kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অপ্রস্তুতদের নিয়ে পুরনো সংস্কৃতিই

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজের সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা সেই নাঈম শেখ গতকাল সন্ধ্যায় পেলেন প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার সুখবর। সেটি বড় দৈর্ঘ্যের কোনো ম্যাচ পরীক্ষা না দিয়েই। অথচ একই দিনের দুপুরে চট্টগ্রাম টেস্ট হারার পর সতীর্থদের কাছে বেশি বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার আকুতিই জানাতে শোনা গেছে মমিনুল হককে।

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপ্রস্তুতদের নিয়ে পুরনো সংস্কৃতিই

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

ওপেনাররা ভালো শুরু দিতে পারছেন না। তাই বলে কেউ বাদও পড়েননি। তা না পড়লেও তাঁদের ওপর আস্থাহীনতা থেকেই কিনা পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দলে এমন আরেকজনের অন্তর্ভুক্তি, যিনি লাল বলের ক্রিকেট তেমন খেলেনই না। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজের সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা সেই নাঈম শেখ গতকাল সন্ধ্যায় পেলেন প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার সুখবর।

বিজ্ঞাপন

সেটি বড় দৈর্ঘ্যের কোনো ম্যাচ পরীক্ষা না দিয়েই। অথচ একই দিনের দুপুরে চট্টগ্রাম টেস্ট হারার পর সতীর্থদের কাছে বেশি বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার আকুতিই জানাতে শোনা গেছে মমিনুল হককে।

কারণ বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মাঠেই দেখেছেন বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ পরীক্ষায় পোড় খাওয়া চরিত্রকে ব্যাট হাতে পারফরম্যান্সের ফুল ফোটাতেও। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির পার্থক্যটিও যেন এখানেই। দুই দেশের দুজন ক্রিকেটারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট পরিসংখ্যান তুলে দিলেই তা বোঝা যাওয়ার কথা। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার তুষার ইমরান ১১ হাজার ৯৭২ রান করে এই সেদিনই অবসরে গেলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচে এর বেশির ভাগ রানই তিনি করেছেন ২০০৭ সালের জুলাইয়ে নিজের পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারের সর্বশেষটি খেলার পর। একই বছরের ডিসেম্বরে অভিষিক্ত পাকিস্তানের আবিদ আলী টেস্টের ভুবনে ঢুকেছেন আরো এক যুগ পর। তত দিনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই এই ওপেনারের ছয় হাজারের বেশি রান করা হয়ে গেছে।

আবিদরা তাই প্রস্তুত হয়েই নামেন। আর বাংলাদেশে টেস্টের প্রবেশপত্র দেওয়া হয় অপ্রস্তুত নাঈমদের। চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে ২২৪ রান (১৩৩ ও ৯১) করা আবিদের কথায়ও আছে এই পর্যায়ে সাফল্যের জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডুবে যাওয়ার ডাক, ‘আমার এমন পারফরম্যান্সের কৃতিত্বটি দিতে হবে ঘরোয়া ক্রিকেটকেই। ’ নিজ দলের ক্রিকেটারদের আরো পরিণত হওয়ার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটেই মনোনিবেশ করার দাবি জানালেন মমিনুলও। সেটি ব্যাটার-বোলার-নির্বিশেষে। বারবারই তাঁর মুখ থেকে শোনা গেল, চট্টগ্রাম টেস্টে ‘ফ্ল্যাট’ উইকেটই ছিল। সেই উইকেটেও যথাক্রমে ১৯ ও ১৫টি টেস্ট খেলা শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং হাসান আলীরা ঠিকই আগুন ঝরালেন। বাংলাদেশের দুই পেসার আবু জায়েদ ও এবাদত হোসেনরা সেখানে একরকম নিষ্ক্রিয়ই ছিলেন।

এখানেই দুই দেশের ক্রিকেটারদের টেস্টের জন্য তৈরি হওয়ার পার্থক্যটা ধরলেন মমিনুল, ‘ফ্ল্যাট উইকেটে কিভাবে বল করতে হয়, সেটি জানাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার। বিদেশে বল করা এক রকম, দেশে আরেক রকম। (শিখতে হলে) বেশি বেশি চার দিনের ম্যাচ খেলা উচিত। পাকিস্তান বা ভারতেই বড় বড় বোলারদের দেখেন। তারা অনেক ম্যাচ খেলে, অনেক বল করে। আমাদের পেসারদেরও সুযোগ পেলে চার দিনের ম্যাচ খেলা উচিত। তাহলে ফ্ল্যাট উইকেটেও বল করাটা শিখতে পারবে। ’

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথমে মুশফিকুর রহিম আর লিটন কুমার দাসের ব্যাটিং আর পরে তাইজুল ইসলামের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচে বাংলাদেশের প্রবলভাবে ফিরে আসার গল্পও আছে। তাই ম্যাচে কখনোই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ ছিল বলেও মনে হয়নি অধিনায়কের, ‘আপনাদের মনে হতে পারে। তবে আমরা কখনোই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছি বলে মনে হয়নি আমার। দ্বিতীয় ইনিংসে যদি জুটি হতো, তাহলে হয়তো নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে আসত। ’ সেটি যে আসেনি, তাতে নিজের দায়ও দেখলেন মমিনুল। প্রথম চার ব্যাটারের একজন যে তিনি নিজেও, ‘শুরুই আসলে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৪০ রানে ৪ উইকেট নেই (আসলে ৪৯/৪)। দ্বিতীয় ইনিংসেও ও রকম (২৫/৪)। ওপরের এই অবস্থা হলে খেলায় ফেরা কঠিন। ’

তুলনায় টেস্ট দলে ঢুকে পড়া ঢের সহজ! অপ্রস্তুত নাঈমই এর টাটকা উদাহরণ! নতুন নয় অবশ্য, বাংলাদেশে এটা পুরনো ক্রিকেট সংস্কৃতিই।



সাতদিনের সেরা