kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ফিরে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার জাপানি বন্ধু

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফিরে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার জাপানি বন্ধু

স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে এ দেশের মানুষ। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা এখানো বেঁচে আছেন। তাঁদের নামে গড়া ফুটবল দল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের মায়ায় পড়েছেন এক জাপানি ফুটবলার। গতবারের মতো খেলতে এসে ইয়োসুকে কাতো হয়ে গেছেন দলের সহকারী ম্যানেজার।

বিজ্ঞাপন

এই দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো দেখছেন আরো কাছ থেকে, ‘আরিফের (ম্যানেজার) সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারছি দলে আর্থিক সংকট প্রচণ্ড। অথচ এটা অনেক গৌরবের দল, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আছে এর সঙ্গে। কিন্তু কেউ দলটিকে নিয়ে ভাবে না। আমি এই দলের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি সবার কাছে। ’

একজন জাপানি ফুটবলারের কাছ থেকে এ দেশের কোনো ফুটবল ক্লাবের জন্য এমন আহবান অকল্পনীয়। ক্লাবটির প্রতি এত দরদের নেপথ্যে কী আছে? কাতোর জবাব, ‘এই ক্লাবটিকে আসলে আমি খুব ভালোবেসে ফেলেছি। সেই ২০১৮ সাল থেকে খেলতে খেলতে এই দলের ভালো-মন্দ সবই নিজের চোখে দেখেছি। ক্লাবটি একসময় শিরোপা জিতত, সেটাও আমি জানি। সেটির এমন দুর্দশা দেখতে খারাপ লাগে। ’ গতবারও ওই রকম সংকটে পড়েছিল মুক্তিযোদ্ধা। তখনো এ মিডফিল্ডার এক রকম সংগঠক ভূমিকায় নেমে স্পন্সর জোগাড় করে দিয়েছিলেন। নিজের জার্সি নিলামে তুলে অর্থ দিয়েছিলেন ক্লাবটিকে। পাশাপাশি ছিল বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতা। সেই যাত্রায় উতরে যাওয়া দলটি এবার একই রকম সংকটের মধ্য দিয়ে খেলছে স্বাধীনতা কাপ ফুটবল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার জাপানি বন্ধু যে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। কাতো অবশ্য ঢাকায় ফেরার কথাও বলে যাচ্ছেন, ‘আমার পরিবারে সমস্যা হয়েছে, তাই আমাকে ১৫ ডিসেম্বর জাপানে ফিরে যেতে হচ্ছে। তবে কিছুদিন বাদে আমি আবার ঢাকায় আসব। মুক্তিযোদ্ধার জন্য কিছু একটা করতে হবে। আমিও চেষ্টা করছি নতুন স্পন্সর জোগাড় করার। ’

বাংলাদেশের একটি ক্লাব নিয়ে একজন জাপানির এত আন্তরিকতা। অথচ দেশে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রাণালয় আছে। আছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। এই সংস্থার মহাপরিচালক জহিরুল ইসলাম ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। তাঁদের দিক থেকে কোনো আন্তরিকতা নেই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের জন্য। দলের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম বলছেন সংকটের কথা, ‘ধারদেনা করে দলের প্রত্যেককে একটা টোকেন মানি দিয়েছি। প্রতিদিনের ক্যাম্প খরচ চালানোর মতো অবস্থা নেই। পুরো মৌসুম দলটিকে কিভাবে চালাব, আমি জানি না। কাতোও নানাভাবে সাহায্য করছিল আমাকে, সে-ও এখন চলে যাচ্ছে। ’ হায়রে দেশ! তার মুক্তিযোদ্ধা ফুটবল দলের জন্য এক বিদেশি দুশ্চিন্তা করছেন, উদাত্ত কণ্ঠে সাহয্য প্রার্থনা করছেন। তাতেও বোধোদয় হয় না দেশের দায়িত্বশীলদের।



সাতদিনের সেরা