kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কষ্ট ছিল, পরিশ্রম ছিল

টেস্টে দিনের শেষে অপরাজিত ব্যাটার সাধারণত সংবাদ সম্মেলনে আসেন না। তাই আগের দিন আসেননি লিটন কুমার দাসও। চট্টগ্রামে কাল দ্বিতীয় দিনের শেষে ভার্চুয়ালি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জানালেন, প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে তাঁর নিজের কষ্ট ও পরিশ্রমের ভূমিকাই বেশি। সেই প্রশ্নোত্তর পর্বে যুক্ত ছিলেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি।

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কষ্ট ছিল, পরিশ্রম ছিল

টি-টোয়েন্টিতে যে জন্য আমাকে ব্রেক দিয়েছিল, সেটিই হয়তো এই ফল বের করে এনেছে। হয়তো তারা (নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট) ভেবেছিল টি-টোয়েন্টিতে ব্রেক দিলেই আমি টেস্টে ভালো করব।

প্রশ্ন : প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানে কতটা খুশি?

লিটন কুমার দাস : অনুভূতি তো ভালোই। কোনো ব্যাটার যদি সেঞ্চুরি করে, এর চেয়ে বড় কিছু থাকে না পাওয়ার।

বিজ্ঞাপন

জিম্বাবুয়ের ম্যাচেও (গত জুলাইয়ে) কাছাকাছি গিয়েছিলাম; কিন্তু হয়নি। এবার হলো, তবে আরেকটু বড় করতে পারলে দলের জন্য ভালো হতো।

প্রশ্ন : টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়ার পর টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন?

লিটন : টি-টোয়েন্টিতে যে জন্য আমাকে ব্রেক দিয়েছিল, সেটিই হয়তো এই ফল বের করে এনেছে। হয়তো তারা (নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট) ভেবেছিল টি-টোয়েন্টিতে ব্রেক দিলেই আমি টেস্টে ভালো করব।

প্রশ্ন : এখন থেকে টেস্টেও নিশ্চয়ই ধারাবাহিক হতে চাইবেন?

লিটন : কঠিন প্রশ্ন। সবাই চেষ্টা করে ধারাবাহিক হওয়ার। আমি কতটুকু দিতে পারব বা ফল কেমন হবে জানি না। কিন্তু আমি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাব। গত ছয়-সাত টেস্ট ধরেই করে আসছি। ১০০ করেছি দেখে পরের দিন নামলেই যে আবার ১০০ হবে, তেমনটা না। টেস্ট ক্রিকেট অনেক কঠিন। এখানে শূন্য থেকেই শুরু করতে হয়।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপের পর টেস্টের জন্য মানসিক প্রস্তুতি কেমন ছিল?

লিটন : টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যেটুকু প্রস্তুতি দরকার, সেটুকুই নিয়েছি। এর বাইরে কোনো কিছু চিন্তাও করিনি, নিজের কাছে অতিরিক্ত কিছু চাইওনি।

প্রশ্ন : আপনার সেঞ্চুরির পর তো মুশফিকুর রহিমকেই বেশি উত্ফুল্ল মনে হচ্ছিল।

লিটন : ভাইয়ার সঙ্গে ছোট ছোট অনেক জুটিই তো হয়েছে। এবার অবশ্য অনেক বড় ছিল। অন্য পাশ থেকে ওনার মতো কেউ যখন অনুপ্রাণিত করেন, তখন অনেক ভালো লাগে। তা ছাড়া এবার আমরা দুজনই কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলাম। দুজনই সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। আর আমার যেহেতু ক্রাম্প করছিল, উনি বারবারই এসে যথাসাধ্য টিকে থাকার চেষ্টা করতে বলে যাচ্ছিলেন।

প্রশ্ন : ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স আপনার স্টান্সে কিছুটা বদল আনার কথাও বলছিলেন আগের দিন।

লিটন : ব্যাটিংয়ের জিনিসগুলো আসলে ছোট ছোট। অনেক সময় ছোট্ট একটা বদল আনলেই অনেক কিছু হয়ে যায়। গ্রিপ বদলালেও খেলার ধরন পাল্টে যায়। বিকেএসপিতে জাতীয় লিগের ম্যাচ খেলতে গিয়ে আমার সমস্যা নিয়ে ফাহিম স্যার ও মন্টু স্যারের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। সেখান থেকে চট্টগ্রামে আসার পর তাঁর (প্রিন্স) কাছেও মনে হচ্ছিল, আমার ছোট্ট একটা জায়গাতে সমস্যা হচ্ছে। যে কারণে তিনি আমার স্টান্স একটু বদলে দেন। তাই বলে আমি বলব না যে স্টান্স বদলানোর কারণেই ভালো খেলেছি। কারণ আমারও কষ্ট ছিল, পরিশ্রম ছিল।

প্রশ্ন : এই ম্যাচে ফলের কথা ভাবছেন?

লিটন : এখনো চিন্তা করছি না। এখন পর্যন্ত খেলা দুই পক্ষের দিকেই আছে। আমি ও মুশফিক ভাই আরেকটু ভালো ব্যাটিং করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। ভিন্ন হতো কিছু উইকেট তুলে নিতে পারলেও। তবে এই উইকেটে দ্রুত রান তোলা কঠিন। ওই দিক থেকে ধরলে খেলা দুই পক্ষেই আছে।

 



সাতদিনের সেরা