kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এমন ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচানোর আশা!

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এমন ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচানোর আশা!

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নিউজিল্যান্ড যাওয়ার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট থেকে ছুটি নেওয়া টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দেখেছেন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্স থেকে। চতুর্থ দিনের বিকেলে পাকিস্তানের অফস্পিনার সাজিদ খানকে উইকেট বিলাতে দেখার ব্যাপারটি যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে রীতিমতো দুঃখই ঝরল বাংলাদেশ দলের এই সাবেক অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘আমি যেটা মেনে নিতে পারছি না তা হলো, শাহীন শাহ আফ্রিদির পেস হয়তো আমরা নিয়মিত খেলি না, কিন্তু এ রকম স্পিন তো খেলি। এটাই হলো দুঃখের ব্যাপার, যেটি আমি নিতে পারছি না।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে মূলত স্পিনারদেরই দাপট থাকে। তাঁদের খেলে এবং সামলেই অভ্যস্ত ব্যাটাররা কিনা একের পর এক উইকেট দিলেন ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ টেস্ট খেলতে নামা পাকিস্তানি অফস্পিনার সাজিদ খানকে। আগের তিন টেস্টে ৬ উইকেট পাওয়া বোলার এবার এক ইনিংসেই ৩৫ রানে নিয়ে বসে আছেন সমানসংখ্যক উইকেট। সংখ্যাটা আজ বাড়তে পারে আরো। তাঁর সামনে টেস্ট ম্যাচের ধৈর্যের বদলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের তাড়া দেখা গেল বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে। সুবাদে চতুর্থ দিনের শেষে এমন অবস্থা যে এখন বাংলাদেশকে আরেকবার অল আউট করে জেতার কথাও ভাবতে পারছে সফরকারীরা। সাজিদ নিজেই বলে গেলেন সে লক্ষ্যের কথা, ‘এখন পরিকল্পনা এটিই যে কাল বাকি তিন উইকেট তুলে নিয়ে ওদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠানো এবং আরেকবার অল আউট করে জেতার চেষ্টা করা। ’

টেস্টসুলভ রক্ষণের বদলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়েই স্বাগতিক দলের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটাররা সাজঘরের পথ ধরেছেন। দিনের শেষে নিজেদের ওরকম আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণও ব্যাখ্যা করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর দাবি, মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে রক্ষণাত্মক খেলতে গেলেই নাকি বিপদের শঙ্কা ছিল বেশি, ‘আমাদের পরিকল্পনা সাধারণই ছিল। পরিকল্পনা ছিল যে যার স্বাভাবিক খেলাই খেলবে। ওরকম আলাদা কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের একটা কারণ ছিল, এই উইকেটে যত রক্ষণাত্মক খেলবেন, তত কঠিন হয়ে উঠবে। এখানে রান করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যই ব্যাটারদের যার যে শটে দক্ষতা আছে, তারা সেই শটই খেলতে চেয়েছে। এই উইকেটে রক্ষণাত্মক খেলতে গেলেই বরং আউট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকত। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বাস্তবায়নটা ভালো হয়নি। ’

একাধিক ব্যাটার সুইপ শট খেলতে গিয়ে উইকেট দিয়েছেন। নাজমুল তাতেও দোষের কিছু দেখেননি, ‘টার্নিং উইকেটে এলবিডাব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। এমন উইকেটে সবাই সুইপের ওপরই বেশি আস্থা রাখে। এ জন্যই সবাই সুইপ শট খেলতে চাইছিল। ’ তাঁর ভাষায় ‘কঠিন’ উইকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তাঁরা পাকিস্তানের আক্রমণাত্মক ফিল্ডিংয়ের চাপও আলগা করতে চেয়েছিলেন, ‘শুধু রক্ষণাত্মক খেলে সারা দিন পার করা কঠিন। সঙ্গে শটও খেললে ওদের আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সেটআপও ছড়িয়ে যেত। ’

তবে এই পরিকল্পনা উল্টো নিজেদের ওপরই আরো চাপ নিয়ে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে দলের সামর্থ্য নিয়েও। নাজমুল তা মানতে চাইলেন না, ‘বাস্তবায়ন এক দিন হবে, এক দিন হবে না। তার মানে এই নয় যে আমরা পারি না বা এর আগে পারিনি। শ্রীলঙ্কায় আমরা এমনকি ৫০০ রানও করেছি। আগের চেয়ে আমাদের ধারাবাহিকতা বেড়েছে। ’ এই টেস্টে ব্যাটিংয়ের যা অবস্থা, তাতে ম্যাচ বাঁচানোর আশাও তেমন দেখা যাওয়ার কথা নয়। তবু সে আশায় বুক বেঁধে আছেন নাজমুল, ‘অসম্ভব কিছু না। খেলায় হেরে গেছি, এ রকম কিছু না। এখান থেকেও ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব। ’

কিভাবে? সে পথও দেখালেন নাজমুল, ‘কালকের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। সাকিব ভাই ও তাইজুল ভাই যদি ভালো শুরু করতে পারেন, তাহলে পরের ইনিংসের জন্য সুবিধা হবে। পরের ইনিংসে আমাদের ভালো ব্যাটিং করতে হবে। তা করতে পারলে অবশ্যই ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব। ’



সাতদিনের সেরা