kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নতুন বিদেশিতে নতুন ফুটবল মোহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন বিদেশিতে নতুন ফুটবল মোহ

নতুন ফুটবল মৌসুম দিচ্ছে নতুন সুখবর। আফ্রিকান ফুটবলারদের ঢাকামুখো ঢল থেমেছে। সেই আফ্রিকান ফেরিওয়ালাদের দৌরাত্ম্য খর্ব করে এখন লাতিন ও ইউরোপীয় ফুটবলারে মজেছে দেশের ক্লাবগুলো। সুবাদে ফুটবলে বাড়ছে সৌন্দর্যের পসরা এবং যোগ হচ্ছে টেকনিকও। আফ্রিকান শরীরসর্বস্ব খেলা থেকে সরে গিয়ে দেশের ঘরোয়া ফুটবল তৈরি করছে নতুন ফুটবল মোহ।

কামাল বাবু একজন পেশাদার ফুটবল কোচ। আর বিশেষ নেশা হলো স্টেডিয়ামে গিয়ে মৌসুমের সব কটি ম্যাচ দেখা এবং এর ভিত্তিতে খেলা এবং খেলোয়াড় সম্পর্কে হয় স্পষ্ট ধারণা। এবারের পালাবদলকে স্বাগত জানিয়ে এই কোচ বলছেন, ‘আমাদের ফুটবলে এখন লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের ফুটবলার বাড়ছে। এটা খুবই ইতিবাচক আমাদের ফুটবলারদের জন্য। করোনাকালীন অর্থসংকটের মধ্যেও ক্লাবগুলো ইউরোপীয় ফুটবলারদের নিয়ে আসছে, এ জন্য তাদের ধন্যবাদ দিতে হবে। চার-পাঁচটি ম্যাচে ভালো বিদেশি দেখেছি।’ দু-তিনটি দল বাদে বাকি সব দলের বিদেশিরা ভালো মানের।

সাম্প্রতিক সময়ে ভালো বিদেশির বড় উদ্যোগটা নেয় বসুন্ধরা কিংস। ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলা ড্যানিয়েল কলিনদ্রেসকে এনে তারা প্রথম চমক দেখিয়েছিল অভিষেকের মৌসুমে। তাদের জার্সিতে খেলে গেছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হার্নান বারকোস। অবিশ্বাস্য গোল মেশিন! এরপর ব্রাজিলিয়ান রবসন রোবিনহোকে এনে তারা আধিপত্য করেছে ঘরোয়া ফুটবলে। কিংসের গত তিন মৌসুম দেখলেই স্পষ্ট—সাফল্যের নাটাই ওই বিদেশিদের হাতে। সেটা দেখে আবাহনীও এবার বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে বিদেশিতে। পুরনো তিন বিদেশিকে ঝেড়ে ফেলে তারা কলিনদ্রেসকে আবার ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছে কোস্টারিকা থেকে। নতুন যোগ করেছে ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন গোমেজকে। সর্বশেষ চায়নিজ লিগ খেলা এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারকে এখনো দেখা যায়নি স্বাধীনতা কাপে। তবে প্রথম ম্যাচে বিশেষভাবে দেখা গেছে তাদের আকাশি-নীলের পুরনো ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল আগুস্তোকে। ইনজুরি সেরে ওঠা এই মিডফিল্ডারই হয়ে উঠবেন দলের প্রাণভোমরা।

অনেক দিন পর আবাহনী নতুন করে সাজলেও বসুন্ধরা কিংস ধরে রেখেছে গতবারের তিন বিদেশি—রোবিনহো, ফের্নান্দেজ ও খালেদ শাফিকে। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার রাউল বেসেরার জায়গায় নিয়ে এসেছে এক বসনিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে। অথচ তারা চেয়েছিল দুর্দান্ত এক ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারকে, চুক্তি পাকা করার পর্যায়ে গিয়েও ভেস্তে যাওয়ায় কিংস কর্মকর্তাদের আফসোসের শেষ নেই। কিন্তু ওই বসনিয়ান স্তোয়ান ব্রানিয়েস প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে চমকে দিয়েছেন দুই গোল করে। বসনিয়ান লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেলা দেখে কিংস কর্তাদের আফসোস কমারই কথা। সুতরাং এবারও কোনো খামতি নেই চ্যাম্পিয়ন দলে।

তবে শেখ রাসেল প্রথম ম্যাচে মেলে ধরতে পারেনি নিজেদের। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মাচাদো ডি সুজা, গিনির স্ট্রাইকার ইসমাইল দ্য সিলভা এবং কিরগিজ ডিফেন্ডার আইজার আখমতোভ প্রথম ম্যাচ খেললেও ঠিক সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র এসেছেন বলেই হয়তো এখনো মানিয়ে উঠতে পারেননি দলের সঙ্গে। শেখ জামালের ভরসা আগের গাম্বিয়ান ফারোয়ার্ড লাইনে। গতবার তারা গাম্বিয়ান ত্রয়ীতে সাফল্য পেয়েছে, তবে ওমার জোবে ছুটে যাওয়ায় সেই জায়গায় যোগ হয়েছে নাইজেরিয়ান চিনেডু ম্যাথু। তারাই শুধু পুরোপুরি আফ্রিকানে ভরসা রেখেছে এবং হোঁচট খেয়েছে স্বাধীনতা কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে। এছাড়া অন্য দলগুলোতে লেগেছে লাতিন ও ইউরোপীয় ফুটবলের ছোঁয়া।



সাতদিনের সেরা