kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘টু ডাব্লিউ’কে পেছনে ফেলার অপেক্ষায়

বাংলাদেশ ইনিংসের লেজ ছেঁটে দেওয়া হাসান আলীর টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ উইকেট নিলেন এই নিয়ে ষষ্ঠবার। এর মধ্যে পাঁচবারই এই বছর। হাসান আর শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের পেস আক্রমণ চলতি বছর ছুটছে ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসকে পেছনে ফেলতেও। কিংবদন্তির ‘টু ডাব্লিউ’কে পেরিয়ে যেতেও তাঁদের খুব বেশি বাকি নেই আর।

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘টু ডাব্লিউ’কে পেছনে ফেলার অপেক্ষায়

নিয়মিত বোলারদের ব্যর্থতায় হাত ঘোরাতে হয়েছে অধিনায়ক মমিনুল হককেও। ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

আউটসুইং করাতে করাতে হুট করে দেওয়া একেকটি ইনসুইঙ্গারে একাধিক ব্যাটারকে ঘাবড়ে দিচ্ছিলেন তিনি। তাতে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালে সবার আগে রক্ষণ এলোমেলো হয়ে গেল লিটন কুমার দাসের। হাসান আলীকে উইকেট দিয়ে আসতে হলো তাঁর। একটু পর একই অবস্থা হলো ইয়াসির আলী চৌধুরীরও।

বিজ্ঞাপন

একবার নয়, বারবার। শেষে সেই হাসানেরই শিকার হতে হলো এই অভিষিক্তকেও।

ওপারের প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে পাকিস্তানি পেসারের এমন কারিকুরি গভীর মনোযোগেই দেখেছেন হাবিবুল বাশারও। তাঁর নিজ দলের বুকে সেসব কাঁটা হয়েও বিঁধেছে, তবু দুপুরে প্রেস বক্সে আড্ডা দিতে এসেও কাটেনি বাংলাদেশের নির্বাচকের সকালের সেই মুগ্ধতার রেশ, ‘‘হাসান আলী আউটসুইং আর ইনসুইং মিলিয়ে যে বোলিংটা করল, সেটিকেই ‘আর্ট অব ফাস্ট বোলিং’ বলে। অসাধারণ। ’’

পরে বাংলাদেশের দুই পেসারের সাধারণ মানের বোলিং নিয়ে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবেন না স্বাভাবিক। আবু জায়েদ রাহি ও এবাদত হোসেনের ধারহীন পেস আক্রমণকে অবলীলায় সামলে দিচ্ছিলেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার। এই সময়ে চোটে ছিটকে পড়া তাসকিন আহমেদের অনুপস্থিতি নিয়ে অবশ্য আক্ষেপ ঠিকই শোনা গেল হাবিবুলের কণ্ঠে, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ও দেখেছি, দলের রুটিনের বাইরেও জিমে গিয়ে কাজ করত তাসকিন। বাড়তি কাজ উপভোগ করার প্রভাব ওর বোলিংয়েও পড়েছে। ’

চোটে বাইরে বলে তাসকিনকে দিয়ে পাকিস্তানকে পাল্টা জবাবও দেওয়া যাচ্ছে না আপাতত। তাই হাসান আলীর বোলিংয়েই খুঁজে নিতে হচ্ছে পেস বোলিংয়ের শিল্প, যা দেখার শুরু দিনের দ্বিতীয় ওভারে এই পেসার বল হাতে নিতেই। শুরু থেকে আউটসুইং বল করছিলেন হাসান। শেষ বলটি ইনসুইং। বলের লাইনে যেতে পারেননি লিটন। পেছনের পায়ে লাগে। আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় রিভিউ নেয় পাকিস্তান। ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল লেগ স্টাম্পের ওপরের দিকেই লাগত। হাসান একই ফর্মুলা অবলম্বন করেন ইয়াসিরের ক্ষেত্রেও। এবার অবশ্য রিভিউ নষ্ট হয় সফরকারীদের। তবে শেষ পর্যন্ত ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারিতেই ইয়াসিরকে বোল্ড করা হাসানের প্রথম স্পেলটিও ঈর্ষণীয়ই : ৬-২-৭-২!

টানা দুই বলে বাংলাদেশ ইনিংসের লেজ ছেঁটে দেওয়া এ পেসার টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ উইকেট নিলেন এই নিয়ে ষষ্ঠবার। এর মধ্যে পাঁচবারই এই বছর। হাসান আর শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের পেস আক্রমণ চলতি বছর ছুটছে ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসকে পেছনে ফেলতেও। কিংবদন্তির ‘টু ডাব্লিউ’কে পেরিয়ে যেতেও তাঁদের খুব বেশি বাকি নেই আর। ১৯৯৩ সালে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই ফাস্ট বোলারের নেতৃত্বে পাকিস্তানের পেস বোলিং ইউনিট করেছিল সেরা বছর। এরপর তো একই বছরে ২১.৪৯ গড়ে ৯৯ উইকেট নিতে পারেনি আর কোনো পেস আক্রমণই। বলা বাহুল্য, এর বেশির ভাগই ছিল ওয়াসিম-ওয়াকারের শিকার।

হাসান-শাহীনদের অগ্রভাগে নিয়ে গড়া পাকিস্তানের বর্তমান পেস বোলিং ইউনিটও এখন তাঁদের ধরে ফেলার কাছাকাছিই আছে। এরই মধ্যে ২২.৮৯ গড়ে ৯৫ শিকার ঝুলিতে, হাসানের কণ্ঠেও ‘টু ডাব্লিউ’কে ছাড়িয়ে যাওয়ার আগাম উচ্ছ্বাস, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ৯৩ (আসলে ৯৫) উইকেট নিয়ে ফেলেছি। দুই কিংবদন্তির নেতৃত্বাধীন আক্রমণও নিয়েছিল ৯৩ উইকেট (আসলে ৯৯)। আমরা দলের জন্য আরো উইকেট নিতে চাই। ’ তা নেওয়ার ফলও জানেন হাসান, ‘এটা দারুণ ব্যাপার যে আমাদের ফাস্ট বোলাররা উইকেট নিচ্ছে। ওদের উইকেট নেওয়া মানেই আমাদের সিরিজ জয়। ’



সাতদিনের সেরা