kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভুলেই বিপদ তবু ভুলেই আস্থা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভুলেই বিপদ তবু ভুলেই আস্থা!

ছবি : মীর ফরিদ

বাংলাদেশের ব্যাটারদের কারো চেয়ে শটের মজুদ নিশ্চয়ই কোনো অংশে কম নেই এবি ডি ভিলিয়ার্স কিংবা ফাফ দু প্লেসির। অথচ ম্যাচ বাঁচানোর দাবি তাঁদেরও চূড়ান্ত সংযমী করে তুলেছিল। এমনই যে ২০১২ সালের নভেম্বরের অ্যাডিলেড টেস্ট বারবারই ফিরে আসে আলোচনায়। চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪৩০ রানের দুঃসাধ্য টার্গেটের পেছনে না ছুটে ম্যাচ বাঁচাতে রক্ষণেই আস্থা খুঁজে নেন ডি ভিলিয়ার্স ও দু প্লেসি।

বিজ্ঞাপন

প্রথমজন ২২০ বলে খেলেন ৩৩ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ান পেসার পিটার সিডল তাঁর প্রতিরোধ ভাঙলেও পরেরজন ছিলেন অনড়। ৩৭৬ বল খেলে ১১০ রানের হার না মানা ইনিংসে ম্যাচ বাঁচিয়েই ফেরেন দু প্লেসি। যে ইনিংসে আক্রমণের তুলনায় রক্ষণেই দলের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার। টেস্ট ক্রিকেটে ম্যাচ বাঁচাতে সেরকম ব্যাটিংই সঠিক অ্যাপ্রোচ নাকি রান করার জন্য তেড়েফুঁড়ে মারা, তা নিয়ে ধন্দে ফেলে দেওয়ার মতো বক্তব্যই যেন দিলেন মমিনুল হক।

তাঁর কথা হলো, রান করাও কম জরুরি নয়। সেই রান করতে গিয়ে দলের ব্যাটারদের অনেকের উইকেট বিলানোতেও তাই দোষের তেমন কিছু দেখলেন না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। বরং নিজ দলের ব্যাটারদের ব্যাটিংয়ের ধরনকে স্বীকৃতিই দিয়ে গেলেন। এমনকি সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দারুণ এক জুটি জমে ওঠার পর মুশফিকুর রহিমের রানআউটেও ভুল কিছু দেখলেন না। পাকিস্তানের কাছে ইনিংস ও ৮ রানে হারার পর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে বলছিলেন, ‘যে সংস্করণেই খেলুন না কেন, সব সময়ই রান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি শুধু রক্ষণাত্মকই খেলি...রানটা তো করতে হবে। এতে (রান করতে গিয়ে) মাঝে মাঝে ভুল-বোঝাবুঝিও হয়। মুশফিক ভাইয়ের রানআউটটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। ব্যাটটা নিচে থাকলে উনি বেঁচে যেতেন। ’

এমনকি প্রথম ইনিংসে মুশফিক আর লিটন কুমার দাসের আউট হওয়ার ধরন নিয়েও মমিনুলের কোনো প্রশ্ন নেই। তাঁরা যেভাবে খেলে আউট হয়েছেন, সেটিতেও অ্যাপ্রোচের কোনো ভুল দেখেননি। তাঁদের ভুলেই দল বিপদে পড়েছে, কিন্তু অধিনায়ক তবু পিঠে আস্থার হাতই রাখলেন। ম্যাচ শেষ করে রাতেই নিউজিল্যান্ডের ফ্লাইট ধরার তাড়ায় ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তাই মমিনুলের সংবাদ সম্মেলনও হলো তাড়াহুড়ার মধ্যেই। এর মধ্যেই তবু ব্যাটারদের অ্যাপ্রোচে ভুল কিছু না দেখার বার্তাটি দিয়ে গেলেন মমিনুল, ‘‘যদি প্রথম ইনিংসের কথা বলেন, আমারটাই ‘সিলি মিসটেক’ ছিল। আমার হয়তো তাড়াহুড়া করে রান নেওয়া উচিত হয়নি। কিন্তু দলের সবাই মারতে গিয়ে আউট হয়নি। এই উইকেটে মুশফিক ভাই ও লিটন যেভাবে ব্যাটিং করেছে, আমি সেটিকে সমর্থনই করব। কারণ তখন উইকেটে বল ঘুরছিল অনেক। মুশফিক ভাই যেমন স্কয়ার অব দ্য উইকেট মেরেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত ব্যাটে-বলে সংযোগ হয়নি। আসলে এসব উইকেটে বেশি রক্ষণাত্মক খেলতে গেলে কঠিন হয়ে যায়। ’

কাজ সহজ করে নিতে তাই ব্যাটারটা মারার পথই বেছে নিয়েছেন, ‘না, কেউ আক্রমণাত্মক খেলেনি। প্রশ্ন শুনে অবাকই হয়েছি (আগ্রাসী ব্যাটিং নিয়ে জিজ্ঞাসার জবাবে)। বলের মেধা অনুযায়ী যদি রক্ষণই করেন, তাহলে রান করবেন কোন সময়? ওরা ৩০০ রান করেছে, আপনি যদি রক্ষণই করেন তো রান করবেন কখন? যারা আউট হয়েছে, তারা দেখেশুনে ঝুঁকি নিয়েই শট খেলেছে। যেখানে বল বেশি টার্ন করে, সেখানে ঝুঁকি নিয়ে না মারলে হয় না। যেসব শট খেলে স্কোর করা যায়, আমাদের ব্যাটাররা সেগুলোই খেলেছে। ’

 



সাতদিনের সেরা