরণ। কিন্তু এভাবে চলার পর হঠাৎ আবার পেছন পানে যায় বাফুফে। ২০১৬ সালের আগস্টে রহস্যময় কারণে বাইলজ থেকে বাদ দেওয়া হয় ওই নিয়মটা। বাফুফে কর্মকর্তাদের ফের ডাগআউটে দাঁড়ানো উন্মুক্ত হয়ে যায়। বিতর্ক আবার ফিরে আসে ফুটবল মাঠে। তাঁদের উপস্থিতিতে জোরালো হয়ে ফেরে রেফারিং বিতর্ক, বাফুফে কর্মকর্তাদের ভয়ডরে রেফারির সিদ্ধান্ত এদিক-ওদিক হয়। এই মৌসুমের প্রথম দুই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন ম্যাচের উদাহরণ দিয়ে কয়েকটি ক্লাব অভিযোগ দাখিল করে বাফুফের কাছে।

অবিশ্বাস্য হলো, বাফুফে যখন পেশাদার ফুটবলের গালভরা বুলি আওড়ায়, তখন বাফুফে সদস্যরা ক্লাব দলের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে বিতর্ক তৈরি করছেন। সেটা কি বুঝতে পারছেন পেশাদার ফুটবলের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী? মুর্শেদীর জবাব, ‘বাফুফে সদস্যদের ডাগআউটের বাইরে রাখার রীতি চালু করেছিলাম আমি, কিন্তু যেভাবেই হোক সেটা ধরে রাখা যায়নি। আমরা চাই পেশাদার ফুটবলকে আরো এগিয়ে নিতে।’ কিন্তু বাফুফে সদস্যদের ক্লাবের ডাগআউটে রেখে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা কঠিন। পেশাদার ফুটবল লিগ কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সালাম মুর্শেদী বল ঠেলে দিয়েছেন নির্বাহী কমিটির কোর্টে, ‘ক্লাবগুলো চিঠি দিয়েছে বাফুফে সভাপতিকে সম্বোধন করে। কার্যনির্বাহী কমিটির আগামী সভায় এ নিয়ে আলোচনা হবে। আশা করি, ওই সভায় এ ব্যাপারে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’ বাফুফে কর্তাদের ডাগআউটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন বাইলজ তৈরি করা না হলে ইস্যুটি আরো বিতর্ক ছড়াবে আসন্ন প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে।



সাতদিনের সেরা