kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

হাহাকার ভুলে সামনে চোখ মমিনুলের

যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের ছাড়াই সামনে তাকাচ্ছেন মমিনুল, ‘এটি চলমান প্রক্রিয়া। কাউকে পাব, কাউকে পাব না। এটি নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। যারা আছে, তাদের নিয়েই এগোতে হবে।’ যদিও মানছেন যে এগিয়ে যাওয়ার পথটি অমসৃণই হবে, ‘তামিম ভাই ভালো শুরু দিলে ব্যাটিং ভালো হয়। সাকিব ভাই একের ভেতর দুই। খুব ভালো বোলিং করতে থাকা তাসকিন নেই। এদিকে আবার রিয়াদ ভাইও নেই। চারজন খেলোয়াড় নেই। সমস্যা তো অবশ্যই।’

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাহাকার ভুলে সামনে চোখ মমিনুলের

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

অধিনায়কদের বোধ হয় এমনই হতে হয়, অন্ধকারেও আশার আলো দেখতে পান। লিটন কুমার দাসের ক্ষেত্রে মমিনুল হক দেখলেন তা-ই। সে জন্যই কিনা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাটিংয়ে-ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থ লিটন প্রসঙ্গ উঠতেই বিরক্ত বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক, ‘আপনারা যদি বারবার টেস্টের বেলায় টি-টোয়েন্টি নিয়ে আসেন, তাহলে ব্যাপারটি আমার জন্য কঠিন হয়ে যায়।’

সাদা বলের ক্রিকেটে লিটন অধিনায়কের জন্য গত কিছুদিন যতই দুর্বোধ্য সমস্যা হয়ে থাকুন না কেন, টেস্টের দুনিয়ায় এসে মমিনুলকে যেন সহজসাধ্য সমাধানের নিশ্চয়তাই দিচ্ছেন এক রকম, ‘ও এত দিনে নিজে নিজেই জিনিসটা (বিশ্বকাপ ব্যর্থতা) পেছনে ফেলতে পেরেছে বলে মনে হয় আমার। তা ছাড়া গত এক বছরে টেস্টে ওর গড় দেখুন। প্রায় ৪৫-৫০। এই জায়গায় তাই টি-টোয়েন্টির কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।’

বাড়িয়ে বলেননি অধিনায়ক। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের খেলা ৭ টেস্টের সবগুলোতেই ছিলেন লিটন। ছিলেন পারফরম করেই। কোনো সেঞ্চুরি নেই যদিও, তবু ওই ৭ টেস্টে ৫টি ফিফটিসহ ৪৪.০৯ গড়ে রান করেছেন ৪৮৫। টেস্টে উইকেটকিপিং করার পাশাপাশি ৭ নম্বরে ব্যাটিং করে আসা ফর্মে থাকা এই ব্যাটারকে পরিবর্তিত বাস্তবতায় এখন আরো বেশি আঁকড়ে ধরার চেষ্টাও আছে অধিনায়কের।

আরেকটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ঢুকে পড়ার লগ্নে যখন অধিনায়ক ব্যাটিং গভীরতার দিক থেকে সহায়-সম্বলহীন অনেকটাই, তখন লিটনের ব্যাটে ধারাবাহিকতার আকুতি বাড়বে স্বাভাবিক। অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ব্যাটিং লাইনকে হঠাৎ করেই যে ঝুঁকে পড়তে হয়েছে তারুণ্যনির্ভরতায়। গত জুলাইয়ের হারারে টেস্টের তৃতীয় দিনের বিকেল থেকেই মমিনুল জানতেন যে অবসর নেওয়া মাহমুদ উল্লাহকে পরবর্তী ম্যাচ থেকে আর পাওয়া যাবে না। বিশ্বকাপ থেকে বয়ে বেড়ানো হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে এই টেস্ট থেকে ছিটকে পড়া সাকিব আল হাসান সামনের নিউজিল্যান্ড সফর থেকেও ছুটি নিয়ে রেখেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও এই অলরাউন্ডারকে পাওয়া নিশ্চিত নয়। আর এই সিরিজই শুধু নয়, হাতের আঙুলের চোট নিউজিল্যান্ড সফরেও যেতে দিচ্ছে না তামিম ইকবালকে। টেস্টের দ্বিতীয় বিশ্ব আসরের শুরুতে মমিনুলের তাই শুধু ‘নেই আর নেই’-এর হাহাকারই। ব্যাটিং শক্তির অনেকটাই হারিয়ে বসার পর রান করবে কে তাহলে?

সীমিত শক্তি নিয়ে টেস্ট অধিনায়ককে তাই বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে। মুশফিকুর রহিম আর তাঁকে বাদ দিলে তরুণ দলের নির্ভরতা হিসেবে বেছে নিতে হচ্ছে লিটনকেও। একঝাঁক সিনিয়র ক্রিকেটারকে হারানোর হতাশা না লুকানো মমিনুল আবার বাস্তববাদী, ‘সিনিয়ররা না থাকলে অধিনায়কের জন্য সেটি চ্যালেঞ্জেরই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির চিত্র আলাদা। কিন্তু টেস্টে সব সময় সিনিয়রদের প্রয়োজন হয়। তরুণ অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য অবশ্যই হতাশার। তবে এটি নিয়ে পড়ে থাকলে তো হবে না। জুনিয়রদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। ওদের জন্য এটি নতুন সুযোগ। নিজেকে প্রমাণ করার, নিজেকে দেখানোরও।’

যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের ছাড়াই সামনে তাকাচ্ছেন মমিনুল, ‘এটি চলমান প্রক্রিয়া। কাউকে পাব, কাউকে পাব না। এটি নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। যারা আছে, তাদের নিয়েই এগোতে হবে।’ যদিও মানছেন যে এগিয়ে যাওয়ার পথটি অমসৃণই হবে, ‘তামিম ভাই ভালো শুরু দিলে ব্যাটিং ভালো হয়। সাকিব ভাই একের ভেতর দুই। খুব ভালো বোলিং করতে থাকা তাসকিন নেই। এদিকে আবার রিয়াদ ভাইও নেই। চারজন খেলোয়াড় নেই। সমস্যা তো অবশ্যই।’ সমস্যা সমাধানে দুজনের দায়িত্ব অনেক গুণ বেড়ে যাওয়ার ঘোষণাও থাকল মমিনুলের কথায়, ‘আমাকে আর মুশফিক ভাইকে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।’

সেটি না হয় তাঁরা দুজন খেললেন, কিন্তু অন্যদেরও তো যোগ্য সংগত দিতে হবে। অন্যরা তা কতটা দিতে পারছেন, সেটি দেখার অপেক্ষাও আছে টেস্ট অধিনায়কের। সাকিব-তামিম-মাহমুদরা না থাকায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসরে নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখাও যেন পিছিয়েই দিচ্ছেন তিনি, ‘যে জায়গায় এখন আছি (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রে সবার শেষে ছিল বাংলাদেশ), তার চেয়ে দু-তিন ধাপ ওপরে উঠতে পারলেই আমি খুশি। তবে টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, সেটি হয়তো এই সিরিজ বা পরবর্তী সিরিজ দিয়েই বুঝতে পারবেন।’

এর আগে আপাতত একাধিক সিনিয়রকে ছাড়া খেলতে নামার হাহাকার ভুলে সামনে এগোনোর চিন্তা আছে মমিনুলের। যে চিন্তায় সাদা বলে ব্যর্থ লিটনও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ!



সাতদিনের সেরা