kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আফ্রিদির ৫ উইকেট

তৃতীয় দিনের সকাল যদি ফিরে আসে!

পাকিস্তান জয়ের তীর দেখতে পেলেও আশা ছাড়ছেন না ডমিঙ্গো, ‘ম্যাচে এখন পাকিস্তানই এগিয়ে। আর ৯৩ রান প্রয়োজন ওদের। তাই আমাদের (জিততে হলে) বিশেষ কিছুই করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই সম্ভব। এখনো জেতার সম্ভাবনা আছে বিশ্বাস করেই আমরা কাল মাঠে নামব। প্রথম আধাঘণ্টায় একটা-দুটো উইকেট তুলে নিতে পারলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তৃতীয় দিনের সকাল যদি ফিরে আসে!

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

আরেকটি টেস্ট খেলার জন্য তাঁর অনির্দিষ্ট অপেক্ষা ফুরায়নি এই চট্টগ্রাম টেস্টেও। মাঝখানে পেরিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। একাদশে ঠাঁই না পাওয়ায় ড্রেসিংরুমে বসেই দেখছিলেন ম্যাচে বারবার রং বদলানোর ছবি। কখনো তা পাকিস্তানের চড়াও হওয়ার, কখনো বাংলাদেশের চড়ে বসারও। চতুর্থ দিনের সকালেও ব্যাটিংয়ে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিযানে নিজেকে আবিষ্কার করা নুরুল হাসানের জন্য ছিল দূরতম কল্পনা। অথচ শাহীন শাহ আফ্রিদির বাউন্সারে অভিষিক্ত ইয়াসির আলী চৌধুরীর হেলমেটে বল লাগতে না লাগতেই সেই কল্পনা হয়ে উঠতে শুরু করে প্রবল বাস্তব।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ইয়াসিরের কনকাশন বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ে নেমে পড়া নুরুলের জন্য খুলে গিয়েছিল এমন দৈবচক্রে পাওয়া সুযোগ লুফে নেওয়ার দুয়ারও। দারুণ তিনটি বাউন্ডারিতে ছিল সম্ভাব্য বড় ইনিংসের ঝলকও। আর উইকেটে যখন সঙ্গী লিটন কুমার দাসের মতো কেউ, তখন বড় জুটিতে দলকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার দাবিও ছিল। মেটাচ্ছিলেন সেই দাবিও। লিটনের সঙ্গে জুটি জমেও গিয়েছিল। নিজেদের লিড পাকিস্তানের জন্য দুঃসাধ্য করে তুলে নায়ক হওয়ার হাতছানিও কম ছিল না নুরুলের সামনে। কিন্তু হুট করেই অফস্পিনার সাজিদ খানকে ছক্কা মারার নেশায় উল্টো কাঠগড়ায়ই দাঁড়াতে হয় তাঁকে।

প্রকাশ্যে শিষ্যদের সমালোচনা করা তাঁর ধাতে নেই বলে রাসেল ডমিঙ্গো সে প্রসঙ্গে একটু রেখেঢেকেই কথা বললেন। তাতেও দলকে নুরুলের বিপদে ফেলে আসার দায় আড়াল হলো না। চতুর্থ দিনের শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের হেড কোচ বলছিলেন, ‘কখনোই আমি মিডিয়ায় ক্রিকেটারদের সমালোচনা করব না। তবে ওই সময়টা আমরা কিছুটা চড়ে বসতে শুরু করেছিলাম। ৬ উইকেট হারিয়ে তখন ১৯৬ রানে (আসলে ১৯৭) এগিয়ে ছিলাম আমরা। ওই জুটি আরো ৪০-৫০টি রান করে আসতে পারলে পাকিস্তানকেও চেপে ধরা যেত।’ নুরুলের ভুলেই নামে ধস। ৪ রানে শেষ ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

পাকিস্তানকেও টার্গেট দেওয়া যায় মাত্র ২০২ রানের। চতুর্থ দিন শেষে এর অর্ধেকের বেশি রানও করে ফেলেছেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার। তা নিয়ে হতাশার কথা অবশ্য লুকাননি দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ, ‘সোহানের কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় আবার এমন বল পেলে সে কী করবে? আমি নিশ্চিত যে একই শট সে আবার খেলবে না। আমরা ওই সময়ে ম্যাচে এগিয়েই ছিলাম। উইকেটে দুজন সেট ব্যাটারও ছিল। ওভাবে আউট হয়ে নিজেকে তো বটেই, সে হতাশ করেছে দলকেও।’

এই হতাশার মাঝেও লিটনকে নিয়ে উচ্ছ্বাস শোনা গেছে ডমিঙ্গোর কণ্ঠে। এমনকি ব্যাটিংয়ে অর্ডারে লিটনের ওপরে উঠে আসার আগাম খবরও দিলেন, ‘টেস্টে গত ১৮ মাসে লিটনের গড় ৬০-এর কাছাকাছি। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের পথ খুঁজে পেতে ওর কিছুটা সময় লেগেছে। গত এক বছরে টেস্টে ওর ব্যাটিংই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ব্যাপার। আর এক বছরের মধ্যেই সে চার কিংবা পাঁচে ব্যাটিং করবে।’ পাকিস্তান জয়ের তীর দেখতে পেলেও আশা ছাড়ছেন না ডমিঙ্গো, ‘ম্যাচে এখন পাকিস্তানই এগিয়ে। আর ৯৩ রান প্রয়োজন ওদের। তাই আমাদের (জিততে হলে) বিশেষ কিছুই করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই সম্ভব। এখনো জেতার সম্ভাবনা আছে বিশ্বাস করেই আমরা কাল মাঠে নামব। প্রথম আধাঘণ্টায় একটা-দুটো উইকেট তুলে নিতে পারলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

তৃতীয় দিনের সকালই বোধ হয় এখনো হাল ছাড়তে দিচ্ছে না বাংলাদেশকে। যেদিন বিনা উইকেটে ১৪৫ রান নিয়ে শুরু করা পাকিস্তানকে অল আউট করে লিড নিয়েছিলেন মমিনুল হকরা।



সাতদিনের সেরা